Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> ভাবনা

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনায় যেভাবে ফায়দা লুটছে পাকিস্তান

হুমা সিদ্দিকী

হুমা সিদ্দিকী

প্রকাশ : ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬: ৪৮
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনায় যেভাবে ফায়দা লুটছে পাকিস্তান

সম্প্রতি ঢাকায় ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড, এর কয়েকদিন পর খুলনায় মোতালেব শিকদারকে হত্যাচেষ্টার ঘটনা আবারও বাংলাদেশকে আগের সেই বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিতে ঠেলে দিচ্ছে। আবারও দেশটিতে আতঙ্ক-জল্পনা সৃষ্টি ও রাজনৈতিক ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এমন অনিশ্চয়তার সময়ে সহিংসতার প্রভাব স্বভাবতই অন্যদিকে মোড় নিয়ে নেয়।

Advertisement

এসব ঘটনায় কারা লাভবান হচ্ছে? কারা নজর রাখছেন? এসব ঘটনায় যেসব ন্যারেটিভ সামনে আসছে, সেগুলো কাদের মদদপুষ্ট? এই প্রশ্নগুলো খুবই প্রাসঙ্গিক। কিন্তু প্রায়ই ভুল পদ্ধতিতে এসব প্রশ্ন তোলা হয়।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হামলাগুলো ব্যাখা করতে হলে বাইরের কোনো পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশ একটি নাজুক রাজনৈতিক রুপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে এখানে নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে, প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে আর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দীরা নিজেদের সক্ষমতার পরীক্ষা দিচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকেই সহিংসতার সূত্রপাত হতে পারে। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বের ইতিহাসেই এমন অনেক উদাহরণ আছে, যেখানে বাইরের কোনো সংযোগ আছে কিনা সেটি ঘটনা ঘটার সময় নয় বরং পরে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আধুনিক ভূরাজনীতিতে ঘটনা ঘটিয়ে প্রভাব বিস্তার খুব একটা হয় না। এর পরিবর্তে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে প্রভাব বিস্তার করা হয়। সাধারণত প্রতিটি সহিংসতার ঘটনার পর রাজনৈতিক পরিবেশে পরিবর্তন আসে। তীব্র আকার ধারণ করে আবেগ, পরস্পরের প্রতি আস্থা দূর্বল হতে থাকে। এই সুযোগে কোনো অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে সেই জায়গাটা দখল করে গুজব। আর তখনই পরোক্ষ প্রভাব কার্যকর হতে থাকে। কিন্তু কোনো ঘটনা ঘটিয়ে এই প্রভাব বিস্তার করা হয় না, বরং এসব ঘটনার ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে এরপর প্রভাবের শুরু।

ডিসেম্বরে চালু হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট: এক্সপ্রেস ট্রিবিউনpakistan dhaka flight

বাংলাদেশ প্রশ্নে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই এই নীতি অনুসরণ করে আসছে। কারণ সরাসরি হস্তক্ষেপে বেশকিছু ঝুঁকি থাকে। যেমন, ঘটনার দায় নিতে হতে পারে, কূটনৈতিক সম্পর্ক ভাঙন ও উত্তেজনার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পক্ষান্তরে পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তারে দায় নিতে হয়না। দায়িত্ব না নিয়েই প্রাসঙ্গিক থাকা যায়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টায় ঠিক এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে এই কৌশল সবচেয়ে কার্যকর।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই রাস্তা আরও পরিষ্কার করে দিয়েছে। জাতীয় পরিচয়, ধর্মনিরপেক্ষতা, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে কাদের অবদান কেমন–এসব নিয়ে বিতর্ক বরাবরই বিদ্যমান ছিল। চাপের মুখে এসব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে। সহিংসতা একে আরও বেশি উস্কে দেয়। এই সময়গুলোতে রাজনৈতিক মতভেদ পরিণত হয় ক্ষোভে, ফলে আলোচনার সুযোগ নষ্ট হয়।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে আপনা-আপনিই কিছু ন্যারেটিভ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এরমধ্যে রয়েছে, ইতিহাসের অসম্পূর্ণ নিষ্পত্তি, জবাবদিহিতাই অস্থিরতার কারণ কি না, কিংবা বৃহত্তর আদর্শিক বা ধর্মীয় পরিচয়ের আহ্বান।

এমন না যে এসব বিষয় বাইরে থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ঢুকানো হচ্ছে বা হয়েছে। এগুলো আগে থেকেই ছিল বা আছে। পরিবর্তন হচ্ছে তীব্রতা ও বিস্তারের গতিতে।

