Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০১ নভেম্বর, ২০২৬
০১ নভেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> ভাবনা

ভোটার তালিকা: ভারতের বিরোধীরা কি দ্বিচারিতায় ভুগছে?

নাবিয়া খান

নাবিয়া খান

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৮: ৩০
ভোটার তালিকা: ভারতের বিরোধীরা কি দ্বিচারিতায় ভুগছে?
ভারতজুড়ে বিরোধী দল, শিক্ষার্থী এবং কৃষকরা ভোটার তালিকা ব্যাপকভাবে সংশোধনের প্রতিবাদ করছেন। ফাইল ছবি

ভারতজুড়ে বিরোধী দল, শিক্ষার্থী এবং কৃষকরা ভোটার তালিকা ব্যাপকভাবে সংশোধনের প্রতিবাদ করছেন—যে প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তারা পুরোনো ভোটার তালিকা পুনর্বহাল এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) এই প্রক্রিয়াটিকে ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচি হিসেবে অভিহিত করছে; এর আওতায় ভোটারদের—প্রায়শই পুরোনো নথিপত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে—তাদের ভোটাধিকারের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হচ্ছে।

Advertisement

ছয় বছর আগে, মুসলমানরা রাস্তায় নেমে সতর্ক করেছিলেন যে, নাগরিকত্বকে এ ধরনের নথিপত্রের ওপর নির্ভরশীল করে তুললে লাখ লাখ মানুষ—বিশেষ করে মুসলমানরা—তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তখন তাদের সেই সতর্কবার্তাকে বড় কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। এখন যেহেতু তালিকা থেকে বাদ পড়ার এই ঝুঁকি কেবল মুসলমানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, তাই যারা আগে সেই সতর্কবার্তাকে উপেক্ষা করেছিলেন, তারাও এখন রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করছেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ভারতের নয়াদিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করছেন বিরোধী দলের সমর্থকেরা। ফাইল ছবি
ভারতের নয়াদিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করছেন বিরোধী দলের সমর্থকেরা। ফাইল ছবি

এই প্রতিবাদগুলোতে ভারতের সাধারণ মানুষকে একে অপরের জন্য ঝুঁকি নিতে দেখে আমি গর্ববোধ করছি। তবে বিরোধী পক্ষের প্রতিক্রিয়ায় যে ভণ্ডামি রয়েছে, তা আমি উপেক্ষা করতে পারি না। যদিও এসআইআর-কে চ্যালেঞ্জ জানানো সঠিক পদক্ষেপ। তবুও তাদের দাবির মধ্যে ২০১৯ সালের সেই নাগরিকত্ব আইনের বিষয়টি অনুপস্থিত—যার বিরুদ্ধে মুসলমানরা প্রতিবাদ করেছিল এবং যে আইনের কারণে তাদের ওপর ‘অনুপ্রবেশকারী’ হওয়ার সন্দেহ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

যারা এখন এই সংশোধনের বিরুদ্ধে মিছিল করছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ২০১৯ সালের সেই প্রতিবাদগুলোরই বিরোধিতা করেছিলেন। প্রশ্ন হলো, এই আন্দোলন কি সেই বৈষম্যকে চ্যালেঞ্জ করবে, যার বিষয়ে মুসলমানরা আগেই সতর্ক করেছিল? নাকি এটি কেবল তাদের সুরক্ষার দাবি জানাবে, যারা এখন একই ব্যবস্থার যাঁতাকলে পড়েছেন?

মোদির দমন-পীড়ন: চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতের গণতন্ত্রindia-Protest

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে পার্লামেন্ট ‘নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন’ (সিএএ) পাস করে। এই আইনের মাধ্যমে তিনটি মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা ছয়টি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিপীড়িত মানুষদের দ্রুত নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এই অঞ্চলের প্রধান ধর্মগুলোর মধ্যে একমাত্র ইসলাম ধর্মকেই এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

