Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

তারেক রহমানের চীন সফর ও কিছু প্রাসঙ্গিক কথা

হুমায়ুন কবীর

হুমায়ুন কবীর

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ১৯: ৫৮
তারেক রহমানের চীন সফর ও কিছু প্রাসঙ্গিক কথা

চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষ হয়েছে। ছয় দিনের মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে শুক্রবারই তার ঢাকায় ফিরে আসার কথা। চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি দেশের বড় প্রকল্পগুলোতে চীনের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে চীনা প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তার চীন সফরকালে ১৩টি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করবে আশা করা যায়।

Advertisement

আজকের দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে তীব্র কৌতূহল ও চুলচেরা বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। যেকোনো নতুন সরকারের প্রথম প্রধান দ্বিপাক্ষিক সফর হিসেবে বেইজিং-কে বেছে নেওয়া স্বভাবতই একটি শক্তিশালী কৌশলগত বার্তা দেয়।

তবে, এই সফরের তাৎপর্য কেবল কূটনৈতিক প্রোটোকল বা আনুষ্ঠানিক করমর্দনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আসল প্রশ্নটি এর চেয়েও গভীর: বাংলাদেশ কি একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে নাকি আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতির একটি কৌশলগত সংযুক্তি ঘটাতে পারছি?

বিকাশমান বিশ্বব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান বরাবরই একটি সুনির্দিষ্ট নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হয়, যা আমাদের সংবিধানেও প্রতিফলিত, “সবার সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে বৈরিতা নয়”। এই নীতিটি বছরের পর বছর ধরে ঢাকাকে একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করেছে, যার মাধ্যমে দেশটি একদিকে যেমন তার নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের সাথে গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, অন্যদিকে তেমনি চীনের মতো পরাশক্তির সাথেও একটি শক্তিশালী এবং ফলপ্রসূ অংশীদারত্ব গড়ে তুলেছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস অবশ্য এই সফরকে ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী হিসেবে দেখার যেকোনো চেষ্টাকে উড়িয়ে দিয়েছে। তারা যুক্তি দেখিয়েছে যে, ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যকার অর্থনৈতিক সহযোগিতা কোনো তৃতীয় দেশকে লক্ষ্য করে নয়। কিন্তু ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ধরনের আশ্বাসের কার্যকারিতা প্রায়শই সীমিত থাকে। নয়াদিল্লির কিছু মহলে এই সফর নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া অবান্তর নয়; বিশেষ করে তিস্তা নদী প্রকল্প বা অন্যান্য সংবেদনশীল অবকাঠামোতে চীনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার মতো বিষয়গুলো ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তা ভাবনার সাথে সরাসরি জড়িত। বিষয়টি দেখতে হবে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক ও জনজীবনের স্বার্থকে সামনে রেখে। এখানে রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে চীনের প্রতি আহ্বান বাংলাদেশেরtarek-meeting-with-si-jinping

তারেক রহমানের জন্য এই সফরের মূল লক্ষ্য মূলত অর্থনৈতিক। বহুল আলোচিত ডালিয়ান সামার ডাভোস ফোরামে অংশ নেওয়া এবং শীর্ষ চীনা নেতৃত্ব ও ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক করার উদ্দেশ্য হলো–বাংলাদেশে আরও বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, বাণিজ্য সহজীকরণ এবং অবকাঠামোগত সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। ১৬ বছর ধরে চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার এবং প্রায় এক হাজারেরও বেশি চীনা প্রতিষ্ঠান এই দেশে কর্মরত। এই সম্পর্কের গভীরতা অনস্বীকার্য। তা সত্ত্বেও, বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপের মুখে এই অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

তবে অর্থনৈতিক সুবিধার এই সমীকরণের সমান্তরালেই ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির দিকটিও জড়িয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো এটি নিশ্চিত করা যে, চীনের সাথে এই অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা যেন নয়াদিল্লি বা ওয়াশিংটনের সাথে তার বিদ্যমান সম্পর্কে কোনো ফাটল বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি না করে। এই বার্তাই দিতে হবে যে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশ কোনো ব্লকের বা পক্ষের অংশ হতে চায় না; বরং এটি নিজের জাতীয় উন্নয়ন এজেন্ডাকেই সবার ওপরে রাখতে চায়।

