কাউন্টি ক্রিকেটে দুর্দান্ত বোলিং করে জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়েছিলেন। তবে সেখানে তেমন কিছু করতে পারেননি বলেই হয়ত হাসান মাহমুদকে নিয়ে প্রত্যাশা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজের প্রথম ইনিংসেই তিনি প্রমাণ করলেন, কেন সুইং বোলিংয়ে এই মুহূর্তে দেশের সেরা পেসার তিনি। ডারউইনের প্রায় একাই ধসিয়ে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়াকে।
নাহিদ রানা সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর বাংলাদেশের পেস আক্রমণ নিয়ে সংশয়ের জায়গা ছিল অনেক। অভিজ্ঞ তাসকিনের সঙ্গে হাসান থাকার পরও অনেকে ধরেই নিয়েছিলেন, বাংলাদেশের পেসাররা হয়ত সুবিধা করতে পারবেন না। ডারউইন টেস্টের প্রথম দিন হাসান অন্তত এই বার্তাটা দিতে পেরেছেন, নাহিদ ছাড়াও বাংলাদেশে বিশ্বমানের পেসার আছেন।
এক বছর আগেও বাংলাদেশের টেস্ট দলে নিয়মিত মুখ ছিলেন হাসান। তবে নাহিদের উথান আর নিজের ফর্মহীনতা মিলিয়ে দলে জায়গা হারিয়ে ফেলেন। অথচ টেস্ট ক্যারিয়ারের শুরুতেই ভারত এবং পরে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নিয়ে হাসান অনেক সম্ভাবনা দেখিয়েছিলেন।
টেস্ট বোলার হিসেবে হাসানের সেরা সময়ের সূচনা ২০২৪ সালেই। ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেওয়ার পরের ম্যাচটি খেলেন তারকায় ঠাসা ভারতের বিপক্ষে। টানা দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়ার পথে তার শিকার ছিলেন রোহিত শর্মা, শুবমান গিল, বিরাট কোহলি, রিশাভ পন্তরা। চেন্নাইয়ের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে হাসান বলকে কথা বলান ‘ও-বল’ সিম দিয়েই।
এরপর নিয়মিতই ছিলেন দলে। গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টের পর বাদ পড়েন। এরপর ডাক পান গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, সেটাও একাধিক পেসার বিশ্রামে থাকায়। মাঝের এই সময়ে হাসান পেস আক্রমণে এতোটাই পিছিয়ে পড়েছিলেন যে, ব্যাকআপ পেসার হিসেবেও তাকে স্কোয়াডে রাখা হয়নি।
কঠিন এই সময়ে কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের কাছ থেকে ডাক পান। মাত্র দুটি লাল বলের ম্যাচেই যেন নিজেকে ফিরে পান হাসান। চেনা ছন্দে ও-বল সিমে নাকানিচুবানি খাওয়ান ব্যাটসম্যানদের। ইংলিশ কন্ডিশনে হাসানের বোলিং দেখে ধারাভাষ্যকাররাও বলছিলেন, এত ভালো একজন পেসার কীভাবে জাতীয় দলের বাইরে থাকেন!
তবে বাস্তবতা হল, নাহিদ এবং শরীফুল ইসলাম ফিট থাকলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে হাসান একাদশেও হয়ত থাকতেই পারতেন না। বাংলাদেশ দলের সাম্প্রতিক পেস বিপ্লবের অন্যতম সেনানী হয়েও হাসানকে তাই প্রতিটি ম্যাচেই নিজেকে প্রমাণ করে যেতে হচ্ছে।
প্রথম দিনে অবশ্য হাসান যে বোলিংটা করেছেন, সেটা অস্ট্রেলিয়ার একজন পেসার করতে পারলেও বর্তে যেতেন। প্রথম ঘণ্টায় দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড এবং জ্যাক ওয়েদারল্যান্ড ভালো খেলছিলেন। দুজনকেই ফেরান হাসান। এর মধ্যে ওয়েদারল্যান্ড উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সেই ও-বল সিমে পরাস্ত হয়েই। শেষের চার উইকেটের তিনটিই বোলাররা হলেও ম্যাচের প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
হাসানের পঞ্চম উইকেট ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস সর্বোচ্চ ৭১ করা স্টিভ স্মিথ। ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। তবে এখানেও হাসান বুদ্ধির খেল দেখিয়েছেন। আগেই স্মিথকে এগিয়ে আসতে দেখে বাউন্সার দেন, যা ব্যাটে-বলে আর করতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।
হাসান স্পেল শেষ করেছেন টেস্ট ক্যারিয়ারে বল হাতে তার সেরা সাফল্য দিয়ে। হাসানের ৫৫ রানে ৬ উইকেট তার তো বটেই, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পেস বিপ্লবের বড় একটা বিজ্ঞাপনও। হাসান দেখিয়েছেন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে গতির ঝড় না তুলে সিম বোলিং দিয়েও কীভাবে বাজিমাত করা যায়।