Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ
নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান

ভেনেজুয়েলা: তেলের পর নজর এখন সোনায়

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ২২
ভেনেজুয়েলা: তেলের পর নজর এখন সোনায়
ভেনেজুয়েলার সোনার খনিতে কাজ করছেন শ্রমিকরা। ছবি: রয়টার্স

ভেনেজুয়েলার সোনা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তৎপরতা নিছক একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং কৌশলগত খনিজসম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর পরিকল্পনা। আজ সোমবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে আনাতোলি কুরমানায়েভ, টাইলার পেজার ও রেবেকা আর. রুইজ দেখিয়েছেন, নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেলের পাশাপাশি দেশটির সোনার মজুতের দিকেও দ্রুত নজর দিয়েছে। অথচ যে সোনাশিল্পকে যুক্তরাষ্ট্র একসময় অপরাধ, দুর্নীতি ও পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছিল, এখন সেই শিল্পেই মার্কিন প্রশাসনের মধ্যস্থতায় নতুন ব্যবসায়ীক কাঠামো গড়ে উঠছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই পরিবর্তনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিগত অবস্থানের পালাবদল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প একসময় ভেনেজুয়েলার সোনা নিষিদ্ধ করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, এই সোনা পরিবেশ ধ্বংস করে, মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং গ্যাং ও দুর্নীতিগ্রস্ত সামরিক কর্মকর্তাদের অর্থ জোগায়। কিন্তু মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পর সেই অবস্থান বদলে যায়। মার্চের শুরুতে হোয়াইট হাউসে ভেনেজুয়েলার ১০টি সোনার বার প্রদর্শনের ঘটনা এই পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে ওঠে। একই দিনে প্রশাসন এমন একটি নীতি অনুমোদন করে, যার ফলে ভেনেজুয়েলার সহিংস ও দুর্নীতিপ্রবণ খনি অঞ্চল থেকে সোনা আমদানির পথ খুলে যায়। প্রথম চালানের উৎস ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত মিনেরভেন- যে প্রতিষ্ঠানকে তখনো যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তালিকাভুক্ত রেখেছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, ভেনেজুয়েলার সোনার বাণিজ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে লাভবান করবে, খনি অঞ্চলকে উন্নত করবে এবং অপরাধী ও দুর্নীতিগ্রস্তদের অর্থের উৎস কমিয়ে দেবে। কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান এই যুক্তির সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দাঁড় করিয়েছে: যে অপরাধী কাঠামো ভেঙে দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, নতুন সরবরাহ ব্যবস্থা কি শেষ পর্যন্ত সেই কাঠামোর সঙ্গেই যুক্ত হয়ে পড়ছে? কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভেনেজুয়েলা থেকে সোনা বের হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য শুরু হয়ে যায়। কিছু সোনার সঙ্গে এমন খনি শ্রমিকদের সম্পর্ক রয়েছে, যারা স্থানীয় গ্যাংকে সুরক্ষার জন্য অর্থ দিতে বাধ্য হন। ফলে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোও নতুন বাণিজ্যিক ব্যবস্থার মাধ্যমে লাভবান হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার তেল- ট্রাম্পের কথায় আস্থা পাচ্ছে না তেল কোম্পানিগুলোtrump 11

এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ট্রাফিগুরা। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী রিচার্ড হলটুম ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে ভেনেজুয়েলার প্রথম সোনার চালান উদযাপন করেন। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, মাদুরো গ্রেপ্তারের কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাফিগুরা হোয়াইট হাউসের কাছে ভেনেজুয়েলার সোনা নিয়ে প্রস্তাব দেয়। তাদের যুক্তি ছিল, সোনা শুধু বাণিজ্যিক সম্পদ নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও আইনহীন শিল্পকে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও তার ব্যবসায়ীক অংশীদারদের নিয়ন্ত্রণে আনলে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব হবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

