
জরুরি ওষুধে নানা কৌশল: কোম্পানি বলে খরচের কথা, গ্রাহককে ভোগায় দাম
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) সূত্রে জানা যায়, প্রায় প্রতিটি কোম্পানিরই এসব জরুরি ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করার জন্য লাইসেন্স নেওয়া আছে। কিন্তু বাস্তবে তারা তা উৎপাদন করছে না।

বেসরকারি কলেজ শিক্ষকদের সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের। তবে এই নির্দেশনা অমান্য করে নিয়মিত কলেজে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পালপুর ধরমপুর মহাবিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল্লাহর বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও মেয়রপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগে ব্যস্ত থাকায় তিনি নিয়মিত কলেজে উপস্থিত হন না এবং ক্লাসও নেন না।
অভিযুক্ত মো. ওবায়দুল্লাহ জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেলা শাখার সভাপতি।
রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত মো. ওবায়দুল্লাহ। সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবেও এলাকায় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দেখা যায় তাকে। একই সঙ্গে আসন্ন নির্বাচনে তিনি গোদাগাড়ী পৌরসভায় জামায়াত মনোনীত মেয়রপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং মেয়রপ্রার্থী হিসেবে গণসংযোগে ব্যস্ত থাকার কারণে ড. ওবায়দুল্লাহ নিয়মিত কলেজে উপস্থিত থাকেন না। সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসেই তাকে কোনো না কোনো দলীয় কর্মসূচি, গণসংযোগ কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তিনি সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সঙ্গে অংশ নেন।
ড. ওবায়দুল্লাহর অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে গত সাড়ে তিন মাসে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্ট বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তার অনুপস্থিতির বিষয়টি জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, যে দিন তিনি কলেজে যান, সে দিনই একাধিক দিনের উপস্থিতির স্বাক্ষর করেন।
গত ২০ আগস্ট ড. ওবায়দুল্লাহ স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ১৮ আগস্ট সনাতন ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই দিন সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে গোদাগাড়ী সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায়ও উপস্থিত ছিলেন তিনি।
১৬ আগস্ট সকালে গোদাগাড়ী পৌরসভায় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন ড. ওবায়দুল্লাহ। ১৩ আগস্ট পৌরসভায় জনসংযোগ করেন। ১০ আগস্ট সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপহার সামগ্রী বিতরণে অংশ নেন। ৬ আগস্ট জামায়াতের সভায় অংশ নেন।
৫ আগস্ট সকালে সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গণমিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন। ৪ আগস্ট সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ৩ আগস্ট সকালে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে গোদাগাড়ী উপজেলা সদরে মিছিল ও সমাবেশে অংশ নেন।
৩০ জুলাই প্রতিবন্ধীদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ২৮ জুলাই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে গোদাগাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিদায় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ২৩ জুলাই সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে কাঁচা রাস্তা পরিদর্শন করেন।
এছাড়া, ২১ জুলাই, ১৯ জুলাই, ৩০ জুন, ২২ জুন, ১৬ জুন, ১৭ জুন, ১৪ জুন, ৭ জুন ও ৩১ মে ড. ওবায়দুল্লাহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব কর্মসূচির ছবি ও তথ্য তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করা হয়েছে।
১৯ মে ঢাকায় বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দপ্তরে যান তিনি।
এদিকে, গত ২৪ আগস্ট পালপুর ধরমপুর মহাবিদ্যালয়ে সরেজমিনে গেলে ড. ওবায়দুল্লাহকে পাওয়া যায়নি। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামও কলেজে উপস্থিত ছিলেন না।
কলেজ ক্যাম্পাস থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “আমি দাপতরিক কাজে রাজশাহী এসেছি। এখন দায়িত্বে রয়েছেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস এম সাদিকুল ইসলাম। আপনি তার সঙ্গে কথা বলেন।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম সাদিকুল ইসলামের কাছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের হাজিরা খাতা দেখতে চাওয়া হলে তিনি জুলাই ও আগস্ট মাসের হাজিরা খাতা দেখান। সেখানে দেখা যায়, ড. ওবায়দুল্লাহ যেসব কার্যদিবসে দলীয় কর্মসূচি, গণসংযোগ এবং সংসদ সদস্যের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন বলে তার ফেসবুক পেজের পোস্টে তথ্য রয়েছে, সেসব দিনেও হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ৫ ও ৬ আগস্ট তিনি সংরক্ষিত ছুটি নিয়েছেন বলে হাজিরা খাতায় দেখা যায়।
এরপর মে ও জুন মাসের হাজিরা সংক্রান্ত তথ্য চাইলে সেখানে উপস্থিত জীববিজ্ঞান বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক কামরুল হাসান ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম সাদিকুল ইসলামের কাছ থেকে হাজিরা খাতা নিয়ে নেন এবং ড. ওবায়দুল্লাহর হাজিরা সংক্রান্ত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান।
কলেজে উপস্থিত না থেকেও ড. ওবায়দুল্লাহ কীভাবে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন এবং ২৪ আগস্ট তিনি কেন কলেজে অনুপস্থিত ছিলেন- এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাদিকুল ইসলাম বলেন, “আপনি অধ্যক্ষ মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি (ড. ওবায়দুল্লাহ) ২৪ আগস্ট সকাল ৯টায় কলেজে উপস্থিত ছিলেন। তার স্ত্রীর অপারেশন হয়েছে। তিনি অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে জানিয়ে ছুটি নিয়েছেন।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন। সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়টি আবশ্যিক। ক্লাস রুটিন অনুযায়ী প্রতিদিনই এ বিষয়ের ক্লাস রয়েছে। অথচ এ বিষয়ের জন্য কলেজটিতে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। তিনি হলেন ড. মো. ওবায়দুল্লাহ।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ২৫ নম্বরের ব্যবহারিক পরীক্ষা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবহারিকের জন্য কলেজের কম্পিউটার ল্যাবের সব কম্পিউটার নষ্ট। ফলে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ড. ওবায়দুল্লাহ নিয়মিত ক্লাস না নেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলও খারাপ হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
ড. ওবায়দুল্লাহর অনুপস্থিতি সত্ত্বেও তার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরের বিষয়ে গত ৩০ আগস্ট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।”
এ বিষয়ে জানতে ড. মো. ওবায়দুল্লাহর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আপনি কলেজ গিয়ে কথা বলুন আমাকে ফোন দিয়ে বিরক্ত করবেন না।”
এ ব্যাপারে মাউশি রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (কলেজ) মোহা. সাদিকুল ইসলাম বলেন, “কোনো শিক্ষক কলেজে ধারাবাহিকভাবে অনুপস্থিত থাকলে ওই শিক্ষক অধ্যক্ষ এবং কলেজ পরিচালনা পর্ষদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবেন। আমরা সেটি তদারকি করতে পারি। তবে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, এ ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে কলেজটির সাবেক অধ্যক্ষ ও বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আব্দুল মালেককে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখন ব্যস্ত আছি পরে ফোন দিন।”
সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, নিজেদের বাংলাদেশি ভাবতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
কলেজে অনুপস্থিত, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকেন শিক্ষক ওবায়দুল্লাহ
১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
জুলাই-আগস্টে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার
৩৩ লাখ মানুষ সুবিধা পাবে, বাকিদের কী হবে?

