খাতা-কলমে তালিকাটা বড় হলেও বাস্তবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না অনেক জরুরি প্রয়োজনীয় ওষুধ। সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের কারণে লাভ কম হওয়ায় অনেক কোম্পানি লাইসেন্স নিলেও এই ওষুধগুলো উৎপাদন করছে না। এতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে এবং বেশি দামের বিকল্প ওষুধের চাহিদা বাড়ছে, বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
দেশের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোর মধ্যে যারা জরুরি ওষুধ উৎপাদনে আছে, তাদেরও একটি অংশ এ ক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করছে। ওষুধের মূল উপাদানের সঙ্গে অন্য উপাদান মিশিয়ে তারা বিকল্প ওষুধ বাজারে ছাড়ছে, যার দাম বেশি। ফলে রোগীদের ব্যয় বাড়ছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, অনেক কোম্পানি এসব ওষুধ উৎপাদনের লাইসেন্স নিয়ে রাখলেও উৎপাদন করছে না। আর এ ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় তারাও ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
আর কোম্পানিগুলো বলছে, অনেক আগের ‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকায় থাকা ওষুধের বেঁধে দেওয়া সরকারি দাম রাখতে গেলে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।
১৯৯৪ সালে বহুল ব্যবহৃত ১১৭টি ওষুধকে ‘অত্যাবশ্যকীয়’ হিসেবে চিহ্নিত করে তার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে দীর্ঘ তিন দশকেও ওই তালিকা সঠিকভাবে হালনাগাদ বা দাম পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের দামবৃদ্ধি ও কাঁচামাল আমদানির খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেকে লোকসানে পড়েছেন। এই কম লাভ বা লোকসানের কারণে অনেক কোম্পানি এসব ওষুধ উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এতে বাজারে জরুরি ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে।
রাজশাহীর মনিরুল ফার্মেসির কর্ণধার মনিরুল ইসলাম চরচাকে বলেন, “জরুরি ওষুধ সব সময় আমাদের কাছে থাকে না। যখন সেটা থাকে না সেটার কম্বিমেশনে তৈরি ওষুধ রোগীকে সাজেস্ট করি, বুঝিয়ে বলি। তখন তারা সেটা কিনে নেয়। তবে সরকারি তালিকার জরুরি ওষুধের দাম একটু কম। সেটা হলে রোগীর জন্য ভালো হতো। সেটা না পেয়ে তাকে বেশি দামের ওষুধ কিনতে হচ্ছে।”
এই পরিস্থিতি নিরসন ও ওষুধকে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে চলতি বছরের শুরুতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নতুন ১৩৬টি ওষুধ যোগ করে মোট ২৯৫টি ড্রাগের দাম নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী ‘জাতীয় ওষুধ উপদেষ্টা পরিষদ’-এর আইনি পরামর্শ না নিয়ে তালিকা প্রকাশ করায় বিষয়টিতে হাইকোর্টে রিট হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চলতি মাসে মন্ত্রিসভা নতুন সিদ্ধান্তটি বাতিল করে ১৯৯৪ সালের পুরনো তালিকাই বহাল রাখে। তবে আগের তালিকা বহাল রাখলেও এই ১১৭টি ওষুধও বাজারে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক কোম্পানি এসব জরুরি ওষুধের মূল উপাদানের সঙ্গে নতুন উপাদান মিশিয়ে নতুন ওষুধ তৈরি করছে। তখন দামটাও বেশি পড়ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ জনগণ।
এ প্রসঙ্গে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (ডিজিডিএ) পরিচালক মো. আকতার হোসেন চরচাকে বলেন, “আইনে এমনটা বলা নেই যে, লাইসেন্স নেওয়া থাকলেই সেই কোম্পানিকে বাধ্যতামূলক ওষুধ উৎপাদন করতে হবে। তাই আমরা কোম্পানিগুলোকে আইনের আওতায় আনতে পারছি না। ১৯৯৪ সালের; অর্থাৎ, অনেক আগের এই আইন বর্তমান সময়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। আশা করি দ্রুত বিষয়টা সমাধান হবে।”
বহুল ব্যবহৃত ১০ ওষুধের লাইসেন্স ও উৎপাদনের চিত্র
অতি প্রয়োজনীয় এবং সস্তা মৌলিক ওষুধ হিসেবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় প্যারাসিটামল। সাধারণ জ্বর, সর্দি, ফ্লু ও যেকোনো প্রাথমিক শরীর ব্যথার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত এই ওষুধের (৫০০ এমজি) উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের জন্য ঔষধ প্রশাসন থেকে লাইসেন্স নিয়েছে দেশের প্রায় ৮৭টি ওষুধ কোম্পানি। বাস্তবে মাত্র ১০ থেকে ১২টি কোম্পানি নিয়মিত উৎপাদন করছে এই ওষুধ।
ফার্মাসিউটিক্যালস খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দাম এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামাল (এপিআই), ডলারের উচ্চমূল্য ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্যারাসিটামলের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। এতে মুনাফার পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেক কোম্পানি প্যারাসিটামল উৎপাদনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তারা মূলত লাইসেন্সটি কাগজে-কলমে কার্যকর রেখে তাদের সেই প্ল্যান্টে বেশি মুনাফা আসা অন্য ওষুধ বা ভিটামিন জাতীয় ওষুধ উৎপাদন করছে। এতে অল্প কয়েকটি কোম্পানির ওপর পুরো দেশের প্যারাসিটামল চাহিদা পূরণের চাপ পড়ছে।