তবে ঝুঁকির বিষয়টি ট্রাফিগুরার অজানা ছিল না। প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মী ভেনেজুয়েলার সোনার উৎস শনাক্ত করা এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী তার বৈধতা নিশ্চিত করা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন। তারপরও দ্রুত চুক্তি করার জন্য প্রশাসনের চাপ ছিল। কিছু কর্মকর্তা মনে করেছিলেন, দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন রাখার চেয়ে সরাসরি বিনিয়োগ করলেই খাতটিকে পরিবর্তন করা সম্ভব। অর্থাৎ এখানে নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা ছিল-আগে বিনিয়োগ ও ব্যবসা, পরে সংস্কার।

এই প্রক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন মন্ত্রী ডগ বার্গাম কারাকাস সফর করে সোনার চুক্তিকে অগ্রাধিকার দেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার সোনার আয় মার্কিন ট্রেজারি নিয়ন্ত্রিত একটি হিসাবে জমা হওয়ার কথা ছিল। রদ্রিগেজ এতে উদ্বিগ্ন ছিলেন। কারণ খনি অঞ্চলে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রভাব ছিল এবং কোনো সমস্যা হলে রাজনৈতিক দায় তার ওপর পড়তে পারত। তবু ওয়াশিংটনের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তার দর-কষাকষির ক্ষমতা ছিল সীমিত। শেষ পর্যন্ত ট্রাফিগুরাকে মিনেরভেনের সঙ্গে অংশীদারত্বের অনুমতি দেওয়া হয়। ৫ মার্চ চুক্তি স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রথম সোনা যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়।

কিন্তু দ্রুততার মধ্যেই দেখা দেয় বড় সমস্যা। ট্রাফিগুরা ও মিনেরভেন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তারা কেবল সামরিক পাহারায় থাকা দুটি খনি থেকে সোনা নেবে। উদ্দেশ্য ছিল গ্যাং ও দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা থেকে দূরে রাখা। বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান অনুযায়ী, সোনা কেনার পরও ট্রাফিগুরা কিংবা স্বাধীন নিরীক্ষকরা খনিগুলো পরিদর্শন করেননি। পরে নিরীক্ষক ও ঝুঁকি পরামর্শক নিয়োগ করা হয়। অর্থাৎ সরবরাহ ব্যবস্থার যথাযথ যাচাই শুরু হয় সোনা কেনার পর।

এখানেই সামনে আসে দক্ষিণ ভেনেজুয়েলার এল ক্যালাও এলাকার বাস্তবতা। রাষ্ট্রায়ত্ত খনির পাশাপাশি সেখানে শত শত অনানুষ্ঠানিক খনি রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিকরা খনি মালিক, ব্রিগেড নেতা ও মিনেরভেনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারেন, এসব খনির অনেককেই স্থানীয় গ্যাংকে সুরক্ষার জন্য অর্থ দিতে হয়। এক ব্রিগেড নেতা জানান, তাদের উৎপাদিত সোনার ২০ শতাংশ পর্যন্ত গ্যাংকে দিতে হয়। স্থানীয় অর্থনীতিতে এই ব্যবস্থা এতটাই প্রতিষ্ঠিত যে একে ‘সিস্টেম’ বলা হয়।

ট্রাম্পের ভেনেজুয়েলা তেল চুক্তি একটি অবাস্তব ও ত্রুটিপূর্ণ উদ্যোগvenezuela-oil

এর ফলে নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থার একটি মৌলিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কোনো সোনা যদি নিরাপদ শিল্প খনি থেকে আসে, কিন্তু তার সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক খনি থেকে আসা সোনা মিশে যায়, তাহলে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার উৎস আলাদা করা কঠিন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাংকে দেওয়া সোনার পাশাপাশি মিনেরভেনে যাওয়া সোনাও পরে ট্রাফিগুরাকে বিক্রি করা সোনার সঙ্গে মিশে যেতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা সোনার একটি অংশের সঙ্গে অপরাধের সম্পর্ক থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সমস্যা আরও জটিল হয়েছে মিনেরভেন-এর ভেতরে সামরিক প্রভাবের কারণে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার সামরিক কর্মকর্তারা এখনো প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন। অথচ ট্রাম্প প্রশাসনের আগের অভিযোগ ছিল, দেশটির সামরিক বাহিনী সোনা-সংক্রান্ত দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। মিনেরভেনের কয়েকজন কর্মী নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, তারা চাকরি হারানো কিংবা সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে অভিযুক্ত হওয়ার হুমকি পেয়েছেন।