জরুরি ওষুধে নানা কৌশল: কোম্পানি বলে খরচের কথা, গ্রাহককে ভোগায় দাম
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) সূত্রে জানা যায়, প্রায় প্রতিটি কোম্পানিরই এসব জরুরি ওষুধ উৎপাদন ও বাজারজাত করার জন্য লাইসেন্স নেওয়া আছে। কিন্তু বাস্তবে তারা তা উৎপাদন করছে না।

খাতায় আছে, উৎপাদনে নেই: জরুরি ওষুধের বেশির ভাগ লাইসেন্স নিষ্ক্রিয়
খাতা-কলমে তালিকাটা বড় হলেও বাস্তবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না অনেক জরুরি প্রয়োজনীয় ওষুধ। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের কারণে লাভ কম হওয়ায় অনেক কোম্পানি লাইসেন্স নিলেও এই ওষুধগুলো উৎপাদন করছে না। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে এবং বেশি দামের বিকল্প ওষুধের চাহিদা বাড়ছে, বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষ

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: যে পথ পেরিয়ে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায়, সামনে যে পরীক্ষা
১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮। ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। নাম–বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপি। এরপর কেটে গেছে ৪৮ বছর।

শিশু ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন: মাদরাসায়ই কেন এত বেশি?
পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত ২৭ জুলাই মো. ইব্রাহীম নামের এক মাদরাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা ইব্রাহিমকে ধরে দুমকি থানায় সোপর্দ করেন। ইব্রাহিমের ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক খবর, অন