Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

এই দেশে এমন বিদায় কে পেয়েছে কবে!

নাইর ইকবাল

নাইর ইকবাল

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০: ৫০
এই দেশে এমন বিদায় কে পেয়েছে কবে!

যেদিকে চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ।

Advertisement

নানা শ্রেণির, নানা বয়সের, নানা পেশার মানুষ আসছিল দলে দলে। যদিও সবাই কী আর দল করে! কিন্তু তাতে কারো জড়ো হওয়ার আগ্রহে ভাটা পড়েনি। জড়ো হওয়ার কারণটি ছিল একজনকে শেষ বিদায় জানানো, শেষবারের মতো তাকে শ্রদ্ধা জানানো।

কী অসাধারণ এক বিদায়! লাখো মানুষের ভালোবাসায় বিদায়। এমন সৌভাগ্য আসলে কয়জনের হয়? দেশটির নাম যখন বাংলাদেশ, তখন সেই ‘সৌভাগ্য’ যেন আরও দুর্লভ হয়ে ওঠে।

খালেদা জিয়া বিদায়বেলায় যে সীমাহীন ভালোবাসা পেলেন, যে আকাশস্পর্শী শ্রদ্ধায় সিক্ত হলেন, সেটি অনন্য এক অধ্যায়। এই দেশে এর আগে আর কোন রাজনীতিবিদ কিংবা সরকারপ্রধান এমনভাবে বিদায় নিতে পেরেছেন!

Advertisement
Advertisement
Advertisement

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এমনিতেই বিশাল প্রান্তর। খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে আসা মানুষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, সংসদ প্লাজা ভরে গিয়েছিল আগেই, সেই জনস্রোত একদিকে মিরপুর সড়ক, অন্যদিকে ফার্মগেট, কাজী নজরুল ইসলাম অ্যাভিনিউ ও বাংলামোটরেও ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বলছেন—এই পোড়া দেশে শেষ কবে কোনো রাজনীতিবিদের এমন অসাধারণ, ভালোবাসায় পূর্ণ বিদায় ঘটেছে? এত মানুষের ভালোবাসা, আবেগমথিত শ্রদ্ধা শেষ কবে কোন রাজনীতিবিদের ভাগ্যে জুটেছে? খালেদা জিয়ার মৃত্যু যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মহাকালেরই পরিসমাপ্তি। আজ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তার নামাজে জানাজা দেখে মনে হয়েছে মহাকালের পরিসমাপ্তি বোধহয় এভাবেই হয়!

খালেদ জিয়া বিদায় নিলেন মানুষের ভালোবাসায়। ছবি: সংগৃহীত
খালেদ জিয়া বিদায় নিলেন মানুষের ভালোবাসায়। ছবি: সংগৃহীত

৪৪ বছর আগে স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামাজে জানাজা হয়েছিল মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক ব্যর্থ সেনা বিদ্রোহে নৃশংসভাবে নিহত হয়েছিলেন জিয়া। এরপর ২ জুন তার যে নামাজে জানাজা হয়েছিল, সেটি ছিল অবিস্মরণীয়। লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রমাণিত হয়েছিল তার জনপ্রিয়তা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়ার নামাজে জানাজা কিংবদন্তি হয়ে ছিল এতদিন। জিয়ার রাজনীতির পরম্পরাকে স্ত্রী হিসেবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন খালেদা। ৪৪ বছর পর সেই একই মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়কে যেভাবে ধারণ করল, সেটি যেন নতুন এক ইতিহাস তৈরি করল।

বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে রাষ্ট্র কিংবা সরকার প্রধান হয়েছেন অনেকেই। তবে এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম পাঁচটি—শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা। হাসিনাই শুধু বেঁচে আছেন। তবে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী দেশে। শুধু তা–ই নয়, মানবতাবিরোধী মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অদূর ভবিষ্যতে তার দেশে ফেরার সম্ভাবনাও অনেক যদি, কিন্তুর ওপর নির্ভরশীল।

তার বাবা শেখ মুজিব ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি। তার ডাকে দেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সেনা বিদ্রোহে তিনি সপরিবারে নিহত হয়েছিলেন। এটাই সত্য যে, তিনিই দেশের ইতিহাস রচনায় ভূমিকা রেখেছিলেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বাইরের দুনিয়ায় পরিচিতি পাওয়া নেতা ছিলেন তিনি। তার বিদায়টা হওয়া উচিত ছিল দারুণ আবেগের। কিন্তু তার সেই সৌভাগ্য হয়নি। এতে নানা রাজনৈতিক কারণ আছে, পথ হারানোর নিখোঁজ সংবাদ আছে, সেসবও সবাই জানেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে শেষ বিদায় নিতে হয়েছে। ইতিহাসে যেটি প্রত্যাশিত ছিল না মোটেও।