বিপদটি ছিল সেই বিষয়টির মধ্যে, যা সরকার এর সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছিল। সেই এপ্রিল মাসে, ভারতের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পূর্বের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ—যার রাজধানী কলকাতা—সেখানে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “ঘটনাপ্রবাহটি বুঝুন”: প্রথমে নাগরিকত্ব বিল, আর তার পরে ‘ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস’ বা এনআরসি। এনআরসি হলো ভারতীয় নাগরিকদের একটি দেশব্যাপী তালিকা; এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য প্রত্যেককে তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হতো। ২০১৯ সালের নভেম্বরে তিনি সংসদে জানিয়েছিলেন যে, সারা দেশজুড়ে এনআরসি কার্যকর করা হবে।

মুসলিমরা তাৎক্ষণিকভাবেই এই পুরো প্রক্রিয়াটির উদ্দেশ্য বুঝে ফেলেছিল। যারা নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হতো, তাদের এই তালিকা থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতো। যে মানুষগুলোর মাথা গোঁজার ঠাঁই জোগাড় করা বা দিনে দুবেলা অন্নসংস্থান করাই কঠিন, তাদের কাছ থেকে কীভাবে এমন সব পুরোনো নথিপত্র আশা করা যায়, যা আগে কখনো তাদের কাছে চেয়ে রাখা হয়নি? সেক্ষেত্রে, সিএএ—অর্থাৎ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন—এর আওতায় যারা বাদ পড়ত, তাদের জন্য নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি হতো; তবে সেই সুযোগ থেকে মুসলিমদের বাইরে রাখা হয়েছিল।

দিল্লিতে মুসলিম নারীরা শাহিনবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন, যা পুরো শীতকাল জুড়ে অব্যাহত ছিল। তারা কেবল ভবিষ্যতের এনআরসি নিয়ে সতর্ক করছিলেন তা-ই নয়, বরং ধর্মীয় ভিত্তিতে বৈষম্যমূলক এই নাগরিকত্ব আইনটিকেও মেনে নিতে অস্বীকার করেছিলেন। ২২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জোর দিয়ে বলেন যে, তার সরকার কখনোই দেশব্যাপী এনআরসি নিয়ে কোনো আলোচনা করেনি। দেশের অনেকেই তার এই কথাকে বিশ্বাস করেছিলেন।

জেন-জি’দের কেন বশে আনতে পারছে না মোদি সরকারindia-Protest-5

ছয় বছর পর, অন্য একটি দপ্তরের পক্ষ থেকে ভিন্ন নামে নথিপত্র চাওয়া হচ্ছে। ২০২৫ সালের ২৪ জুন বিহার রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের নির্দেশ দেওয়ার সময়, ভারতের নির্বাচন কমিশন এর কারণগুলোর মধ্যে ‘অবৈধ বিদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকার’ বিষয়টি উল্লেখ করেছিল। তাদের নথিপত্র সংক্রান্ত নিয়মগুলো দুটি জন্ম তারিখ—১ জুলাই, ১৯৮৭ এবং ২ ডিসেম্বর, ২০০৪—কে কেন্দ্র করে নির্ধারিত ছিল। জন্মের তারিখ যত পরের দিকের হতো, তত বেশি সংখ্যক নথিপত্র (বাবা-মায়ের নথিসহ) জমা দিতে হতো। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী জানিয়েছেন যে, এই সংশোধনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০০৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী নাগরিকত্ব যাচাই করা হচ্ছে। এর অর্থ হলো, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এনআরসি ঘোষণা না করা সত্ত্বেও, ভোটার তালিকাকে কার্যত নাগরিকদের নিবন্ধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

গত ডিসেম্বরে সংসদে অমিত শাহ বলেছিলেন যে, এসআইআর-এর উদ্দেশ্য হলো “অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করা, তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া এবং তাদের বহিষ্কার করা”। তিনি শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে পার্থক্যের ভিত্তি হিসেবে তাদের উদ্দেশ্যকে সামনে এনেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শরণার্থীরা নিরাপত্তার সন্ধানে (ধর্মীয় কারণে) আসেন, আর অনুপ্রবেশকারীরা আসেন অর্থনৈতিক কারণে। সিএএ আইনেও এই পার্থক্যটিই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় রাজনীতিতে অনুপ্রবেশকারী শব্দটি একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুকে নির্দেশ করে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী—যিনি বর্তমানে রাজ্যের মূখ্যমন্ত্রী—প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, এসআইআর-এর মাধ্যমে “ভোটার তালিকা থেকে বাংলাদেশি মুসলিমদের নাম কেটে দেওয়া হবে”। নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত জানায়নি যে, তারা ঠিক কতজন বিদেশিকে শনাক্ত করতে পেরেছে।

