প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর বরিশাল জেলায় নিয়োগপত্র পাননি ৭২ জন প্রার্থী। এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানিয়ে নিয়োগের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন নিয়োগবঞ্চিতরা।
আজ শনিবার বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানান তারা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, বরিশাল জেলার প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫ এর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ৩৭১ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করে। তবে এর মধ্যে ৭২ জন প্রার্থী এখন পর্যন্ত নিয়োগপত্র পাননি।
নিয়োগবঞ্চিতদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তারা নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তবে তাদের নিয়োগ না দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানানো হয়নি।
স্মারকলিপিতে নিয়োগ না দেওয়ার বিষয়ে কোনো লিখিত আদেশ, প্রতিবেদন বা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত থাকলে তার অনুলিপি দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোনো কাগজপত্র বা প্রশাসনিক কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থাকলে তা সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়ারও আবেদন করা হয়। পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ার কোন কাগজপত্র বা প্রশাসনিক কার্যক্রম অসম্পূর্ণ থাকলে তা সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়ারও আবেদন করা হয়।
বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. জাহিদ হাসান বলেন, “আমার বয়স শেষ পর্যায়ে। পরবর্তীতে আর সুযোগ পাব কি না, জানি না। আমি মেট্রোরেলে চাকরি করতাম। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করব এই আশায় সেই চাকরিও ছেড়ে দিয়েছি। চাকরি ছাড়ার পর দীর্ঘ আট মাস বেকার সময় পার করছি। এখন আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কী করব, বুঝতে পারছি না।”
নিয়োগবঞ্চিত এই প্রার্থীর দাবি, বাদ পড়া সবাইকে একযোগে নিয়োগ দিয়ে তাদের কর্মস্থলে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হোক।
এ বিষয়ে জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের মোবাইল ফোনে একাধিক বার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা সরোয়ার হোসেন চরচাকে বলেন, “ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে যাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের বাদ দিয়েই চূড়ান্ত তালিকা আমাদের কাছে এসেছে।”
তবে তাদের কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে কিছু বলা যাবে না।”