কর্মীদের দাবি, ট্রাফিগুরাকে বিক্রি করা সোনার তুলনায় কম উৎপাদন দেখিয়ে বেতন কম দেওয়া হয়। ট্রাফিগুরা অবশ্য বলেছে, তাদের নিরীক্ষায় এখন পর্যন্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন, সংঘাতের অর্থায়ন, চাঁদাবাজি বা অবৈধ গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা শনাক্ত হয়নি।

এরপর ভেনেজুয়েলার সোনার বাজারে প্রবেশ করে আরও কিছু মার্কিন ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান। হেনেই ক্যাপিটাল ও মার্কুরিয়া যৌথভাবে সোনা উৎপাদন ও রপ্তানির চুক্তি করে এবং ভবিষ্যতে বছরে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের খনিজ রপ্তানির সম্ভাবনার কথা জানায়। কিন্তু ট্রাফিগুরা প্রতিষ্ঠিত ভূগর্ভস্থ খনিগুলোর বড় অংশ পেয়ে যাওয়ায় নতুন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপেক্ষাকৃত অনানুষ্ঠানিক ও ঝুঁকিপূর্ণ খনির দিকে যেতে হয়।

প্রতিবেদনে ফ্যাক্ট কোয়ালিশনের প্রোগ্রাম পরিচালক জুলিয়া ইয়ানসুরা দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রায় ৯০ শতাংশ সোনা অপরাধমূলকভাবে উৎপাদিত হয়। এটি তার সংগঠনের মূল্যায়ন হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, এমন একটি শিল্পে বৈধ ও অপরাধমুক্ত সোনার উৎস শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট খনি সামরিক পাহারায় রাখলেই পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে।

সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে সোনা বিক্রির ক্ষেত্রে। ট্রাফিগুরা ভেনেজুয়েলা থেকে সোনা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেলেও ছয় মাস পরও তা পুনরায় বিক্রি করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। কারণ সম্ভাব্য ক্রেতা ও শোধনাগারকে নিশ্চিত করতে হবে যে ওই সোনার সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। ফলে দ্রুত চুক্তি করে সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসা গেলেও আন্তর্জাতিক বাজারে তার গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা অনেক কঠিন। এখানেই ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনার বাস্তব সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়: কোনো দেশের সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজারযোগ্য হয়ে ওঠে না; তার উৎস ও সরবরাহ ব্যবস্থার বৈধতাও নিশ্চিত করতে হয়।

এই ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির একটি বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট- দ্রুত ফল পাওয়ার ওপর জোর। হোয়াইট হাউসের জ্বালানি উপদেষ্টা জ্যারড এজেনের ভাষায়, প্রেসিডেন্ট পদক্ষেপ, চুক্তি ও অগ্রগতি পছন্দ করেন। কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, চুক্তি করার গতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার যথাযথ যাচাইয়ের গতি এক ছিল না। ফলে রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক সাফল্যের দাবির সঙ্গে বাস্তব বাজারে গ্রহণযোগ্যতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার সোনার ঘটনা একটি বৃহত্তর বাস্তবতা সামনে আনে। মাদুরোর পতনের পর তেল থেকে খনিজসম্পদ- ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। প্রশাসনের যুক্তি, পশ্চিমা বিনিয়োগ খনি শিল্পকে বৈধ ও নিয়ন্ত্রিত করতে পারে এবং অপরাধীদের প্রভাব কমাতে পারে।

কিন্তু নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধান দেখাচ্ছে, বিনিয়োগকারীরাই এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে ঢুকে পড়ছেন, যেখানে গ্যাং, সামরিক প্রভাব, দুর্নীতি ও অনানুষ্ঠানিক খনির কার্যক্রম গভীরভাবে জড়িত।