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াটি পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে, তাই এখানে এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়। এপ্রিল মাসে রাজ্যে ভোটগ্রহণের আগে প্রায় ৯১ লাখ নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, যা মোট ভোটারের প্রায় ১২ শতাংশ। বুথ পর্যায়ের একটি হিসাব অনুযায়ী, বাদ পড়া ব্যক্তিদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ছিলেন হিন্দু। এর বেশির ভাগই বাদ পড়েছিলেন প্রথম পর্যায়ে, যখন কর্মকর্তারা ভোটারদের অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা দ্বৈত নামধারী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই পর্যায়ে হিন্দু ও মুসলিমদের বাদ দেওয়ার হার ছিল মোটামুটি তাদের জনসংখ্যার অনুপাতে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে রাজ্য কর্তৃপক্ষকে কিছু বিচারিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নথিতে নির্বাচন কমিশন তথাকথিত ‘যৌক্তিক অসঙ্গতি’ খুঁজে পায় এবং তাদের বিষয়টি বিচারিক কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। এই অসঙ্গতি খুব সামান্যও হতে পারে—যেমন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কোনো অভিভাবকের নামের বানান যেভাবে ছিল, বর্তমান তালিকায় তা ভিন্নভাবে লেখা হয়েছে। বিচারিক কর্মকর্তারা ২৭ লাখ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেন। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তালিকার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই দ্বিতীয় পর্যায়ে বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই ছিলেন মুসলিম (তাদের পদবি দেখে এটি শনাক্ত করা হয়েছে)। অথচ, রাজ্যের মোট ভোটারের মধ্যে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় এক-চতুর্থাংশ। কলকাতার সাবর ইনস্টিটিউটের গবেষকরা দেখেছেন যে, পুরোনো ভোটার তালিকায় নিজেদের পরিবারের নাম খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে মুসলিমরা বরং বেশি সফল ছিলেন এবং কর্মকর্তারা যখন বাড়িতে গিয়েছেন, তখন তাদের বাড়িতে পাওয়ার সম্ভাবনাও ছিল বেশি। অথচ, ঠিক সেই পর্যায়েই তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি একজন কর্মকর্তার নিজস্ব বিবেচনার ওপর নির্ভর করছিল।

দিল্লিতে ভোটার তালিকা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিরোধী দলের মিছিলRahul Gandh

গত বছরের অক্টোবরে, যখন ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গে পৌঁছায়, তখন রাজ্যের বিজেপি সীমান্ত জেলাগুলোতে প্রায় ৭০০টি ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা করে। এর উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন-এর অধীনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে সহায়তা করা। বার্তাটি ছিল এমন—যারা আবেদন করবেন, তাদের নাম ভোটার তালিকায় বহাল থাকবে। পশ্চিমবঙ্গে কোনো হিন্দু শরণার্থী পরিবারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে তাদের জন্য বিশেষ আইনি বিধান রয়েছে। কিন্তু কোনো মুসলিম পরিবারের ক্ষেত্রে একই নথির অভাব থাকলে তাদের যেতে হয় ট্রাইব্যুনালে, যেখানে জমে থাকা মামলার পাহাড় নিষ্পত্তি হতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

এই বাদ পড়ার ঘটনা কেবল পশ্চিমবঙ্গেই সীমাবদ্ধ নয়। দিল্লিতে ৩১ আগস্ট প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় শহরের মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৪৭ লাখ ৫০ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। শাহিন বাগ ও জামিয়া নগর এলাকা নিয়ে গঠিত দিল্লির বিধানসভা কেন্দ্র ‘ওখলা’-য় মোট ভোটারের ৪৫ শতাংশ তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। দলিত প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত আসন ‘প্যাটেল নগর’-এ বাদ পড়েছে ৪২ শতাংশ ভোটার।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিকে সুবিধা দিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ করছেন লোকজন। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিকে সুবিধা দিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ করছেন লোকজন। ফাইল ছবি

মুসলিম সম্প্রদায়ের বাইরেও অন্যান্য ভোটাররা যে এখন ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম টিকিয়ে রাখার জন্য লড়াই করছেন, তা সুরক্ষাকবচের দাবিকে আরও জোরালো করে তোলে। কিন্তু এই সুরক্ষাকবচ আসলে কাদের রক্ষা করার জন্য?

