
‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ মধ্যেও যেভাবে টিকে আছেন তিনি
চন্দ্রশেখরনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদ ও এর নিয়ন্ত্রণকারী ট্রাস্টগুলোর প্রকাশ্য বিরোধ। এতে কোম্পানি ও তার সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
চরচা ডেস্ক

সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) যোদ্ধাদের হাত থেকে বাঁচতে পালানোর সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনো মনে আছে শাহদ নাজিবের। জার্মানিতে আশ্রয় পাওয়ার এক দশকেরও বেশি সময় পর এখন তার মনে হচ্ছে, সেখানে হয়তো আর তাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে না।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জার্মানির বাল্টিক উপকূলের শহর রস্টকে নিজের বাড়িতে রয়টার্সকে নাজিব বলেন, “সিরিয়া ছাড়ার সময়ের কথা ভাবলে এখনো বুঝতে পারি না, কীভাবে আমরা সেই সময়টা পার করে এসেছিলাম। মনে হয়েছিল যেন এক দুঃস্বপ্ন।”
নাজিব ও তার স্বামী মাহমুদ হমুয়েশ পূর্ব সিরিয়ার দেইর আল-জোরে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে জার্মানিতে নতুন জীবন শুরু করেন। হমুয়েশ একটি নাপিতের দোকানে কাজ করেন, আর নাজিব স্থানীয় স্কুলগুলোতে খাবার পরিবেশন করেন। তাদের দুই সন্তান রয়েছে।
হমুয়েশ বলেন, “আমাদের স্বাগত জানিয়ে শান্তি ও নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমরা জার্মান জনগণের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা যে কাজ করি, সেটি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সামান্য একটি উপায়।”
জার্মানিতে বসবাসকারী ৯ লাখেরও বেশি সিরীয়র মধ্যে তারা দুজন। তাদের বেশির ভাগই গৃহযুদ্ধের সময় আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে দেশটিতে এসেছিলেন।
কিন্তু জার্মানিতে অভিবাসনবিরোধী উগ্র ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) সমর্থন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এবং অভিবাসন আবারও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসায়, অভিবাসীরা বলছেন বিদেশিদের প্রতি বৈরিতা বাড়ছে।
রয়টার্স বাল্টিক উপকূলের রস্টক ও কাছের শহর শভেরিনে অভিবাসী পরিবারের ২০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের অনেকেই জার্মান নাগরিকত্ব পেয়েছেন এবং বহু বছর ধরে দেশটিতে বসবাস করছেন।
বেশির ভাগই বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা অভিবাসীবিরোধী নানা ধরনের অপমান ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। কখনো নিচু স্বরে কটূক্তি, কখনো নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার দাবি। এক নারী জানান, এক প্রতিবেশী বারান্দা থেকে তার ওপর দুর্গন্ধযুক্ত পানি ঢেলে দিয়েছিলেন।
তাদের এই উদ্বেগের সময়েই পূর্ব জার্মানিজুড়ে এএফডির সমর্থন বাড়ছে।
নাজিব ও হমুয়েশ মেকলেনবার্গ-ভোরপোমার্ন রাজ্যে বাস করেন। এই রাজ্য একসময় কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির অংশ ছিল। জনমত জরিপ বলছে, আগামীকাল রোববারের নির্বাচনে এএফডি সবচেয়ে বড় দল হয়ে উঠতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে দলটি আরেক পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য স্যাক্সনি-আনহাল্টে প্রথম বড় আঞ্চলিক নির্বাচনে জয় পায়। দলটি অভিবাসন সীমিত করতে চায় এবং ‘রিমাইগ্রেশন’—অর্থাৎ ‘বিদেশিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর’ কথাও বলে।
স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, শিক্ষা ও খাদ্যসেবা খাতে কাজ করা কয়েকজনসহ রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা বেশ কয়েকজন বলেছেন, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তারা রস্টক বা শভেরিন ছেড়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।
