Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

জহির রায়হানের জীবনের মতোই অসম্পূর্ণ তার স্বপ্নটি

সুদীপ্ত সালাম

সুদীপ্ত সালাম

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ১৩
জহির রায়হানের জীবনের মতোই অসম্পূর্ণ তার স্বপ্নটি
ছবি: সংগৃহীত

‘লেট দেয়ার বি লাইট’ চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের একটি অসম্পূর্ণ সিনেমা। শেষ করতে পারেননি। শেষ হওয়ার আগেই তিনি শহীদ হন। ঋত্বিক ঘটক যখন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সিনেমা করতে ঢাকায় এলেন, তাকে জহির রায়হানের অসম্পূর্ণ কাজটি শেষ করার অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু ঋত্বিক ‘লেট দেয়ার বি লাইট’-এর রাশ প্রিন্ট দেখে বলেছিলেন, এটি যেভাবে আছে সেভাবেই থাকুক। “আমি যদি এটাকে নিয়ে কাজ করি, তাহলে এটি আমার ছবি হবে, জহিরের ছবি হবে না।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement

জহির রায়হানের ছেলে অনল রায়হানেরও একই মত। তিনিও চান জহিরের এই কাজের ওপর কেউ ‘কারিকুরি’ না করুক। যেমন আছে, তেমনই থাকুক। কেননা, এটি ছিল জহির রায়হানের স্বপ্নের সিনেমা। অন্য কেউ বুঝবে না। ‘লেট দেয়ার বি লাইট’-এর ঘোষণা আসে ১৯৬৯ সালে। ১৯৭০ সালে এই ইংরেজি সিনেমার আংশিক দৃশ্যধারণ এবং ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে মহরতও হয়েছিল। মহরতে নায়ক-নায়িকা হিসেবে ওমর চিশতি ও অলিভিয়া গোমেজকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

পরে অবশ্য অলিভিয়াকে বাদ দিয়ে ববিতাকে সিনেমার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছিল।সিনেমাটি পরিচালনার পাশাপাশি কাহিনি, চিত্রনাট্য ও প্রযোজনায়ও ছিলেন জহির রায়হান। সংগীত পরিচালনা করেছিলেন আলতাফ মাহমুদ। ‘ফিল্ম ইন্টারন্যাশনাল’-এর ব্যানারে সিনেমার কাজ চলতে থাকে। নির্মাতা আলমগীর কবির জানিয়েছেন, পাকিস্তানের ধনকুবের ও চিত্রব্যবসায়ী জগদীশ চাঁদ ওরফে জে সি আনন্দ এই সিনেমার পুরো অর্থ জোগান দিয়েছিলেন।

জহির রায়হানের জীবনের মতোই ‘লেট দেয়ার বি লাইট’Jahir Rayhan and Hritik Ghatak Cinema

কী ছিল এই সিনেমায়? এটি ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক চলচ্চিত্র। জহির রায়হানের উপন্যাসিকা ‘আর কত দিন’ ছিল এর মূল ভিত্তি। এটি অনুবাদ করেছিলেন আলমগীর কবির। ‘আর কত দিন’-এর ইংরেজি অনুবাদের নামই ‘লেট দেয়ার বি লাইট’। অনুবাদটি ‘দ্য এক্সপ্রেস’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে ছাপা হয়। সেই অনুবাদকেই সিনেমায় রূপ দিতে চেয়েছিলেন জহির। সিনেমাটিকে আরও ৫-৬ ভাষায় ডাবিং করার ইচ্ছে ছিল তার। তিনি বলতেন, “এটাই আমার জীবনের শেষ ছবি। এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল ছবি হবে। সারা পৃথিবীর মানুষ দেখবে।”

Advertisement
Advertisement
Advertisement

যা হোক। এই সিনেমায় তিনি ধর্ম, বর্ণ ও জাতিবাদের নামে বিশ্বজুড়ে মানুষ যে সহিংসতার শিকার হচ্ছে, তা-ই তুলে ধরতে এবং শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের আহ্বান জানাতে চেয়েছিলেন। সমাজতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী জহির রায়হানের সাম্যবাদী চেতনার প্রতিফলন তার চলচ্চিত্র ও সাহিত্যকর্মে কম-বেশি দেখা যায়। সম্ভবত সেই চিন্তা প্রকটভাবে পড়েছিল ‘লেট দেয়ার বি লাইট’-এ। সাহিত্য ও শিল্পসমালোচক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের কথায়ও তা বোঝা যায়। তিনি বলেছেন, “স্লোগানের উত্তাপ, প্রতিবাদের দুর্বার বচনকে সিনেমার শিরায়-ধমণীতে বইয়ে দেবার কাজটি তিনি অসম্ভব স্পিরিটের সাথে ব্যবহার করেছিলেন তার অসম্পূর্ণ/অসমাপ্ত সিনেমা ‘লেট দেয়ার বি লাইট’-এ। এই সিনেমাটি যদি তিনি শেষ করে যেতে পারতেন, তবে আমি বলব বাংলা সিনেমায় জহিরের একটা ধারা তৈরি হতো।”

সিনেমাটি সম্পর্কে আলমগীর কবিরের মত, স্বাধীনতার চেতনা জাগাতে ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ বলেছেন, “লেট দেয়ার বি লাইট নিউ টেস্টামেন্ট যেন, বাইবেলের ছিন্নপাতা থেকে বাংলার মাটিতে খোদিত স্বপ্নের ঠিকানা ও প্রত্যয়, অহংকার ও গ্রাফিতি”। এই সিনেমার রাশ প্রিন্ট দেখে সত্যজিৎ রায়ও নাকি জহির রায়হানের প্রশংসা করেছিলেন।