এই আন্দোলনের দাবিগুলোই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। ৩০ সেপ্টেম্বর, বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স’ (ইন্ডিয়া) তাদের কিছু ‘অপরিবর্তনীয়’ দাবি পেশ করে। এর মধ্যে ছিল—প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ, এসআইআর-পূর্ববর্তী ভোটার তালিকা পুনর্বহাল, কাগজের ব্যালট ব্যবহার, আপিল করার সুযোগ রাখা এবং “কারিগরি বা প্রশাসনিক কারণে প্রকৃত ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ পড়া থেকে সুরক্ষা” প্রদান।

শেষোক্ত দাবিটির ক্ষেত্রে সমস্যা হলো, এটি কেবল একজন অসতর্ক সরকারি কর্মকর্তার ভুলের হাত থেকে প্রকৃত ভোটারকে রক্ষা করতে পারে। কিন্তু রাষ্ট্র যাদের ‘প্রকৃত ভোটার’ বলে গণ্য করছে না, তাদের বিষয়ে এখানে কিছুই বলা হয়নি। আর পশ্চিমবঙ্গে এই ‘অপ্রকৃত’ বলে চিহ্নিত ভোটারদের বড় অংশই ছিলেন মুসলিম। এই মাসে অমিত শাহ বিরোধী দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছে। এর জবাবে কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে, এসআইআর-এর মাধ্যমে আসলে কতজন অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করা গেছে এবং তার শাসনামলে অনুপ্রবেশের ঘটনা বেড়েছে কি না। এটি ছিল এক ধরনের ভর্ৎসনা, তবে একই সঙ্গে তারা অমিত শাহের মূল ভিত্তি বা যুক্তিটিকেও মেনে নিয়েছে।

ভারতের জেন-জি আন্দোলন থেকে কাশ্মীর কী শিক্ষা নিতে পারে?india

বর্তমানে যারা এই মিছিলগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এসআইআর-এর অস্তিত্ব আসার অনেক আগে থেকেই এই ধারণা পোষণ করতেন। ৪ অক্টোবর, পশ্চিম ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজধানী মুম্বাইতে উদ্ধব ঠাকরে ও রাজ ঠাকরে—এই সংশোধনী বাতিলের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, রাজ ঠাকরের দল ‘মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা’ মুম্বাইতে আজাদ ময়দান পর্যন্ত একটি মিছিল বের করে। তারা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে আসা ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ বহিষ্কারের দাবি জানায় এবং রাজ ঠাকরে একে সিএএ -বিরোধী আন্দোলনের ‘উপযুক্ত জবাব’ বলে অভিহিত করেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে বলেন যে, মুসলমানরা কেন সিএএ এবং এনআরসি-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

সুতরাং, সংহতির আসল পরীক্ষা হলো—মানুষ কি তাদের অধিকারের পক্ষে দাঁড়াবে, যাদের রাজনৈতিক দাবিগুলোকে অস্বস্তিকর, অতিরিক্ত সাম্প্রদায়িক বা জনসমক্ষে প্রকাশ করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়?

এই কারণেই সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের পর যারা কারাবন্দি হয়েছেন, তাদের বিষয়টি বর্তমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপট থেকে আলাদা করা যায় না। ২০২০ সালের দিল্লি সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ মামলায় সমাজকর্মী উমর খালিদ ও শারজিল ইমাম এখনও কারাগারে রয়েছেন। ভোটার তালিকা থেকে যাদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের উদ্বেগের বিকল্প হিসেবে এই ব্যক্তিদের মামলাগুলোকে দেখা যাবে না। তাদের দীর্ঘ কারাবাস একটি বড় পরীক্ষা—বর্তমান আন্দোলনটি কি তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত, যারা ২০১৯ সালে সিএএ-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন?