পাকিস্তান এখানে তীব্রতা বাড়ানোর ভূমিকা পালন করে। কোনো দিকনর্দেশনা না দিয়ে সহানুভূতির সুরে বলা কথা, মতাদর্শগতভাবে মিল রাখা বক্তব্য, প্রবাসী আলোচনাসভা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এমন ন্যারেটিভকে জোরদার করে, যা পাকিস্তানের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসবের তেমন কোনো প্রমাণও থাকে না। এক্ষেত্রে অনুসরণ করার মতো কোনো নির্দেশনা খুঁজে পাওয়া যায়না, আবার উন্মোচন করার মতো কোনো যোগসূত্রও থাকে না। কোনো অভিযোগ উঠলেও প্রমাণের অভাবই হয়ে ওঠে প্রতিরক্ষার হাতিয়ার। উপেক্ষা করা হলেও ন্যারেটিভগুলো ছড়িয়ে পড়ে। উভয়ক্ষেত্রেই গ্রহণযোগ্য অস্বীকৃতি বজায় থাকে।

বাংলাদেশ-ভারত চাইছে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে, শেখ হাসিনার কী হবে?yunus modi

এই কৌশলের কার্যকারিতা নির্ভর করে মূলত ধৈর্যের ওপর। পাকিস্তানের দরকার নেই বাংলাদেশে কোনো সংকট তৈরি করার। তারা বরং সংকট তৈরি হওয়ার জন্য অপেক্ষা করে।

অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাই অনেক সময় এমন সংকট তৈরি করে, যা বাইরে থেকে করা সম্ভব নয়। একবার এমন সুযোগ হয়ে গেলে, সামান্য চেষ্টাতেই প্রভাব বিস্তার করা সম্ভব। বাংলাদেশকে বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে–দেশটির জন্য এর চেয়েও বড় ঝুঁকি হলো ভেতরের দুর্বলতাই দেশটিকে এমন ন্যারেটিভের জন্য সুযোগ করে দিচ্ছে।

প্রতিটি অমীমাংসিত হামলা বিশ্বাস ও আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তদন্তে বিলম্ব হলে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরির সুযোগ হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনা বাস্তবতা থেকে দূরে সরে যায়, জবাবদিহিতা পরিণত হয় অভিযোগে।

এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ নয়। একদিকে, অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া বাইরের ন্যারেটিভকে আরও জোরালো করতে পারে। আবার নীরবতা সেগুলোকে স্থায়ীও করতে পারে। কঠিন হলেও সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ হলো এসব হামলার ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত, দৃশ্যমান আইনপ্রয়োগ এবং সব পক্ষের রাজনৈতিক সংযম। আত্মবিশ্বাসই পরোক্ষ প্রভাবের সবচেয়ে বড় শত্রু।

এ ছাড়াও সমস্যার ভুল ব্যাখ্যাও এড়িয়ে চলা জরুরি। পরোক্ষ প্রভাবকে সরাসরি আগ্রাসন হিসেবে দেখলে মূল সমাধান না করেই উত্তেজনা বাড়তে পারে। আবার একে পুরোপুরি উপেক্ষা করলে তথ্য অরক্ষিত থেকে যায়। আজকের দিনে কীভাবে নীরবে প্রভাব বিস্তার করা যায়, তা বোঝাটা জরুরি।

লেখক: হুমা সিদ্দিকী, ভারতীয় সাংবাদিক

লেখাটি স্ট্রেটনিউজ গ্লোবালে প্রকাশিত নিবন্ধ থেকে অনুবাদ করে প্রকাশিত

বিষয়: পাকিস্তানবাংলাদেশহত্যাকাণ্ডহত্যারাজনীতিওসমান হাদিভারত
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    এসআরবির অভিযানে শ্রমিকের মৃত্যু: গুলি করা ‘দুর্বৃত্ত’ আসলে কারা?

  • ২

    খুলনায় তাঁতীদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

  • ৩

    ব্র্যাক ব্যাংকের ‘ওমনিচ্যানেল’ সেবা চালু

  • ৪

    মহড়ায় অংশ নিতে চট্টগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর জাহাজ ইউএসএস ওয়ারিয়র

  • ৫

    স্থানান্তরিত করা হলো এবি ব্যাংকের অষ্টগ্রাম শাখা

সম্পর্কিত
  • ভোটার তালিকা: ভারতের বিরোধীরা কি দ্বিচারিতায় ভুগছে?

    ভোটার তালিকা: ভারতের বিরোধীরা কি দ্বিচারিতায় ভুগছে?

    মুসলিম সম্প্রদায়ের বাইরেও অন্যান্য ভোটাররা যে এখন ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করছেন, তা সুরক্ষাকবচের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। কিন্তু এই সুরক্ষাকবচ আসলে কাদের রক্ষা করার জন্য?

  • রাষ্ট্র যখন আত্মসংযম দেখাচ্ছে, তখন কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে?

    রাষ্ট্র যখন আত্মসংযম দেখাচ্ছে, তখন কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে?

    মানবাধিকার সংগঠন এমএসএফের (মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন) অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির একটি পরস্পরবিরোধী চিত্র তুলে ধরেছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনে আহতের ঘটনা শূন্যে নেমেছে, কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে।

  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্