Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

গুলশানের মিছিল থেকে ওসির অডিও: আ.লীগকে নিয়ে বিএনপির ভাবনা কী?

মেরিনা মিতু

মেরিনা মিতু

প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৪৪
গুলশানের মিছিল থেকে ওসির অডিও: আ.লীগকে নিয়ে বিএনপির ভাবনা কী?
আওয়ামী লীগের মিছিল। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

রাজধানীর গুলশানের মতো এলাকায় হঠাৎ বড় একটি মিছিল। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সেই মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং পরে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার। এর কয়েক দিন পর ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কথিত একটি অডিও ছড়িয়ে পড়া- যেখানে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা মন্তব্য শোনা যায়।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

পরপর এসব ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, নিষিদ্ধ থাকা একটি দল কীভাবে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্য তৎপরতা চালানোর সুযোগ পেল? প্রশাসনের ভেতরে কি সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে, নাকি আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের সংগঠন সরকারের প্রত্যাশার চেয়ে সক্রিয়? বিরোধী দলের কেউ কেউ এমনও অভিযোগ করছেন, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য রাস্তা ব্যবহারের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগকে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বিএনপি অবশ্য বিষয়টিকে কেবল একটি মিছিলের ঘটনা হিসেবে দেখছে না। দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সাম্প্রতিক আলোচনায় আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক তৎপরতা, প্রশাসনের নজরদারি এবং দলটির পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ স্পষ্ট হয়েছে।

গুলশানের মিছিল, দুই কর্মকর্তার প্রত্যাহার

গত ১১ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আকস্মিক মিছিল বের করেন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশও রাবার বুলেট ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক এবং কয়েকটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।

ঘটনার পাঁচ দিন পর, ১৬ সেপ্টেম্বর, গুলশান মডেল থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনকে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই দিনে গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদকেও প্রত্যাহার করা হয়। ডিএমপির আদেশে দুজনকেই ‘প্রশাসনিক কারণে’ প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে সময়ের ব্যবধানের কারণে এই সিদ্ধান্তকে গুলশানের মিছিলের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছেন রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি প্রত্যাহারdmp-dhaka-metropoliton-police

মিছিলের ঘটনায় গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মামলায় ৮৩ জনকে গ্রেপ্তার এবং ২৪ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল ঠেকাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় এমন কর্মসূচি হলে ওসি ও ডিসিকে দায়ী করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়।

এখানেই প্রথম প্রশ্নটি সামনে আসে: গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও মিছিলটি এত বড় আকারে সংগঠিত হলো কীভাবে?

যদিও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পরে গণমাধ্যমে বলেন, “মিছিলের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। তবে শুক্রবার জুমার নামাজের জন্য লোকজন এলাকায় আসার পর এমন কর্মসূচি হতে পারে, তা পুলিশ হয়তো অনুমান করতে পারেনি।”

ক্যান্টনমেন্টের অডিও: প্রশাসনের ভেতরের আরেক সংকেত?

গুলশানের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে আসে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসানের কথিত একটি অডিও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই রেকর্ডিংয়ে একজনকে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন, পুলিশের সক্ষমতা, প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেন নিয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়।

ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসান। ছবি: চরচা
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসান। ছবি: চরচা

অডিওতে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে পুলিশ কিছু করতে পারবে না- এমন বক্তব্যও ছিল। তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। রাকিবুল হাসান নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, অডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর তাকে ক্যান্টনমেন্ট থানার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ডিএমপি সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। ডিএমপি জানিয়েছে, তাকে ‘প্রশাসনিক কারণে’ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে অডিওটি নিয়ে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠনের কথা জানা যায়। ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে রাকিবুলকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ২৪ আসামি রিমান্ডেadalot

এই অডিওর তাৎপর্য শুধু একজন পুলিশ কর্মকর্তার মন্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ, এতে প্রশাসনের ভেতরে রাজনৈতিক আনুগত্য, পুলিশ বাহিনীর মনোবল এবং আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ তৎপরতা নিয়ে যে ধারণা প্রকাশ পেয়েছে, তা নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও অডিওর বক্তব্যকে প্রশাসনের সামগ্রিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বিএনপির ভাবনা: বিচ্ছিন্ন মিছিল, নাকি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা?