‘এই দেশ জার্মানদের জন্য’
উত্তর রস্টকে ছোট্ট অ্যাপার্টমেন্টে বসে কথা বলছিলেন নাজিব। ঘরের একটি দেয়ালজুড়ে তার সন্তানদের আঁকা ছবি, আর বসার ঘরের বিভিন্ন কোণে সুন্দর করে সাজানো খেলনা। পাশে ছয় ও চার বছর বয়সী দুই সন্তান খেলছিল।
বাগদাদে পদার্থবিজ্ঞান পড়া এবং পরে সিরিয়ায় অলংকার নকশাবিদ হিসেবে কাজ করা নাজিব বলেন, একদিন স্কুল থেকে সন্তানদের নিয়ে ফেরার পথে তিনি একটি মুদি দোকানে থামেন। সেখানে এক বৃদ্ধ হুইলচেয়ারে বসে তাকে চিৎকার করে বলেন, জার্মানিতে তার কোনো জায়গা নেই।
“এই দেশ জার্মানদের জন্য,” বৃদ্ধ চিৎকার করে বলেছিলেন।
নাজিব বলেন, “রস্টকে আমি যে কষ্ট পেয়েছি, তা একেবারে নতুন ধরনের কষ্ট—এমন কষ্ট আমি আগে কখনো অনুভব করিনি।”
তিনি বলেন, “আপনি অন্যায়টা অনুভব করেন, কারণ আপনি কোনো ভুলই করেননি। আমি নিজের জন্য একটি জীবন গড়ে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করেছি, আর তারপর কেউ এসে আপনার সঙ্গে আবর্জনার মতো আচরণ করে।”
কথা বলার সময় তার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে।
ঘটনাটি মনে করে তিনি বলেন, তার ছেলে তাকে জিজ্ঞেস করেছিল, “মা, তিনি তোমাকে গাল দিচ্ছেন কেন? তুমি তার কী ক্ষতি করেছ?”
কীভাবে বিষয়টি বোঝাবেন বুঝতে না পেরে তিনি ছেলেকে বলেছিলেন, লোকটি হয়তো অসুস্থ।
শ্রমশক্তি
এএফডি ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী বা ইউরো-সংশয়বাদী দল হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। ২০১৫ সালে সাবেক চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল সাময়িকভাবে জার্মানির সীমান্ত খুলে দিয়ে প্রায় ১০ লাখ অভিবাসী ও শরণার্থীকে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার পর দলটির অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য আরও তীব্র হয়। তাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিলেন গৃহযুদ্ধ থেকে পালিয়ে আসা সিরীয়।
এরপর দলটি প্রান্তিক একটি আন্দোলন থেকে জার্মানির সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে এবং জাতীয় জনমত জরিপে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের রক্ষণশীল জোটের চেয়েও এগিয়ে রয়েছে।
রোববারের নির্বাচনে এএফডির প্রধান প্রার্থী লেইফ-এরিক হোলম বলেছেন, দক্ষ কর্মীদের অভিবাসনে তার “একেবারেই কোনো আপত্তি নেই”। তার মতে, জার্মানিতে বৈধভাবে থাকার অধিকার নেই—এমন ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি বিদেশিকেই বহিষ্কার করা উচিত।
তবে সমালোচকেরা বলছেন, বড় সমস্যা হলো এমন একটি পরিবেশ তৈরি হওয়া, যেখানে তাদের মতে বিদেশিদের সাধারণভাবে লক্ষ্য করে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।
গত বুধবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বিতর্কে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট রাজ্যপ্রধান মানুয়েলা শভেসিগ এএফডির বিরুদ্ধে ‘রিমাইগ্রেশন’ এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পটভূমির কর্মীদের নিয়ে দলের বক্তব্যের মাধ্যমে “ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করার” অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, “যারা এখানে কাজ করছেন, নিজেদের অবদান রাখছেন এবং কর ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অর্থ দিচ্ছেন, তারা ভয় পাচ্ছেন এবং স্বস্তিতে নেই—এটি আমার কাছে অত্যন্ত ভয়াবহ মনে হয়।”
বিতর্কে তিনি ও হোলম এমন একজন নকশা প্রকৌশলীর প্রশ্নেরও উত্তর দেন, যিনি তার এক মূল্যবান মরক্কোর কর্মীকে হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ওই প্রকৌশলী জানান, কর্মীটি রাস্তায় নিয়মিত বর্ণবাদী অপমানের শিকার হন।
