Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
২৯ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ | স্বত্ব © চরচা
> ভাবনা

জহির রায়হানের জীবনের মতোই অসম্পূর্ণ তার স্বপ্নটি

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ১৩
জহির রায়হানের জীবনের মতোই অসম্পূর্ণ তার স্বপ্নটি
ছবি: সংগৃহীত

‘লেট দেয়ার বি লাইট’ চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের একটি অসম্পূর্ণ সিনেমা। শেষ করতে পারেননি। শেষ হওয়ার আগেই তিনি শহীদ হন। ঋত্বিক ঘটক যখন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সিনেমা করতে ঢাকায় এলেন, তাকে জহির রায়হানের অসম্পূর্ণ কাজটি শেষ করার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ঋত্বিক ‘লেট দেয়ার বি লাইট’-এর রাশ প্রিন্ট দেখে বলেছিলেন, এটি যেভাবে আছে সেভাবেই থাকুক। “আমি যদি এটাকে নিয়ে কাজ করি, তাহলে এটি আমার ছবি হবে, জহিরের ছবি হবে না।”

Advertisement

জহির রায়হানের ছেলে অনল রায়হানেরও একই মত। তিনিও চান জহিরের এই কাজের ওপর কেউ ‘কারিকুরি’ না করুক। যেমন আছে, তেমনই থাকুক। কেননা, এটি ছিল জহির রায়হানের স্বপ্নের সিনেমা। অন্য কেউ বুঝবে না। ‘লেট দেয়ার বি লাইট’-এর ঘোষণা আসে ১৯৬৯ সালে। ১৯৭০ সালে এই ইংরেজি সিনেমার আংশিক দৃশ্যধারণ এবং ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মহরতও হয়েছিল। মহরতে নায়ক-নায়িকা হিসেবে ওমর চিশতি ও অলিভিয়া গোমেজকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

পরে অবশ্য অলিভিয়াকে বাদ দিয়ে ববিতাকে সিনেমার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছিল।সিনেমাটি পরিচালনার পাশাপাশি কাহিনি, চিত্রনাট্য ও প্রযোজনায়ও ছিলেন জহির রায়হান। সংগীত পরিচালনা করেছিলেন আলতাফ মাহমুদ। ‘ফিল্ম ইন্টারন্যাশনাল’-এর ব্যানারে সিনেমার কাজ চলতে থাকে। নির্মাতা আলমগীর কবির জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ধনকুবের ও চিত্রব্যবসায়ী জগদীশ চাঁদ ওরফে জে সি আনন্দ এই সিনেমার পুরো অর্থ জোগান দিয়েছিলেন।

জহির রায়হানের জীবনের মতোই ‘লেট দেয়ার বি লাইট’Jahir Rayhan and Hritik Ghatak Cinema

কী ছিল এই সিনেমায়? এটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চলচ্চিত্র। জহির রায়হানের উপন্যাসিকা ‘আর কত দিন’ ছিল এর মূল ভিত্তি। এটি অনুবাদ করেছিলেন আলমগীর কবির। ‘আর কত দিন’-এর ইংরেজি অনুবাদের নামই ‘লেট দেয়ার বি লাইট’। অনুবাদটি ‘দ্য এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়। সেই অনুবাদকেই সিনেমায় রূপ দিতে চেয়েছিলেন জহির। সিনেমাটিকে আরও ৫-৬ ভাষায় ডাবিং করার ইচ্ছে ছিল তার। তিনি বলতেন, “এটাই আমার জীবনের শেষ ছবি। এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল ছবি হবে। সারা পৃথিবীর মানুষ দেখবে।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement

যা হোক। এই সিনেমায় তিনি ধর্ম, বর্ণ ও জাতিবাদের নামে বিশ্বজুড়ে মানুষ যে সহিংসতার শিকার হচ্ছে, তা-ই তুলে ধরতে এবং শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আহ্বান জানাতে চেয়েছিলেন। সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী জহির রায়হানের সাম্যবাদী চেতনার প্রতিফলন তার চলচ্চিত্র ও সাহিত্যকর্মে কম-বেশি দেখা যায়। সম্ভবত সেই চিন্তা প্রকটভাবে পড়েছিল ‘লেট দেয়ার বি লাইট’-এ। সাহিত্য ও শিল্পসমালোচক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের কথায়ও তা বোঝা যায়। তিনি বলেছেন, “স্লোগানের উত্তাপ, প্রতিবাদের দুর্বার বচনকে সিনেমার শিরায়-ধমণীতে বইয়ে দেবার কাজটি তিনি অসম্ভব স্পিরিটের সাথে ব্যবহার করেছিলেন তার অসম্পূর্ণ/অসমাপ্ত সিনেমা ‘লেট দেয়ার বি লাইট’-এ। এই সিনেমাটি যদি তিনি শেষ করে যেতে পারতেন, তবে আমি বলব বাংলা সিনেমায় জহিরের একটা ধারা তৈরি হতো।”

সিনেমাটি সম্পর্কে আলমগীর কবিরের মত, স্বাধীনতার চেতনা জাগাতে ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ বলেছেন, “লেট দেয়ার বি লাইট নিউ টেস্টামেন্ট যেন, বাইবেলের ছিন্নপাতা থেকে বাংলার মাটিতে খোদিত স্বপ্নের ঠিকানা ও প্রত্যয়, অহংকার ও গ্রাফিতি”। এই সিনেমার রাশ প্রিন্ট দেখে সত্যজিৎ রায়ও নাকি জহির রায়হানের প্রশংসা করেছিলেন।