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সাম্প্রতিক আলোচনায় আওয়ামী লীগের এই তৎপরতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর (শনিবার) রাতে গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় বলেও বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছেন।

বৈঠকে বিশেষ করে রাজধানীতে আওয়ামী লীগের আকস্মিক বড় মিছিলের প্রসঙ্গ উঠে আসে। প্রশাসনের ভূমিকা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং নিষিদ্ধ দলের এমন কর্মসূচি ঠেকাতে ব্যর্থতার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

বৈঠক অংশ নেওয়া কয়েকজন নেতা জানিয়েছে, গুলশানে আওয়ামী লীগের বড় মিছিলের ঘটনাটি বিশেষভাবে বিব্রতকর ও অস্বস্তিকর বলে মত দেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। তাদের মতে, মিছিলটি শুধু রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকায় হয়নি; এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাসভবন-সংলগ্ন এলাকায় হওয়ায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ ও উদ্বেগের হয়ে উঠেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি দলের নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় কীভাবে এত বড় জমায়েত ও মিছিল করার সুযোগ পেলেন, তা নিয়েও বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে।

বৈঠক-সংশ্লিষ্ট তথ্য বলছে, আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল এবং যেকোনো ধরনের পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা রুখে দিতে দল ও প্রশাসন-দুই পক্ষকেই আরও কঠোর ও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অবস্থান হলো- আওয়ামী লীগের অতীত কর্মকাণ্ড ও অপরাধের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দলটির যেকোনো রাজনৈতিক তৎপরতা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয়ভাবেও কঠোর অবস্থান বজায় রাখতে হবে।

অর্থাৎ, বিএনপির আলোচনায় আওয়ামী লীগের বিষয়টি এখন শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং ক্ষমতার পরবর্তী ভারসাম্যের সঙ্গেও যুক্ত হচ্ছে।

ওই বৈঠকে থাকা বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে চরচাকে বলেন, “প্রশাসনিক ব্যর্থতা হোক কিংবা ভিন্ন কিছু, বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয় সে জন্য সাংগঠনিকভাবেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিই জোর দেয়া হয়েছে।”

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক তৎপরতা কতটা বাস্তব?

গুলশানের মিছিলকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তির চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ছিল আকস্মিক কর্মসূচি, অংশগ্রহণকারীদের প্রকৃত সাংগঠনিক কাঠামো বা কেন্দ্রীয় নির্দেশনা সম্পর্কে প্রকাশ্য তথ্যও সীমিত। কিন্তু একই সঙ্গে এমন মিছিলের আয়োজন, দ্রুত লোকসমাগম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়া- এসব ঘটনা পুরোপুরি উপেক্ষা করার মতো নয়।

এখানে বিএনপির জন্য দুটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। প্রথমত, আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের নেটওয়ার্ক কতটা সক্রিয় রয়েছে? দ্বিতীয়ত, দলটির রাজনৈতিক তৎপরতা ঠেকাতে প্রশাসন কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে?

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। ফলে প্রকাশ্য মিছিল বা সংগঠিত কর্মসূচি আইনগত ব্যবস্থার আওতায় পড়বে। কিন্তু গুলশানের ঘটনা দেখিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা থাকলেই সাংগঠনিক তৎপরতা পুরোপুরি থেমে যায় না। আবার একটি মিছিল হয়েছে বলেই দলটি আগের অবস্থানে ফিরে গেছে- এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছানো যায় না।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী চরচাকে বলেন, “যারা বেআইনি সংগঠন, নিষিদ্ধ সংগঠন, আদালত তাদের নিষিদ্ধ করেছে। সুতরাং বেআইনি যে সংগঠন, তারা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারে না। সরকারের কনসার্ন যে মিনিস্ট্রি, অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে দেখবে- কারা এর সঙ্গে জড়িত আছে এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে। তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানে ভূমিকা রেখেছে। কিছু গ্রেপ্তারও হয়েছে।”

আওয়ামী লীগ বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে গুলশানে মিছিল করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে- জামায়াতে ইসলাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এমন অভিযোগের বিষয়ে রিজভী বলেন, “আমাদের কোনো জাতীয় নেতা তো বলেননি যে, আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করে দেব। এটা কারা বলেছিল, সেটা নিশ্চয় দেশবাসী ভুলে যায়নি। সুতরাং কে কার সঙ্গে আঁতাত করছে, সেটা জনগণ জানে। ফলে এসব কথা বলে কোনো লাভ নেই।”

