মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে গতকাল শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল (ডব্লিউএসজে) জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি তার সহযোগীদের বলেছেন যে, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি এই ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিতে পুনরায় বোমা হামলা শুরুর প্রত্যাশা করছেন।
সংবাদপত্রটির তথ্যমতে, ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরান একটি চুক্তির চেষ্টা করবে বলে প্রকাশ্যে ভবিষ্যদ্বাণী করলেও, তেহরান তার শর্ত মেনে নেবে কি না—তা নিয়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান। তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, আগামী সপ্তাহগুলোতে তার অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেও তা প্রভাবিত হতে পারে।
শত্রুতা বন্ধ, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে তেহরান সাত দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ প্রস্তাব করার পর এই প্রতিবেদনটি সামনে এল। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং ইরানের অবরুদ্ধ কিছু সম্পদ বা অর্থ ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল।
ডব্লিউএসজে-র তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং প্রশাসন ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের জানিয়ে দিয়েছে যে, সামুদ্রিক অবরোধ তুলে নেওয়ার কোনো ইচ্ছা তার নেই। তা সত্ত্বেও একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প বড় ধরনের সামরিক অভিযানে ফিরে আসার বিষয়ে অনাগ্রহী। এর একটি কারণ হলো, তার প্রশাসন অন্যান্য সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম মজুদ রাখতে চায়। নতুন কোনো হামলার পরিকল্পনা করা হলে তার ব্যাপ্তি বা ধরণ কী হবে, তা এখনো অস্পষ্ট।
প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই সংঘাতের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনো বড় ধরনের সংঘাত বা উত্তেজনা বৃদ্ধির হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো কূটনৈতিক আলোচনার আগ্রহ দেখিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা অ্যাক্সিওস-কে জানিয়েছেন যে, বড় ধরনের সামরিক অভিযানে ফিরে আসার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ট্রাম্প বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটিকে ‘ধ্বংস’ করা হবে কি না—সে বিষয়ে তাকে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নিতে হবে। ইরান বিষয়ক তার সিদ্ধান্তগুলো যে নির্বাচনের দ্বারা প্রভাবিত—এমন ধারণা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘ঠিক পরপরই’ তেহরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে।
চুক্তি সম্পাদনে ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করছে—ট্রাম্পের এমন দাবি তেহরান অস্বীকার করেছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এ সপ্তাহে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যখনই সত্যিকার অর্থে শান্তির জন্য প্রস্তুত হবে, তখনই তারা চান দেশটি যেন জুনের যুদ্ধবিরতি কাঠামোয় ফিরে আসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগাচি বলেছেন, নির্বাচনের আগেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো ভালো হবে।