জহির রায়হান অনেক করে চেয়েছিলেন ছবিটি শেষ করতে, লেখক শহীদুল হক খানকে তিনি বলেছিলেন, “তাড়াহুড়ো করে যদি লেট দেয়ার বি লাইট শেষ না করতে পারি, তাহলে এ ছবি বানানোর কোন মানে থাকবে না।” শেষ আর করা গেল না। জহির রায়হানের জীবনের মতোই তার সবচেয়ে বড় স্বপ্নটিও অসম্পূর্ণ থেকে গেল।

অনল রায়হানের মতে, এই সিনেমাটি অন্য কেউ করতে গেলে ‘একজন মেধাবী বাঙালি চলচ্চিত্রকারের অসামান্য কাজটির ঐতিহাসিক মূল্য বিনষ্ট হবে’।

জহির রায়হান: মুক্তিযুদ্ধের পর হারিয়ে যাওয়া এক কিংবদন্তিZahir Raihan

অসমাপ্ত না হয় থাকল, কিন্তু জহির রায়হান যতটুকুই করেছিলেন, তা দেখার সুযোগ কই? কে কবে ঘটা করে প্রদর্শনের সুযোগ করে দেবে সেই আশায় দর্শকদের বসে থাকতে হবে? ‘লেট দেয়ার বি লাইট’কে যদি বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে না দেখি—তাহলে তা ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে দিতে বাধা কোথায়? কেউ যদি জহির রায়হানের কাজ নিয়ে গবেষণা করতে চায়, তার চলচ্চিত্রচিন্তাকে বুঝতে চায়, সে কোথায় যাবে?

তথ্যসূত্র—

  • চলচ্চিত্রযাত্রা, তারেক মাসুদ
  • আন্‌ওয়ার আহমদ সম্পাদিত রূপম: একটি অনুপম সংকলন, ১৯৬৭
  • বিস্ময়ে ববিতা, সাজ্জাদ হুসাইন
  • জহির রায়হানের নৃতত্ত্ব ইত্যাদি, সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ
  • আলমগীর কবির রচনা সংগ্রহ (১), আগামী প্রকাশনী
  • লেট দেয়ার বি লাইট যেমন আছে, তেমনই থাকতে হবে, অনল রায়হান, দৈনিক দেশ রূপান্তর
  • আকাশ আমায় ভরলো আলোয়, সৈয়দ হাসান ইমাম
  • জহির রায়হানের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ এখন কোথায়, মকফুল হোসেন
  • জহির রায়হান : গুমনাম আত্মার সতীর্থ, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ও ইমরান ফিরদাউসের আলাপচারিতা, গানপার ডটকম
বিষয়: চলচ্চিত্রঢাকাজহির রায়হানসিনেমাশহীদজীবন
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ‘কোনো বিদ্যুৎ সাপ্লাই ছাড়াই তাদের পেমেন্ট করা হচ্ছে’

  • ২

    এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনার অবস্থা আজ এমন কেন?

  • ৩

    ‘আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে’

  • ৪

    নেতানিয়াহু হারলে ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে?

  • ৫

    লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় ফিরলেন ১৭২ বাংলাদেশি অভিবাসী

সম্পর্কিত
  • এক বাঙালির অস্কার জয় ও ব্ল্যাক হোলের রহস্য

    এক বাঙালির অস্কার জয় ও ব্ল্যাক হোলের রহস্য

    রাতের আকাশের দিকে তাকালে আমরা অসংখ্য নক্ষত্র দেখি। সেই নক্ষত্রগুলোর আলো লক্ষ-কোটি বছর পেরিয়ে যখন আমাদের চোখে পৌঁছায়, তখন মহাবিশ্বের অতীত যেন নিঃশব্দে বর্তমানের সঙ্গে কথা বলে। অথচ এই আলোকময় মহাবিশ্বের বুকেই রয়েছে এমন কিছু অঞ্চল, যেখান থেকে কোন আলোও আমাদের কাছে ফিরে আসতে পারে না

  • বিএনপির ‘ব্যাকফায়ার’ রাজনীতি ও আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সমাধান

    বিএনপির ‘ব্যাকফায়ার’ রাজনীতি ও আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ সমাধান

    এই মুহূর্তে সরকারের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়া। খাদ্যপণ্যের বাজারের উর্ধ্বগতি। বেকারত্ব। কিন্তু সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলা।

  • পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন বারবার অশান্ত হয়?

    পার্বত্য চট্টগ্রাম কেন বারবার অশান্ত হয়?

    পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতাকে শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদ, শুধু রাষ্ট্রীয় দমন, কিংবা শুধু পাহাড়ি-বাঙালি বিরোধ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এর পেছনে রয়েছে ইতিহাস, ভূমির মালিকানা, জাতিগত পরিচয়, নিরাপত্তা-ভাবনা, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং রাষ্ট্রের প্রতি আস্থার জটিল সংকট।

  • একজন মানিক পশারী ও আজকের বাংলাদেশ

    একজন মানিক পশারী ও আজকের বাংলাদেশ

    পিরোজপুরের চিতলিয়ায় যা ঘটেছে, তা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, তা একটি ঘোষণা। দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ও সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যু হয় ২৪ অক্টোবর সকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের বাড়িতে।