Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

অভিবাসন কমার পর কীভাবে ভোটার টানবে সুইডেনের ডেমোক্র্যাটরা?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৭: ১৩
অভিবাসন কমার পর কীভাবে ভোটার টানবে সুইডেনের ডেমোক্র্যাটরা?
sweden

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের কেন্দ্রস্থলের কাছেই শান্ত ও মনোরম একটি দ্বীপ স্টোরা এসিঙ্গেন। সবুজ গাছপালা আর সুন্দর বাড়িঘরে ঘেরা এই এলাকায় বহু বছর ধরে মানুষ মূলধারার রক্ষণশীল দল মডারেট পার্টিকে ভোট দিয়ে আসছিল।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে ২০২২ সালে মডারেট পার্টি কট্টর ডানপন্থী ও অভিবাসীবিরোধী দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটস (এসডি)-এর সঙ্গে সরকার গঠনের চুক্তি করার পর দৃশ্যপট বদলে যায়। একসময় মূলধারার রাজনীতি থেকে দূরে রাখা দলটির সঙ্গে হাত মেলানোয় চরম অসন্তুষ্ট হন স্থানীয় ভোটারদের একাংশ।

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অসন্তুষ্ট ভোটারদের অনেকেই এখন মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস-এর দিকে ঝুঁকছেন। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বরের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাদের মূল লক্ষ্য, পরবর্তী সরকারে যেন এসডি আর জায়গা না পায়।

স্টোরা এসিঙ্গেনের বাসিন্দাদের মতে, সুইডেন একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও বিশ্বমুখী রাষ্ট্র। তাই আসন্ন নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে, দেশটিতে উদার রাজনৈতিক চর্চা বজায় থাকবে, নাকি অভিবাসীবিরোধী কট্টরপন্থী রাজনীতি নতুন করে গতি পাবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এসডির দাবি, তারা দলের চরমপন্থী সদস্যদের হয় শোধরাতে বাধ্য করেছে, নয়তো দল থেকে বের করে দিয়েছে। নিজেদের কট্টর রূপ ঢাকতে একসময় যে জ্বলন্ত মশাল তাদের প্রতীক ছিল, তার জায়গায় এখন স্থান পেয়েছে নীল-হলুদ রঙের ফুল।

দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২২ সালের নির্বাচনে ব্যাপক অভিবাসনের কারণে তৈরি হওয়া জনক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বড় জয় পেয়েছিল এসডি। ফলে তারা পার্লামেন্টে ডানপন্থীদের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং উলফ ক্রিস্টারসনের নেতৃত্বাধীন সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দেয়। তখন নীতিনির্ধারণে প্রভাব রাখলেও তারা মন্ত্রিসভায় কোনো পদ পায়নি।

তবে প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, তার জোট পুনরায় ক্ষমতায় এলে এবার সুইডেন ডেমোক্র্যাটসকেও মন্ত্রিসভায় রাখা হবে। তাই এবারের নির্বাচনই প্রমাণ করবে, অভিবাসন সমস্যা কমে যাওয়ার পরও এসডি তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারে কি না।

কঠোর নীতির ফলে সুইডেনে অভিবাসীদের আগমন ব্যাপক হারে কমেছে। ২০১৬ সালে যেখানে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার, গত বছর তা নেমে এসেছে মাত্র ১২ হাজারে।২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপীয় শরণার্থী সংকটের সময় ক্ষমতায় ছিল সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস। পরিস্থিতি সামলাতে তখনই আশ্রয়ের নিয়ম কড়াকড়ি করা হয়।

ইউক্রেনে রাজপথে কেন বিক্ষোভকারীরা?Participants hold signs and shout slogans during a rally to protest–Reuters

সুইডিশ রিফিউজি ল সেন্টারের কর্মকর্তা লুইস ডেন জানান, শুরুতে নীতিগুলোর উদ্দেশ্য ছিল সুইডেনকে অভিবাসীদের কাছে কম আকর্ষণীয় করে তোলা, যাতে আগমন কমে। তবে এখন উলফ ক্রিস্টারসনের সরকারের লক্ষ্য কিছুটা ভিন্ন। বর্তমানে তাদের মূল নজর—ইতিমধ্যে সুইডেনে বসবাসকারী কিন্তু ঠিকমতো সমাজের সাথে খাপ খাওয়াতে পারেননি বা কর্মহীন অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।

