যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব মেনে নিলেও পারমাণবিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে তেহরান কোনো নমনীয়তা দেখাবে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে গতকাল শুক্রবার রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘সব শর্ত পূরণ’ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে।
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়াসহ কয়েকটি পদক্ষেপের বিনিময়ে প্রণালিটি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টায় হরমুজ প্রণালি এখন প্রধান দর-কষাকষির হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। ইরান তার অর্থনীতিকে চাপে ফেলা যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ থেকে স্বস্তি চায়। অন্যদিকে তেহরানের বন্ধ করে দেওয়া বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে চায় ওয়াশিংটন।
তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্তগুলো পূরণ করার পরই পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত।
তবে ওই ইরানি কর্মকর্তা বলেন, নিজেদের অধিকার নিয়ে ইরান কোনো ছাড় দেবে না। এর মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর বিষয়ও রয়েছে—যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবি।
ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য পশ্চিমা দেশ দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। তারা এর প্রমাণ হিসেবে ইরানের ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করার বিষয়টি তুলে ধরে। বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় এই মাত্রা অনেক বেশি এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় ৯০ শতাংশ সমৃদ্ধকরণের কাছাকাছি। তবে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর সময় দেশটির কাছে ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল। এর কতটা এখনো অবশিষ্ট আছে, তা স্পষ্ট নয়।
ইরানি কর্মকর্তারা বলেছেন, দেশটি সর্বোচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আরও কম মাত্রায় সমৃদ্ধ করার বিষয়ে সম্মত হতে পারে।