বিএনপির চ্যালেঞ্জ

আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে বিএনপির অবস্থান যত কঠোর হচ্ছে, ততই কয়েকটি চ্যালেঞ্জ সামনে আসছে।

- আইন প্রয়োগ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ভারসাম্য। নিষিদ্ধ দলের কর্মসূচি ঠেকাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা না বাড়ানো।

- প্রশাসনের ওপর আস্থা। গুলশানের মিছিলের পর ওসি-ডিসি প্রত্যাহার এবং ক্যান্টনমেন্টের অডিও- দুটি ঘটনাই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এসব ঘটনায় তদন্তের ফল এবং সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

- আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের তৎপরতা পর্যবেক্ষণ। বিচ্ছিন্ন ঝটিকা মিছিল, অনলাইন প্রচার, স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের চেষ্টা- এসবকে আলাদা আলাদা ঘটনা হিসেবে না দেখে সামগ্রিক প্রবণতা হিসেবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

গুলশানের মিছিলের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যে বার্তা এসেছে, তাতে বোঝা যায়, ক্ষমতাসীন দলটি আওয়ামী লীগের তৎপরতাকে সাময়িক বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না। তবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি কতটা পুনর্গঠিত হয়েছে, কিংবা তাদের রাজনৈতিক পুনরুত্থানের বাস্তব সক্ষমতা কতটুকু- সেটি নির্ধারণের জন্য আরও তথ্য ও সময় প্রয়োজন।

এখন মূল প্রশ্ন হলো, বিএনপি এই তৎপরতা মোকাবিলায় শুধু প্রশাসনিক কঠোরতার ওপর নির্ভর করবে, নাকি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কৌশলও তৈরি করবে?

বিষয়: বিএনপিগুলশানরাজধানীওসিমিছিল
সর্বশেষ
  • ১

    যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণে অটোরিকশাচালক আহত

  • ২

    গুলশানের মিছিল থেকে ওসির অডিও: আ.লীগকে নিয়ে বিএনপির ভাবনা কী?

  • ৩

    চীনের টেরাকোটা সেনাবাহিনী কাকে রক্ষা করছে?

  • ৪

    সায়দাবাদে চলন্ত বাস থেকে পড়ে প্রাণ গেল হেলপারের

  • ৫

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে বিডিআর কল্যাণ পরিষদের আলটিমেটাম

সম্পর্কিত
  • মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা: সৌদি আরব কী খেলা খেলছে, হুতিরা কী বলছে?

    মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা: সৌদি আরব কী খেলা খেলছে, হুতিরা কী বলছে?

    ইসলামের পবিত্র শহর মক্কার কাছে নাকি হুতিরা একটি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এটা সৌদি আরবের দাবি। এ নিয়ে সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও শুরু হয়েছে। কিন্তু বিষয়টা এখন আর শুধু সৌদি আরব আর হুতিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়–থাকার কথাও ছিল কি?

  • খেলাপি ঋণে জর্জরিত  ৬ ব্যাংক: কাকে ডোবাচ্ছে কে?

    খেলাপি ঋণে জর্জরিত ৬ ব্যাংক: কাকে ডোবাচ্ছে কে?

    গত অর্থ বছরের শেষ মাস অর্থাৎ জুনে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছিল, দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। আর এই খেলাপি ঋণের প্রায় ২ লাখ ৬৬ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকটাই রয়েছে মাত্র ছয়টি

  • জলবায়ু পরিবর্তন কি নেপালের দুর্যোগকে ত্বরান্বিত করেছে?

    জলবায়ু পরিবর্তন কি নেপালের দুর্যোগকে ত্বরান্বিত করেছে?

    নেপালের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বহু মানুষ। এই আকস্মিক বন্যা মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে হিমবাহ পাতলা হয়ে যাওয়া এবং পার্বত্য অঞ্চলের পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন ধরে জমাটবদ্ধ মাটি গলে গিয়ে একটি পাহাড়ি ঢাল ধসে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে

  • চীনের বৈশ্বিক মডেল আসলেই বদল আনতে পারবে?

    চীনের বৈশ্বিক মডেল আসলেই বদল আনতে পারবে?

    বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা আর কোনো একক শক্তিকেন্দ্রের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে না। সাম্প্রতিক সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) এবং ব্রিকস সম্মেলনের দিকে তাকালে এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সরকারগুলো আন্তর্জাতিক