সরকারের দাবি, ইরাক ও সোমালিয়ার মতো দেশগুলো থেকে নতুন অভিবাসী আসার চেয়ে এখন বহু মানুষ সেসব দেশে ফিরে যাচ্ছেন। নিজ দেশে পুনর্বাসন (রিপ্যাট্রিয়েশন) নিশ্চিত করাই এখন এসডির অন্যতম রাজনৈতিক কৌশল। দলটির অভিবাসনবিষয়ক মুখপাত্র লুডভিগ আসপলিং সরাসরিই বলেন, ‘‘আমরা চাই অকার্যকর অভিবাসীরা সুইডেন ছেড়ে চলে যাক। দেশের অর্থনীতি বা সমাজে অবদান না রাখলে তাদের থাকার কোনো ভিত্তি নেই।’’

সুইডেন ডেমোক্র্যাট পার্টি নেতা জিমি একেসন। ছবি: রয়টার্স
সুইডেন ডেমোক্র্যাট পার্টি নেতা জিমি একেসন। ছবি: রয়টার্স

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার শর্তে শরণার্থীদের সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৫০ হাজার সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ৩৬ হাজার মার্কিন ডলার) পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এটি যুক্তরাজ্যের একই ধরনের সহায়তার চেয়ে প্রায় নয় গুণ বেশি। তবে বছরে মাত্র ৬০০ জন ব্যক্তি এই সুবিধা নিতে পারেন।

এসডি চায়, অভিবাসীদের সামাজিক ভাতা আরও কমিয়ে দেওয়া হোক, যাতে তারা বাধ্য হয়ে এই সুবিধায় নিজ দেশে ফিরে যায়। এমনকি যারা ইতোমধ্যে সুইডেনের নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদেরও যেন এই সুযোগে ফেরত পাঠানো যায়—এমন প্রস্তাবও রয়েছে দলটির।

পাশাপাশি, অভিবাসী ফেরত পাঠাতে সরকার বেশ কিছু কঠোর আইনি পদক্ষেপে হেঁটেছে। সম্প্রতি পাস হওয়া ‘ভালো আচরণ’ আইনের আওতায় বকেয়া ঋণ পরিশোধ না করার মতো সাধারণ কারণেও বহিষ্কারের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও, পরিবার পুনর্মিলনের নিয়ম কঠিন করা হয়েছে এবং নতুন শরণার্থীদের জন্য স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

এমনকি এসডির চূড়ান্ত দাবি—পূর্বে দেওয়া স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল করে সেগুলোকে অস্থায়ী করা হোক। যদিও অনেক ভোটার এসব কড়া নীতি পছন্দ করছেন, তবুও এসডির জনপ্রিয়তার গ্রাফ ২০ শতাংশের আসপাশেই স্থির হয়ে আছে। এর মূল কারণ, অভিবাসন এখন আর সুইডিশ ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় নয়।

গথেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের 'এসওএম ইনস্টিটিউট'-এর জরিপ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে যেখানে ৫৪ শতাংশ নাগরিক অভিবাসনকে দেশের প্রধান সমস্যা ভাবতেন, গত বছর তা কমে মাত্র ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে। এই পরিবর্তন ‘সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস’-কে সুবিধা দিতে পারে, যদিও অভিবাসন ইস্যুতে তারাও কঠোর এমন বিশ্বাস তৈরিতে তারা বেগ পাচ্ছে। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোটের মধ্যেও তৈরি হয়েছে অস্বস্তি।

