
তারা পরীক্ষা দেয়নি বলে আমরা অবাক। বরং অবাক হওয়া উচিত, এত বছর ধরে একই নাটক দেখে, একই প্রতিশ্রুতি শুনে, একই প্রশ্ন মুখস্থ করে, একই লাইনে দাঁড়িয়ে, একই হতাশার গল্প শুনেও এত মানুষ এখনো বিশ্বাস করে, এইবার হয়তো অলৌকিক কিছু ঘটবে! বাংলাদেশে শিক্ষাব্যবস্থা আর নদী নয়, এটা মরীচিকা।

পাকিস্তান জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে কৌশলগত একটি ভৌগোলিক অবস্থানে অবস্থিত হলেও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা কিছুটা সীমিত।

কোনো লেখককে ‘থার্ডক্লাস’ বলার আগে হয়তো একটু থামা দরকার। কারণ সাহিত্য শেষ পর্যন্ত আদালত নয়, যেখানে একজন বিচারক হাতুড়ি পিটিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন। সাহিত্য বরং একটি দীর্ঘ, অন্তহীন কথোপকথন– যেখানে শেষ কথা বলে পাঠক, আর সর্বশেষ রায় দেয় সময়।

এই সুন্দর খেলা বা ফুটবল যেন আবারও সেই সমস্ত কুৎসিত ও অহংকারী মানুষদের বিকৃত ও নোংরা উচ্চাকাঙ্ক্ষার চেয়ে অনেক বেশি টেকসই ও শক্তিশালী হিসেবে বিশ্বমঞ্চে জয়ী হয়, যারা এই খেলাকে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বলে দাবি করতে চায়।

বাংলাদেশে হাজারো শিশুর জন্য বিচারব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার মানে হলো আটক হওয়া, পড়াশোনায় বাধা, সমাজের অবহেলা এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক ক্ষতির শিকার হওয়া। অনেক ক্ষেত্রে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার আগেই এসব কিছু সহ্য করতে হয় তাদের।

সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, আমরা ধীরে ধীরে প্রশ্ন করাকে সন্দেহ করতে শিখেছি। কেউ প্রশ্ন করলে উত্তর দেওয়ার আগে তার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাই। যেন প্রশ্নের সত্যতা নয়, প্রশ্নকারীর রাজনৈতিক পরিচয়ই আসল বিষয়।

নার্সিং পেশা কোনো সাধারণ পেশা নয়; এটি মানবসেবার এক মহৎ দায়িত্ব। অথচ পরিকল্পনাহীন সম্প্রসারণ, দুর্বল তদারকি, মানহীন শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের অভাবে আজ এই গুরুত্বপূর্ণ খাত গভীর সংকটে নিমজ্জিত।

একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কখনোই নার্সিং ছাড়া টিকে থাকতে পারে না। কেয়ার গিভার সহায়ক হতে পারে, কিন্তু কখনোই পেশাদার নার্সের বিকল্প নয়।

স্মরণ
আমাদের কাছে দোহা ভাই মানে ঊনসত্তর, দোহা ভাই মানে ষাটের দশক! বিদায় অভিবাদন, দোহা ভাই।

এনডিএ-বহির্ভূত সদস্যদের নারী বিলের পক্ষে ভোট দিতে প্রলোভন, চাপ বা অন্য কোনো উপায়ে বাধ্য করতে সরকারপক্ষের ব্যর্থতা জাতীয় রাজনীতিতে একটি নির্ণায়ক মুহূর্ত। বিরোধীরা তাদের ভোট ধরে রাখতে পেরেছেন। এটা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে মোদি-প্রণীত অজেয়–এই আভা বিলীন হচ্ছে।

বিএনপি সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস। এই স্বল্প সময়ের কার্যক্রম দিয়ে সরকারের সাফল্য ব্যর্থতা নিরূপন করা যায় না। তদুপরি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরু হলো, যার প্রচণ্ড অভিঘাত বাংলাদেশে এসেও পড়েছে। অতএব, সরকার আরও কিছুটা ছাড় বা গ্রেস পিরিয়ড পেতে পারে।

অধ্যাপক ইউনূস দেশের যতগুলা সেক্টর ধ্বংস করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হল স্বাস্থ্য সেক্টর। অন্তর্বর্তী সরকারে একজন ভাবলেশহীন নির্বিকার স্বাস্থ্য উপদেষ্টাও ছিলেন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা সমাধানে তাকে কখনো সক্রিয় ও কর্মতৎপর হতে দেখা যায়নি।

মন্ত্রিপরিষদ কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কি না তাও জানা যায়নি। হয়ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে, না হলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব কেন আইনের ‘সমান’ রীতি বদলে রাষ্ট্রপতির সম্বোধন পরিবর্তন করলেন?

গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের নৈতিক বৈধতা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়-এটি রাষ্ট্রীয় স্থায়িত্বের অপরিহার্য শর্ত। বাংলাদেশের আসন্ন গণভোট সেই বৈধতার সংকটকে উন্মোচিত করেছে নির্মম স্পষ্টতায়।

গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের নৈতিক বৈধতা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়-এটি রাষ্ট্রীয় স্থায়িত্বের অপরিহার্য শর্ত। বাংলাদেশের আসন্ন গণভোট সেই বৈধতার সংকটকে উন্মোচিত করেছে নির্মম স্পষ্টতায়।