১৯৮১ সালের ২ জুন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই জানাজার দৃশ্য, যা ইতিহাস হয়ে আছে। ছবি: সংগৃহীত
১৯৮১ সালের ২ জুন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই জানাজার দৃশ্য, যা ইতিহাস হয়ে আছে। ছবি: সংগৃহীত

মুজিবহীন বাংলাদেশে যে নেতৃত্বসংকট তৈরি হয়েছিল, তার মধ্যেই সামরিক বাহিনী থেকে উত্থান ঘটেছিল জিয়ার। তবে হঠাৎ করেই জিয়ার আবির্ভাব ঘটেনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনি। শেখ মুজিবের পক্ষে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণাও এসেছিল তার কণ্ঠ থেকেই। সেই জিয়াতেই মুজিবের পর আশ্রয় নিয়েছিল বাংলাদেশের মানুষ। জিয়াও যখন মুজিবের মতো হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন, তখন তার প্রতি দেশের মানুষের ভালোবাসাটা প্রকাশিত হয়েছিল শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতায়। তবে জিয়া যেখানে অনন্য, তা হলো—মুজিব ছিলেন আগাগোড়া রাজনীতিবিদ, আর জিয়া সামরিক শাসক থেকে হয়েছিলেন রাজনীতিবিদ। একজন সামরিক শাসকের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ যে ভালোবাসার প্রকাশ ঘটিয়েছিল, সেটি অবিস্মরণীয় এক ঘটনাই।

জিয়ার মতো এরশাদও ছিলেন সামরিক শাসক। জিয়ার মতোই তিনি সামরিক শাসক থেকে রাজনীতিকে পরিণত করেছিলেন নিজেকে। কিন্তু তার ভাগ্য জিয়ার মতো হয়নি। ৯ বছরের শাসন শেষ হয়েছিল জনতার অভ্যুত্থানে, তীব্র গণরোষে। তবে এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরের ৩০ বছরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক ছিলেন। এই ব্যাপারটি তাকে ভিন্নতা দিয়েছে। যদিও জিয়া তার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলকে জনতার কাতারে নিতে পেরেছিলেন, কিন্তু এরশাদ একই কায়দায় দল গড়েও সেটি পারেননি। ২০১৯ সালে স্বাভাবিক মৃত্যুর পর এরশাদ একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তার নিজের সমর্থকদের ভালোবাসা পেয়েছিলেন শেষ বিদায়ে। নিজের বেড়ে ওঠার স্থান রংপুরের মানুষ তাকে আবেগের সঙ্গেই বিদায় দিয়েছিল। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার বিদায়টা হয়তো আরও মহিমান্বিত হতে পারত, যদি গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কলঙ্কটা না থাকত।

খালেদা জিয়া এদিক দিয়ে নিজেকে পুরোপুরি আলাদা করেই ফেললেন। ভালোবাসায় তিনি ছাপিয়ে গেলেন সবাইকে। এমনকি তার স্বামী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকেও। পেলেন দেশের মানুষের উজাড় করা ভালোবাসা। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে মৃত্যুর পর তিনি সব দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে গেলেন। এমন সৌভাগ্য কয়জনের হয়!

সত্যিই এত ভালোবাসায় মোড়া বিদায় এই দেশে আগে পায়নি কেউ।

বিষয়: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানবাংলাদেশরাজনীতিবিদহুসেইন মুহম্মদ এরশাদশেখ হাসিনাখালেদা জিয়ামুক্তিযুদ্ধজিয়াউর রহমান
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

  • ২

    রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত

  • ৩

    সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, টার্মিনালে আগুন

  • ৪

    রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, বিস্মিত জেলেনস্কি

  • ৫

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

সম্পর্কিত
  • দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    তরুণদের ক্ষেপিয়ে কোনো দেশের শাসকেরা যে টিকতে পারেন না, সেটা নিকট অতীতে বাংলাদেশ ও নেপাল প্রমাণ করেছে।

  • ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    সরকার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এবং নেপাল ও বাংলাদেশে কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে এই আন্দোলনকে বিদেশি শক্তির কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই, যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের কাছেই জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের গভীরতা স্পষ্ট ছিল।

  • সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    দু বছর পর যখন এ বেতন স্কেল পুরো কার্যকর হবে তখন মুদ্রাস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা দেখার বিষয়। এর মাঝে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো ছাড়া হয়তো উপায়ও ছিল না। তবে এর ফলে বাড়বে সকল ধরনের পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়সহ ভোগ্যপণ্যের দাম।

  • ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ২০২৪-এর পর থেকে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দটা আমরা বেশি শুনছি। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং শিডিউলড কাস্টের ব্যাপারে, নিম্নবর্গের ব্যাপারে অন্তর্ভুক্তিমূলকের দশা কিন্তু খুবই খারাপ।