সম্প্রতি জনরোষের মুখে সরকার একটি নিয়ম শিথিল করতে বাধ্য হয়, যার কারণে সুইডেনে বেড়ে ওঠা কিছু কিশোরকে দেশ ছাড়তে হচ্ছিল। তাছাড়া, ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলো সতর্ক করে বলছে, এমন কড়াকড়ির কারণে দেশে বিদেশি দক্ষ কর্মীর আকাল তৈরি হচ্ছে। ক্রিস্টারসনের জোটে থাকা লিবারেল পার্টিও এসডির 'স্থায়ী বাসস্থান বাতিলের' ক্ষমতার প্রস্তাবের ঘোর বিরোধিতা করছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত, যখন সংকট বড় ছিল, তখন এসডির চরমপন্থী অনেক মন্তব্য সাধারণ ভোটাররা এড়িয়ে গেছেন। কিন্তু বর্তমান শান্ত পরিস্থিতিতে তা ঢাকা কঠিন। যেমন, গত ৫ জুলাই এসডির জ্যেষ্ঠ নেতা রিচার্ড জোমসহফ মন্তব্য করেন, ‘‘ইসলামকে ঘৃণা করা যেমন অস্বাভাবিক নয়, জাতীয় সমাজতন্ত্রকে (নাৎসিবাদ) ঘৃণা করাও তেমনই স্বাভাবিক।’’ এ ধরনের বক্তব্য উগ্রবাদ উসকে দেয় বলে সমালোচনা হলেও এসডি তা অস্বীকার করেছে।

ইউরোপজুড়ে কট্টর ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এখন একই চ্যালেঞ্জের মুখে—অভিবাসন সংকট সামলে যাওয়ার পর তারা কীভাবে নিজেদের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখবে? সুইডেনের এই নির্বাচন থেকে তাই পুরো বিশ্বই হয়তো উত্তর খুঁজবে, নতুন অভিবাসী ঠেকানোর পুরোনো রাজনীতি যেখানে ব্যর্থ, সেখানে ‘বসবাসকারীদের ফেরত পাঠানোর’ নতুন রাজনৈতিক কৌশল এসডি-কে আদৌ নির্বাচনে টেনে তুলতে পারে কি না।

বিষয়: প্রধানমন্ত্রীবিশ্ববিদ্যালয়ঋণঅভিবাসীবিদেশকর্মীভোটারসুইডেনইউরোপব্যবসায়ী
সর্বশেষ
  • ১

    খুমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

  • ২

    দাড়ি নিয়ে যুবদল নেতা নয়নের স্লোগান, নিন্দা জানিয়ে ক্ষমা চাইতে বলল জামায়াত

  • ৩

    বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কেন?

  • ৪

    পারমাণবিক কর্মসূচিতে কোনো ছাড় দেবে না ইরান

  • ৫

    বরিশালে প্রাথমিকে নিয়োগপত্র পাননি ৭২ প্রার্থী, কারণ জানেন না কেউ

সম্পর্কিত
  • কী ছিল ইরানের হরমুজ খুলে দেওয়ার ৭ দিনের পরিকল্পনায়?

    কী ছিল ইরানের হরমুজ খুলে দেওয়ার ৭ দিনের পরিকল্পনায়?

    জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান-যুদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সাত দিনের মধ্যে আবারও খুলে দিতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে।

  • ইরান যুদ্ধের বোঝা কেন বইছেন ঢাকার আসমারা?

    ইরান যুদ্ধের বোঝা কেন বইছেন ঢাকার আসমারা?

    গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরানও। শুরু হয় যুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই যুদ্ধের প্রভাব উপসাগরীয় দেশ ছাড়িয়ে এশিয়ার বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে। বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়, যার সবচেয়ে বড় চাপ সামলাতে হচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষকে।

  • নির্বাচনের আগেই ট্রাম্পকে নতুন প্রস্তাব ইরানের, কী আছে তাতে?

    নির্বাচনের আগেই ট্রাম্পকে নতুন প্রস্তাব ইরানের, কী আছে তাতে?

    পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি জানিয়েছেন যে তাদের প্রস্তাবিত এই নতুন খসড়াটি নতুন কোনো শর্ত আরোপ না করে মূলত গত জুনের সমঝোতা স্মারকের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা মার্কিন তরফ থেকে আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

  • ইউনিভার্সাল কার্ড কী, কবে দেবে?

    ইউনিভার্সাল কার্ড কী, কবে দেবে?

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছেন। এটি বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে এক ছাতার নিচে আনার একটি বড় উদ্যোগ। এটি কোনো নতুন আলাদা সুবিধার কার্ড নয়। বরং সরকারের বিভিন্ন খাতে চালু থাকা একাধিক সামাজি