
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে ৯ উইকেটে হারানোর এই দিনটি—১৬ আগস্ট ২০২৬! ক্যালেন্ডারে লাল কালি দিয়ে দাগিয়ে রাখা দিন। রেড লেটার ডে, যাকে বলে এই তারিখটা তেমনই। শতবর্ষ পরেও ডারউইনের এই সকালটাকে স্মরণ করবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। এ তো শুধুই একটা টেস্ট জয় নয়। ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার ভূমি জয় করার জয়।

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের শুরুর দিনটা দারুণ কেটেছে বাংলাদেশের। গতির দাপটে অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেছে ১৯৮ রানেই। পেসার হাসান মাহমুদ নিয়েছেন ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস শেষে অ্যাডাম গিলক্রিস্টের মুখোমুখি হয়েছিলেন হাসান। ডারউইন টেস্টে ধারাভাষ্যের দায়িত্ব পালন করা অস্ট্রেলিয়া

টস জিতে অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিং নেওয়ার পর শঙ্কা ছিল তাদের রান পাহাড়ে চেপে বসার। তবে দিনের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পেসাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চেপে ধরলেন হেড-স্মিথদের। হাসানের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ের পর প্রথম দিনে বাংলাদেশকে চালকের আসনে নিয়ে গেছেন ব্যাটসম্যানরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে নিজেদের

কাউন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত বোলিং করে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে তেমন কিছু করতে পারেননি বলেই হয়ত হাসান মাহমুদকে নিয়ে প্রত্যাশা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের প্রথম ইনিংসেই তিনি প্রমাণ করলেন, কেন সুইং বোলিংয়ে এই মুহূর্তে দেশের সেরা পেসার তিনি। ডারউইনের প্রায় একাই

ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের সামর্থ্য টের পেল অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদ ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিয়েন ১৯৮ রানে। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন হাসান। টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের কোনো পেসারের তৃতীয় সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।

২০০৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় দল যখন প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিল, তখন সেটিকে বিবেচনা করা হচ্ছিল ডেভিড ও গোলিয়াথের লড়াই হিসেবে। বিশ্বজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলে তখন তারকার হাট, আর টেস্ট ক্রিকেটে হাঁটি হাঁটি পা করা বাংলাদেশ লাল বলের ক্রিকেটে শিক্ষানবিশ এক দল। সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট দুনিয়ায় তোলপাড়

অস্ট্রেলিয়া কেন বাংলাদেশকে টেস্ট খেলতে ডাকে না! দুই, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কেন বাংলাদেশের খেলাগুলো মেলবোর্ন, সিডনির, অ্যাডিলেডের মতো প্রচলিত ভ্যেনুতে অনুষ্ঠিত হয় না!

“ভাগ্য ভালো ইবাদত না করেনি। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বোর্ড ডাকলে সে খেলতে বাধ্য। তবে এভাবে এক মাস আগে একজনকে ছুটি দিয়ে আবার সেটা বাতিল করে তাকে ফিরিয়ে আনা আদর্শ নয়। আমরা তো ধরেই নিয়েছিলাম ইবাদতকে আর লাগবেই না। অথচ দেখুন, এখন পেসারই পাচ্ছি না অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার জন্য।”

বিপদের শঙ্কা থাকার পরও যখন নাহিদকে যত্রতত্র খেলিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে সামনে চলে আসে অনেক প্রশ্নই। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, জিম্বাবুয়েকে হারাতে মরিয়া হয়েই কি নাহিদকে অতিরিক্ত ব্যবহার করেছে বিসিবি?

সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের অন্যতম কঠিন অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে চোটের থাবায় রীতিমত বিপর্যস্ত বাংলাদেশ দল। আরেক পেসার শরীফুল ইসলামেরও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টে খেলার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চোটে। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে লিটন দাস সিরিজের শুরু থেকে খেলা নিয়েও রয়েছে কিছুটা অনিশ্চয়তা।

আপনার সামনে রয়েছে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ, স্বাগতিক দেশের সবাই অপেক্ষায় আপনার দলের একজন পেসারকে দেখার জন্য। কি করবেন, বা কি করা উচিত? বিশ্বের অন্য ক্রিকেট বোর্ড যাই করুক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঠিক এর উল্টোটা করে দেশের ক্রিকেটের ইমেজকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে।

আগামী ১৩ থেকে ১৭ আগস্টে ডারউইনে হবে প্রথম টেস্ট। আর ম্যাকাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ম্যাচ, যা শুরু ২২ আগস্ট।

চোটের কারণে এই সিরিজে খেলতে পারেননি লিটন দাস। অধিনায়কের পাশাপাশি তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানও। সঙ্গে কিপিং তো আছেই। গোটা সিরিজেই লিটনের শূন্যতা অনুভব করেছে বাংলাদেশ দল। মোটাদাগে ব্যর্থ হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়।

একপ্রান্ত আগলে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত ব্যাট করে একাই লড়ে যান তাওহীদ। ৩০ বলে ৩০ রান থেকে শেষের দিকে কিছু বড় শট খেলে পূর্ণ করেন এই ফরম্যাটে নিজের সপ্তম ফিফটি। যদিও শেষ ওভারে পাঁচ বলে মাত্র এক রান বের করতে পারেন তিনি।

পারভেজ অনেক চেষ্টা করেছিলেন, তবে বল আর রানের ব্যবধান আর কমাতে পারেননি সেভাবে। তার ৩৬ রানের ইনিংস তাও কিছুটা আশার সঞ্চার করে বাংলাদশ শিবিরে।

আবদুল গাফফার সাকলাইনকে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সবাই চেনেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে। টি-টোয়েন্টি দলে তাকে নেওয়া সেই ভূমিকাতেই। তবে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় সাকলাইনের হাতে তুলে দিলেন নতুন বল। সুযোগ কাজে লাগানোর বদলে তিনি ভুলে যাওয়ার মত এক স্পেল উপহার দিলেন। সঙ্গে অন্য বোলারদের কঠিন এক দিনে

ছেলেদের ম্যাচে চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারলেও তাও কিছুটা লড়াই করতে পেরেছিলেন তাওহীদ-মোস্তাফিজরা। তবে নারী দল স্রেফ উড়ে গেছে বিশ্বকাপের মঞ্চে।

শুরু থেকেই উইকেট পতনের মিছিল শুরু করে বাংলাদেশ। শেখ মেহেদীর ২৯ সর্বোচ্চ। ছোট লক্ষ্যের জবাবে ১০ বল ও ৪ উইকেট হাতে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।

একদিন আগেই তৃতীয় ওয়ানডের জন্য অপরিবর্তিত স্কোয়াড ঘোষণা করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচের আগে এসেছে পরিবর্তন। ১৯ মাস পর ডাক পেয়েছেন স্পিন অলরাউন্ডার শেখ মাহেদি হাসান।

দুই দলের মধ্যকার পঞ্চম দ্বিপক্ষীয় সিরিজে এসে প্রথমবার জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। এর আগের চারটি ছিল তিন ম্যাচের, আর প্রতিবার অস্ট্রেলিয়ার জয় ছিল ৩-০ ব্যবধানে। এবার সেই সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। সিরিজের শেষ ম্যাচ আগামী ১৪ জুন।