
২০০৩ সালের মুলতান টেস্টের শেষ দিনের খেলা শুরুর আগেই বাংলাদেশে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ক্রিজে ইনজামাম-উল-হকের মতো ব্যাটসম্যান থাকলেও পাকিস্তান যে ম্যাচটা জিতে যেতে পারে, সেই বাস্তবতা যেন সবাই ভুলেই গিয়েছিল।

শেষ দিনে তিন উইকেট হাতে রেখে পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ১২১ রান। ঢাকার মতো সিলেটে কি জয় তুলে নেবে বাংলাদেশ, নাকি তবে অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চকর এক সমাপ্তি।

সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিন চা-বিরতির আগে টপাটপ তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে এখন পাকিস্তান। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৫ উইকেটে তাদের সংগ্রহ ২০৮ রান। জয়ের জন্য এখনো প্রয়োজন ২২৯ রান।

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে ২৪ ওভার খেলা হয়েছে। পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০২। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ৩৩৬ রান।

শতক পূর্ণ হতেই সেই খ্যাপাটে উদযাপন। এক হাতে ব্যাট ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কী যেন বললেন। এরপর ‘কাম অন’ চিৎকারে পাকিস্তানের অসহায় বোলারদের যেন আরও কুঁকড়ে দিতে চাইলেন।

শেষ বিকেলে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ৩৯০ রানে। ১৩৭ রানের ম্যারাথন ইনিংস খেলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মুশফিকুর। তার এই ইনিংস কার্যত ম্যাচ থেকেই ছিটকে দিয়েছে পাকিস্তানকে।

৫৭ রানে একবার জীবন পান লিটন। এরপর যোগ করেন আরও ১২ রান। তবে ৯২ বলে তার ৬৯ রানের ইনিংসটি পাকিস্তানের ম্যাচে ফেরার আশাকে প্রায় শেষ করে দিয়েছে।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের একজন বোলারের তিনটি বলের গতি ঘণ্টায় ১৪৮; ১৪৯ ও ১৫০ কিলোমিটার বেগে–এমন দৃশ্য বছর তিনেক আগেও ছিল যেন ‘অলীক কল্পনা’! আজ সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ক্রমেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা নাহিদ সেটাই করে দেখিয়েছেন।

১৭তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের মিডল স্টাম্প লাইনের ডেলিভারি, মাহমুদুল হাসান জায়গায় দাঁড়িয়ে লেগ সাইডে উড়িয়ে মারলেন চার। এই শটেই পূর্ণ হয় ফিফটি। গোটা ইনিংসে শুধু এই শটটাই যেন সিলেট টেস্টে তাকে খেলানো নিয়ে সব প্রশ্নের জবাব।

প্রথম টেস্টে ৫ উইকেট নিলেও নাহিদ রানার অসাধারণ এক স্পেলে আড়ালেই ছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে দেশের মাটিতে টেস্টে যে তিনি বরাবরই ভীষণ কার্যকর এক বোলার, তার প্রমাণ রাখলেন সিলেটেও। দ্বিতীয় দিনের সকালের সেশনে পাকিস্তানকে চাপে রাখলেন বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং দিয়ে। আর অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ উপহার দিলেন আরেক

লিটন ও শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ২৭৮ রানে। জবাবে পাকিস্তান করেছে বিনা উইকেটে ২১ রান। এখনো তারা পিছিয়ে ২৫৭ রানে।

২৬ ওভারে ১০১ রানে ৩ উইকেট থেকে ৪০ ওভারে ৬ উইকেটে ১১৭ রান–উইকেট বা শুধু ওভার আর রানের হিসাব করলে এটাকে টেস্ট ক্রিকেটের আদর্শ ব্যাটিং বলতেই পারেন।

জোর গুঞ্জন ছিল প্রথম টেস্টেই অভিষেক হওয়ার। সেটা না হলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে লাল বলের ক্রিকেটে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলছেন তানজিদ হাসান। তাকে দলে নেওয়ার মূল কারণই ইতিবাচক ব্যাটিং। শুরুটাও হয়েছিল দারুণ। প্রায় ৯০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করছিলেন। তবে সেটা আর ধরে রাখতে পারেননি। পাকিস্তানি পেসারদে

মোহাম্মদ আব্বাস প্রথম ইনিংসে নেন ৫ উইকেট। দুই ইনিংসেই ভালো করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলিও। তবে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়া বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানার ধারেকাছেও ছিলেন না তারা। আব্বাসের কিছু ডেলিভারি ছিল মিডিয়াম পেস গতির।

মোহাম্মদ আব্বাস প্রথম ইনিংসে নেন ৫ উইকেট। দুই ইনিংসেই ভালো করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলিও। তবে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়া বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানার ধারেকাছেও ছিলেন না তারা। আব্বাসের কিছু ডেলিভারি ছিল মিডিয়াম পেস গতির।