জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ‘কোনো নিরপরাধ বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি’- এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির মুখ্য সমন্বয়ক এস এ খান। সংবাদ সম্মেলনে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের প্রশাসনিক ও বিচারিক শাস্তির তীব্র বিরোধিতা করা হয়।
সংগঠনটির দাবি, তৎকালীন সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে প্রায় আট হাজার ৭৯৬ জন সদস্যকে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের প্রমাণ ছাড়াই চাকরিচ্যুত, দণ্ডিত বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নিরপেক্ষ পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে এবং ১৭ বছর ধরে সাজানো মামলায় কারাবন্দী নিরপরাধ সদস্যদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে ২০০৯ সালের বিভাগীয় ও প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষ পুনর্মূল্যায়ন করারও দাবি জানানো হয়।
বিডিআর কল্যাণ পরিষদ জানায়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে হাজার হাজার বিডিআর পরিবার মানবিক বিপর্যস্ততার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তথ্যের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তারা দাবি করেন, তদন্তের নথিপত্র এবং কোন আইন বা ধারায় তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
সংগঠনের নেতারা স্পষ্ট করে বলেন, তারা কোনো সংঘাত বা রাজনৈতিক সুবিধা চান না; বরং ন্যায়বিচার ও সম্মান ফিরে পেতে চান। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে সারা দেশের চাকরিচ্যুত সদস্য ও তাদের পরিবারকে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে কয়েকটি মূল দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘নিরপরাধ কেউ চাকরিচ্যুত হয়নি’ সংক্রান্ত ঢালাও বক্তব্য প্রত্যাহার করা, বিশেষ আদালত ও সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে চাকরিচ্যুত সব সদস্যের চাকরি, বকেয়া বেতন-ভাতা, পদোন্নতি ও পূর্ণ ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা। এছাড়া জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ জনসম্মুখে প্রকাশ এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।