তাই ভেনেজুয়েলার সোনার গল্প শেষ পর্যন্ত শুধু ব্যবসা বা সম্পদের গল্প নয়; এটি সম্পদের মালিকানা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এবং বৈধতার প্রশ্নও। যে সোনা যুক্তরাষ্ট্রে যাবে, তার উৎস যদি অপরাধ, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি বা পরিবেশ ধ্বংসের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াই স্বাভাবিক।

ট্রাফিগুরার পরামর্শক ডেভিড সোডও বলেছেন, ভেনেজুয়েলার সোনাশিল্পে শোষণ ও অনিয়ম গভীরভাবে প্রোথিত এবং সেখান থেকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত সরবরাহ ব্যবস্থা তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য যদি সত্যিই ভেনেজুয়েলার সোনাকে অপরাধী ও দুর্নীতিগ্রস্ত শক্তির হাত থেকে বের করে এনে বৈধ আন্তর্জাতিক বাজারে আনা হয়, তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সোনা সংগ্রহ নয়- তার উৎসকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে বৈধ প্রমাণ করা।

বিষয়: যুক্তরাষ্ট্রভেনেজুয়েলাতেলসোনাডোনাল্ড ট্রাম্পট্রাম্প প্রশাসন
সর্বশেষ
  • ১

    ‘রোকেয়া হলের ফটক ভেঙে বের হওয়া মেয়েরাই দৃশ্যমান থাকল না’

  • ২

    ৬ মাসেই সব সমাধান হবে?

  • ৩

    রাড্ডায় ভাঙচুর-লুণ্ঠনে দায়ীদের বিচারের দাবিতে সিপিবির বিক্ষোভ

  • ৪

    এ সপ্তাহে ইরানের সাথে আলোচনার আশা ট্রাম্পের

  • ৫

    যখন সালমান মুক্তাদিরের প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ হয়, তখন সরকার কোথায় থাকে?’

সম্পর্কিত
  • সুদের হারের ধাক্কা এবার কীভাবে সামলাবে আবাসন খাত?

    সুদের হারের ধাক্কা এবার কীভাবে সামলাবে আবাসন খাত?

    বিভিন্ন দেশে সরকারি বন্ডের সুদের হার বাড়ায় দেশগুলোর সরকারের অর্থব্যবস্থায় চাপ বাড়ছে। এর প্রভাব পড়তে পারে আবাসন বাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রে বেশির ভাগ গৃহঋণের সুদের হার ১০ বছর মেয়াদি সরকারি ট্রেজারি বন্ডের সুদের হারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

  • আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নতুন লড়াই

    আর্কটিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের নতুন লড়াই

    ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার কেন্দ্রে। বরফ গলছে, নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে, খনিজ ও জ্বালানি সম্পদের গুরুত্ব বাড়ছে, আর তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামরিক ঘাঁটি, রাডার, স্যাটেলাইট, আইসব্রেকার, বন্দর ও নজরদারি অবকাঠামোর প্রয়োজন।

  • ট্রাম্প-সি বৈঠক: কে জিতল, কে হারল?

    ট্রাম্প-সি বৈঠক: কে জিতল, কে হারল?

    দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর এ নিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে দুই দফা বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সপ্তাহে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার সেই বৈঠকের অন্যতম আলোচিত ফলাফল হলো– চীন শিগগিরই আটলান্টার চিড়িয়াখানায় দুটি বিশাল পান্ডা পাঠাবে!

  • রাজনীতিবিদদের ভাষণ লিখছে এআই, হুমকি কতটা

    রাজনীতিবিদদের ভাষণ লিখছে এআই, হুমকি কতটা

    ব্রিটিশ এমপি ও লেবার পার্টির নেতা স্টিভ ইয়েম চলতি বছরের জুনে তার সহকর্মী এমপিদের সামনে ‘একটি মৌলিক প্রশ্ন’ তুলেছিলেন। ইয়েম বলেছিলেন, “কে আসলে কাকে প্রভাবিত করছে? প্রযুক্তি কি সমাজের সেবা করছে, নাকি প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর স্বার্থে সমাজকেই নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে?”