ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের পেসারদের সামর্থ্য টের পেল অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদ ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিলেন ১৯৮ রানে। ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন হাসান। টেস্ট ক্রিকেটে এটি বাংলাদেশের কোনো পেসারের তৃতীয় সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
হাসান তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে চালিয়েছেন ধ্বংসযজ্ঞ। অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটই নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ১০ উইকেটই তুলে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা। মজার ব্যাপার, রাওয়ালপিন্ডিতেও ৫ উইকেট নিয়েছিলেন হাসান।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। কিন্তু শুরু থেকেই মনে হয়েছে খেলাটা যেন বাংলাদেশের কোনো মাঠে হচ্ছে, পেসারদের বোলিং দেখে মনে হয়েছে খেলাটা ডারউইনে হলেও কন্ডিশনটা তাদের খুব চেনা।
ডারউইনের মারারা ওভালের উইকেটে ঘাস ছিল। সেই ঘাসের সুবিধা দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
ওপেনিংয়ে ৪৫ রানের জুটি ছাড়া আর কোনো জুটি বড় হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। বাংলাদেশ তুলে নেয় ৪ উইকেট। মধ্যাহ্ন বিরতির আগ পর্যন্ত হাসান ২টি আর তাসকিন ও ইবাদত তুলে নেন ১টি করে উইকেট। প্রথম সেশনের মতো দ্বিতীয় সেশনেও আরও ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া প্রথম সেশনে তোলে ৭৪ রান। যদিও দ্বিতীয় সেশনে তারা তোলে আরও ১০৯ রান।
লাঞ্চের পর থেকেই দ্রুত গতিতে রান তোলার চেষ্টা করেছে অস্ট্রেলিয়া। স্মিথের সঙ্গে মিলে এই কাজটা করছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি।
ক্যারিকে বোল্ড করে ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন ইবাদত। এরপর বো ওয়েবস্টারের সঙ্গে স্মিথের জুটি থেকে আসে ১৫ বলে ২৩ রান। দারুণ এক ডেলিভারিতে ওয়েবস্টারকে ফেরান তাসকিন। প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে আউট করেন হাসান।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ৭১ করেছেন স্টিভেন স্মিথ। তিনি ফেনেস হাসানের বলে। হাসান তুলে নেন ট্রাভিস হেড, জ্যাক ওয়েদারাল্ড, প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক ও নাথান লায়নের উইকেট। তাসকিন ফেরান ক্যামেরন গ্রিন ও বিউ ওয়েবস্টারকে। ইবাদতের শিকার হয়েছেন মারনাস লাবুশান ও অ্যালেক্স ক্যারি।
এই প্রতিবেদন লেখার সময় বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে বিনা উইকেটে তুলে নিয়েছে ৩০ রান। সাদমান ইসলাম ১৮ ও তানজিদ হাসান তামিম ৫ রানে অপরাজিত।
যদিও ইনিংসের শুরুতে জীবন পেয়েছেন তানজিদ হাসান। পয়েন্টে ক্যাচ তুলেছিলেন, কিন্তু সেটা ধরতে পারেননি নাথান লায়ন।