জহির রায়হান অনেক করে চেয়েছিলেন ছবিটি শেষ করতে, লেখক শহীদুল হক খানকে তিনি বলেছিলেন, “তাড়াহুড়ো করে যদি লেট দেয়ার বি লাইট শেষ না করতে পারি, তাহলে এ ছবি বানানোর কোন মানে থাকবে না।” শেষ আর করা গেল না। জহির রায়হানের জীবনের মতোই তার সবচেয়ে বড় স্বপ্নটিও অসম্পূর্ণ থেকে গেল।

অনল রায়হানের মতে, এই সিনেমাটি অন্য কেউ করতে গেলে ‘একজন মেধাবী বাঙালি চলচ্চিত্রকারের অসামান্য কাজটির ঐতিহাসিক মূল্য বিনষ্ট হবে’।

জহির রায়হান: মুক্তিযুদ্ধের পর হারিয়ে যাওয়া এক কিংবদন্তিZahir Raihan

অসমাপ্ত না হয় থাকল, কিন্তু জহির রায়হান যতটুকুই করেছিলেন, তা দেখার সুযোগ কই? কে কবে ঘটা করে প্রদর্শনের সুযোগ করে দেবে সেই আশায় দর্শকদের বসে থাকতে হবে? ‘লেট দেয়ার বি লাইট’কে যদি বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে না দেখি—তাহলে তা ইউটিউবের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে দিতে বাধা কোথায়? কেউ যদি জহির রায়হানের কাজ নিয়ে গবেষণা করতে চায়, তার চলচ্চিত্রচিন্তাকে বুঝতে চায়, সে কোথায় যাবে?

তথ্যসূত্র—

  • চলচ্চিত্রযাত্রা, তারেক মাসুদ
  • আন্‌ওয়ার আহমদ সম্পাদিত রূপম: একটি অনুপম সংকলন, ১৯৬৭
  • বিস্ময়ে ববিতা, সাজ্জাদ হুসাইন
  • জহির রায়হানের নৃতত্ত্ব ইত্যাদি, সৈয়দ রিয়াজুর রশীদ
  • আলমগীর কবির রচনা সংগ্রহ (১), আগামী প্রকাশনী
  • লেট দেয়ার বি লাইট যেমন আছে, তেমনই থাকতে হবে, অনল রায়হান, দৈনিক দেশ রূপান্তর
  • আকাশ আমায় ভরলো আলোয়, সৈয়দ হাসান ইমাম
  • জহির রায়হানের ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ এখন কোথায়, মকফুল হোসেন
  • জহির রায়হান : গুমনাম আত্মার সতীর্থ, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ও ইমরান ফিরদাউসের আলাপচারিতা, গানপার ডটকম
বিষয়: চলচ্চিত্রঢাকাজহির রায়হানসিনেমাশহীদজীবন
সর্বশেষ
  • ১

    গোপালগঞ্জে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩

  • ২

    এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের অগ্নিপরীক্ষা

  • ৩

    টাকার লোভেই হত্যা করা হয় ইসমাইলকে, দাবি পুলিশের

  • ৪

    ঠাকুরগাঁও পৌঁছেছেন রাষ্ট্রপতি

  • ৫

    জহির রায়হানের জীবনের মতোই অসম্পূর্ণ তার স্বপ্নটি

সম্পর্কিত
  • গালি কি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা?

    গালি কি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা?

    সব ভাষাতেই বুলি আছে, সেই সাথে গালিও আছে। গালি আর বুলি অনেকটা পাশাপাশি হাঁটে। কোনো ভাষা কেবলই ‘মার্জিত’ রূপ নিয়ে বাঁচে না। কিন্তু মানুষ কোন রূপটি বেশি গ্রহণ করবে, সেটাই নির্ধারণ করে দেয় কীসের চর্চা বেশি হবে, সেই বিষয়টি। আমাদের দেশে এখন গালি নিয়ে আলোচনা একটু বেশি হচ্ছে। বিষয়টা এমন না যে, এই প্রথ

  • ‘ট্রাম্পিজম’ যেভাবে বিশ্ব ব্যবস্থা বদলে দিচ্ছে

    ‘ট্রাম্পিজম’ যেভাবে বিশ্ব ব্যবস্থা বদলে দিচ্ছে

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে এমন কিছু আদর্শের দাপট দেখা গেছে, যেগুলো থেকেই অনেক বহুপাক্ষিক সংস্থা আর পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন একটি শক্তিশালী বিশ্বব্যবস্থার জন্ম হয়েছিল।

  • সুখ খোঁজার নাটকীয় ফাঁদ: ‘হ্যাপিনেস প্যারাডক্স’

    সুখ খোঁজার নাটকীয় ফাঁদ: ‘হ্যাপিনেস প্যারাডক্স’

    আজকের আধুনিক পুঁজিবাদী যুগে সুখকে যেন একটি বিক্রিযোগ্য পণ্যে রূপান্তর করা হয়েছে। চারপাশের রঙচঙে বিজ্ঞাপন আর সোশ্যাল মিডিয়ার রঙিন পর্দাগুলো প্রতিনিয়ত আমাদের সামনে নিখুঁত জীবনের এক কৃত্রিম ছবি তুলে ধরে।

  • প্রকৃত সুখ লুকিয়ে আছে কোথায়?

    প্রকৃত সুখ লুকিয়ে আছে কোথায়?

    বিজ্ঞান ও দীর্ঘমেয়াদী মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার আলোকেও যদি আমরা মানুষের ভালো থাকার মূল রহস্য অনুসন্ধান করি, তবে কয়েকটি প্রধান উপাদান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।