তারেক রহমানের চীন সফর একটি ‘অ্যাসিড টেস্ট’ বা কঠিন পরীক্ষা হিসেবেও দেখা যেতে পারে। যদি এই সফর থেকে ইতিবাচক অর্থনৈতিক লাভ আসে এবং একই সাথে সকল প্রধান বৈশ্বিক অংশীদারদের এই নিশ্চয়তা দেওয়া যায় যে–বাংলাদেশ তার কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে তা কেবল একটি রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে নয়, বরং একটি ব্যবহারিক শাসনতান্ত্রিক দর্শন হিসেবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ (বাংলাদেশ প্রথম) নীতির গ্রহণযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন ইকোনমিক করিডোরের প্রস্তাব বেইজিংয়েরBriefing

তবে, এর বিপরীতে যদি এই সফরটি কোনো নির্দিষ্ট দিকে ঝুঁকে পড়া, অন্য কাউকে বাদ দেওয়া কিংবা তৃতীয় কোনো পক্ষের উদ্দেশ্যে ভূ-রাজনৈতিক সংকেত পাঠানোর মতো ধারণা তৈরি করে, তবে তা বাংলাদেশের কূটনৈতিক পরিবেশকে জটিল করে তুলতে পারে। একই সাথে এটি দেশের সেই কূটনৈতিক নমনীয়তা বা ‘ফ্লেক্সিবিলিটি’ কমিয়ে দিতে পারে, যা ঐতিহাসিকভাবে সবসময় বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করে এসেছে।

শেষ পর্যন্ত, এই সফরের সফলতা বেইজিং থেকে কতটুকু অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেল শুধু তার ওপর নির্ভর করছে না, বরং সফর শেষে ঢাকা কীভাবে তার বৈশ্বিক ভারসাম্য বজায় রাখছে– তার ওপরই নির্ভর করছে।

গত পাঁচ দশকে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কোন্নয়নের যেই সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা আমরা কতটা কাজে লাগাতে পেরেছি, সেই প্রশ্ন আছে। এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করা জরুরি যে চীনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণ ও সব রাজনৈতিক দলের শতভাগ সমর্থন আছে। অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা দেখা যায় না। এখন প্রশ্ন হলো, এই জনসমর্থন ও জাতীয় ঐকমত্য বাংলাদেশ কতটা কাজে লাগাতে পারে।

এখানে দুটি কাকতালীয় ঘটনার কথাও উল্লেখ করা যায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন চীন অবস্থান করছিলেন, তখন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও চীন সফর করেন।। দ্বিতীয় ঘটনা হলো তারেক রহমানের চীন সফরের সময়েই ভারত ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া পর্যটন ভিসা খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশে ভারতের হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী, যাকে ভারত সরকার মন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে এখানে পার্ঠিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার পরই এই ঘোষণা দেন।

লেখক: যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সভাপতি, বিইআই

বিষয়: প্রধানমন্ত্রীবাংলাদেশতারেক রহমানচীনভারত
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হলেন তৌফিক ইমরোজ খালিদী

  • ২

    ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ দলে রহস্য স্পিনার আলিস

  • ৩

    দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়ে আটক সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল ও বিজয়ন

  • ৪

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

  • ৫

    রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা ও বিদ্যায়তনিক পরাধীনতার শিকার তাসনীম সিরাজ

সম্পর্কিত
  • ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    সরকার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এবং নেপাল ও বাংলাদেশে কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে এই আন্দোলনকে বিদেশি শক্তির কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই, যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের কাছেই জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের গভীরতা স্পষ্ট ছিল।

  • সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    দু বছর পর যখন এ বেতন স্কেল পুরো কার্যকর হবে তখন মুদ্রাস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা দেখার বিষয়। এর মাঝে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো ছাড়া হয়তো উপায়ও ছিল না। তবে এর ফলে বাড়বে সকল ধরনের পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়সহ ভোগ্যপণ্যের দাম।

  • ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ২০২৪-এর পর থেকে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দটা আমরা বেশি শুনছি। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং শিডিউলড কাস্টের ব্যাপারে, নিম্নবর্গের ব্যাপারে অন্তর্ভুক্তিমূলকের দশা কিন্তু খুবই খারাপ।

  • আকাশ যাদের জন্য ছোট হয়ে আসছে

    আকাশ যাদের জন্য ছোট হয়ে আসছে

    শেষ বিচারে কোনো সম্প্রদায় দেয়াল তুলে টিকে থাকতে পারে না। লায়লা খালেদ একসময় আরব বিশ্বে নায়িকা ছিলেন, আজ বিশ্বের কোনো বিমানবন্দর তার নাম শুনলে সতর্ক হয়ে যায়।