হোলম বলেন, “এমন একটি পরিবেশ তৈরি হওয়া অবশ্যই দুঃখজনক।” তবে তিনি অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করতে না পারা এবং দেশ ছাড়ার নির্দেশ পাওয়া বিদেশিদের সামান্য একটি অংশকেও বহিষ্কার করতে না পারার জন্য সরকারকে দায়ী করেন।
এই বিতর্কের অর্থনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে।
মেকলেনবার্গ-ভোরপোমার্নে প্রায় ৫০ হাজার অভিবাসী পটভূমির মানুষ কাজ করেন। অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করে বলেছেন, কম জন্মহার ও বয়স্ক জনসংখ্যার অন্য পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের মতো এই রাজ্যটিরও আরও দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হবে।
জার্মানির শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জার্মান নাগরিকত্ব পাওয়া সিরীয়দের বাদ দিয়ে প্রায় ৩ লাখ ১৬ হাজার সিরীয় নাগরিক জার্মানিতে কাজ করেন। তাদের বেশির ভাগই পূর্ণকালীন চাকরি করেন এবং সামাজিক নিরাপত্তা তহবিলে অবদান রাখেন।
তাদের বেকারত্বের হার ৩০ শতাংশের বেশি। তবে তথ্য বলছে, কেউ যত বেশি সময় জার্মানিতে থাকেন, তার চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়ে। ২০২৩ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যারা সাত বছর বা তার বেশি সময় ধরে জার্মানিতে আছেন, তাদের ৬০ শতাংশের বেশি চাকরি করছেন।
অনেক সিরীয়ই বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা দেশে ফিরে যেতে চান। তবে নাজিব ও হমুয়েশসহ অন্যরা ক্রমেই জার্মানিতেই নিজেদের ভবিষ্যৎ দেখতে শুরু করেছেন।
এএফডির উত্থান তাদের সেই সিদ্ধান্ত বদলে দেবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
হমুয়েশ বলেন, তিনি চান না তার সন্তানেরা যে সমাজকে নিজেদের বাড়ি বলে মনে করে, সেখানে বড় হয়ে নিজেদের প্রত্যাখ্যাত মনে করুক।
তিনি বলেন, “দিন শেষে পরিবারই সবার আগে।”
এনসিটি ইজারা স্থগিত ও মামলা প্রত্যাহারে দুই দিনের আল্টিমেটাম
মেসে আরেকজনের খাবার খেয়ে ফেলায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ
সূত্রাপুরে ময়লা পানি নিয়ে বিরোধ, পেট্রোলের আগুনে দগ্ধ ৫
বাকেরগঞ্জে নামাজরত স্ত্রীসহ শ্বশুর-শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, স্বামী গ্রেপ্তার
কোন সংগ্রাম মানুষকে বড় করে?

‘সর্বাত্মক যুদ্ধের’ মধ্যেও যেভাবে টিকে আছেন তিনি
চন্দ্রশেখরনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখনো টাটা সন্সের পরিচালনা পর্ষদ ও এর নিয়ন্ত্রণকারী ট্রাস্টগুলোর প্রকাশ্য বিরোধ। এতে কোম্পানি ও তার সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডারের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেই বদলে যায় শিক্ষাক্রম, কেন?
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন হওয়ার পর নিজস্ব কোনো শিক্ষানীতি ছিল না। উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছিল ১৯৬৯ সালে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের সময় এয়ার মার্শাল নূর খানকে প্রধান করে গঠন করা কমিটির অবশেষ।

গুলশানের মিছিল থেকে ওসির অডিও: আ.লীগকে নিয়ে বিএনপির ভাবনা কী?
গুলশানের মিছিলের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যে বার্তা এসেছে, তাতে বোঝা যায়, ক্ষমতাসীন দলটি আওয়ামী লীগের তৎপরতাকে সাময়িক বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না।

মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা: সৌদি আরব কী খেলা খেলছে, হুতিরা কী বলছে?
ইসলামের পবিত্র শহর মক্কার কাছে নাকি হুতিরা একটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এটা সৌদি আরবের দাবি। এ নিয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও শুরু হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা এখন আর শুধু সৌদি আরব আর হুতিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়–থাকার কথাও ছিল কি?