এই আন্দোলন যদি দেখাতে চায় যে তারা ২০১৯ সাল থেকে কিছু শিখেছে, তবে তাদের সিএএ-কে চ্যালেঞ্জ করতে হবে এবং দিল্লির ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ মামলায় যারা এখনও বন্দি আছেন, তাদের মুক্তির দাবি জানাতে হবে। যদি তারা কেবল পুরনো ভোটার তালিকা এবং কাগজের ব্যালটের দাবিতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তারা হয়তো এসআইআর-এর কারণে হুমকির মুখে থাকা মানুষদের রক্ষা করবে, কিন্তু সেই বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব আইনটি অপরিবর্তিত থেকে যাবে—যার বিরুদ্ধে ছয় বছর আগে মুসলমানরা প্রতিবাদ করেছিল।

লেখক: গবেষক, আন্দোলনকর্মী, কবি এবং রাইস ইউনিভার্সিটিতে নৃবিজ্ঞানের পিএইচডি শিক্ষার্থী।

(লেখাটি আলজাজিরার সৌজন্যে প্রকাশিত হলো।)

বিষয়: আন্তর্জাতিকভারতনির্বাচনভোটভোটাররাজনীতিবিরোধী দল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    বরিশালে পরিত্যক্ত স্থান থেকে ৯টি ককটেল উদ্ধার

  • ২

    রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে সুশাসনের ঘাটতি: টিআইবি

  • ৩

    বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় মুরাসু: সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি

  • ৪

    আত্মসমর্পণের পর কারাগারে শওকত আজিজ রাসেল

  • ৫

    হাম উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ২ শিশুর

সম্পর্কিত
  • রাষ্ট্র যখন আত্মসংযম দেখাচ্ছে, তখন কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে?

    রাষ্ট্র যখন আত্মসংযম দেখাচ্ছে, তখন কেন সংখ্যালঘু নির্যাতন বাড়ছে?

    মানবাধিকার সংগঠন এমএসএফের (মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন) অক্টোবর ২০২৬-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির একটি পরস্পরবিরোধী চিত্র তুলে ধরেছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু ও নির্যাতনে আহতের ঘটনা শূন্যে নেমেছে, কারা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যাও কমেছে।

  • প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    প্রবাসী শ্রমিকেরা কি কেবলই লাশ, কেবলই গিনিপিগ?

    চলতি বছর জানুয়ারি থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (মোট ২৭৩ দিন) ৯ মাসে দেশে এসেছে চার হাজার ৬০টি মরদেহ। এ হিসাবে দিনে মরদেহ এসেছে গড়ে ১৪টির বেশি। সবচেয়ে বেশি কর্মী মারা যান সৌদি আরবে, দুই হাজারের মতো। সরকার প্রবাসী কার্ড দেবে, ভালো কথা। কিন্তু বিদেশে গিয়ে যারা লাশ বা পঙ্গু হয়ে ফিরে আসেন, তাদের তো

  • স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ও গ্রেপ্তার: শব্দ নয়, অপরাধের বিচার হোক

    স্লোগান ঘিরে রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে। আর তা হলো, সমস্যা স্লোগানের উচ্চারণে, নাকি অপব্যবহারে? কারণ, রাজনীতির মাঠ-ময়দানে উচ্চারিত একটি স্লোগান কখনো কেবল কয়েকটি শব্দের সমষ্টি নয়: ইতিহাস, আবেগ, পরিচয়, রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা এবং কখনো কখনো মানুষের আত্মত্যাগের স্মৃতি। দৃষ্

  • আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা: দুধের বোতল থেকে বিশ্বরাজনীতির শিক্ষা

    সুপারমার্কেট থেকে দুই শতাংশ চর্বিযুক্ত দুধের একটি বোতল কেনার সময় সাধারণত কেউ আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথা ভাবেন না। ক্রেতার প্রত্যাশা থাকে, বোতলের গায়ে যা লেখা আছে, ভেতরের পণ্যও ঠিক তা-ই হবে। কিন্তু এই সাধারণ আস্থার পেছনেও রয়েছে আন্তর্জাতিক নিয়ম, মান নির্ধারণ এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের একটি বিস্তৃত