পাকস্থলীর অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা এবং আলসারের সমস্যায় চিকিৎসকরা ওমিপ্রাজল ২০ এমজি ক্যাপসুল সেবনের পরামর্শ দেন। সরকারি তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ এই জেনেরিকের অধীনে ২০ এমজি ক্যাপসুল উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স নিয়ে রেখেছে দেশের ১৪০টি কোম্পানি। তবে বাস্তবে এই ক্যাপসুল উৎপাদন করছে মাত্র ১৫-২০টি প্রতিষ্ঠান। বাকি কোম্পানিগুলোর বেশির ভাগই এই ওষুধ উৎপাদন না করে অন্য ওষুধ উৎপাদন করছে, যেগুলোতে সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা নেই।
অ্যামোক্সিসিলিন ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যাপসুলটি মূলত শ্বাসনালীর সংক্রমণ, কান ও গলার প্রদাহ, মূত্রনালীর সংক্রমণ এবং ত্বকের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত প্রথম সারির অ্যান্টিবায়োটিক। ঔষধ প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৬৫টি কোম্পানির কাছে ওষুধটি উৎপাদনের লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে বাজারে ১২-১৫টি কোম্পানি এই অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদন করে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার নিম্ন আয়ের এবং সাধারণ রোগীদের জন্য বহুল ব্যবহৃত ও তুলনামূলক কম দামের এই ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে। বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের এই ঘাটতির কারণে রোগীরা সময়মতো ওষুধ পাচ্ছে না। এতে সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঝুঁকিতে পড়ছে।
পেটের জ্বালাপোড়া, আমাশয় এবং বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের প্রাথমিক প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহৃত হয় মেট্রোনিডাজল। প্রয়োজনীয় ও জীবন রক্ষাকারী এই ওষুধের উৎপাদন লাইসেন্স আছে প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠানের। কিন্তু বাস্তবে বাজারে ৮-১০টি কোম্পানির মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট পাওয়া যায়। লাভ কম থাকায় অনেক কোম্পানি লাইসেন্স থাকলেও উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।
উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের চিকিৎসায় প্রতিদিন লাখ লাখ মানুষকে নির্ভর করতে হয় অ্যামলোডিপাইন গ্রুপের ওষুধের ওপর। জাতীয় ‘অত্যাবশ্যকীয়’ তালিকার এই ওষুধ উৎপাদনের জন্য ৭০টির বেশি কোম্পানির লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় জোর ৮-১০টি ব্র্যান্ডের ওষুধ পাওয়া যায়। কম দামের এই একক ওষুধটি বাজারে না ছেড়ে অনেক কোম্পানি অ্যামলোডিপাইন গ্রুপের সঙ্গে অন্য উপাদান যুক্ত করে নতুন ওষুধ তৈরি করছে। তখন তারা এর দামটাও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কমানো এবং স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত চিকিৎসায় খুব প্রয়োজনীয় ওষুধ হলো–অ্যাটোরভাসটাটিন। সরকারি তালিকার অংশ এই ওষুধের ১০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট উৎপাদনের জন্য দেশের প্রায় ৯২টি কোম্পানির লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়মিত পৌঁছাচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২টি কোম্পানির ওষুধ। অনুমোদন পাওয়া বাকি কোম্পানিগুলো ওষুধটি উৎপাদন করছে না।
শ্বাসনালী ও মূত্রনালীর সংক্রমণ চিকিৎসায় কার্যকারী অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে পরিচিত সিপ্রোফ্লোক্সাসিন। দেশের ৮৫টিরও বেশি কোম্পানির এই ওষুধ উৎপাদনের লাইসেন্স আছে। তবে ঢাকার মিটফোর্ডসহ দেশের প্রধান প্রধান পাইকারি বাজার ও সাপ্লাইচেইন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বড় জোর ১৫-২০টি কোম্পানির ওষুধ বাজারে আছে। কাঁচামাল আমদানির বাড়তি খরচ, বৈশ্বিক কাঁচামাল সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের কথা বলে অনেক কোম্পানি এর উৎপাদন বন্ধ রেখেছে।
হাঁপানি ও অ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্টের জন্য বহুল ব্যবহৃত ওষুধ হলো সালবিউটামল। ইনহেলার, ট্যাবলেট, সিরাপ এবং নেবুলাইজার সলিউশনসহ বিভিন্নভাবে ওষুধটি উৎপাদনের জন্য ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৪০টিরও বেশি। তবে বিশেষভাবে সালবিউটামল ১০০ এমসিজি ইনহেলার ক্যাটাগরিতে সব মিলিয়ে মাত্র ১০-১১টি ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির অনুমোদন রয়েছে। এই নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এমনিতেই কম, তার ওপর বাস্তবে বাজারের পাওয়া যায় মাত্র ৪-৫টি কোম্পানির ওষুধ।
ডেঙ্গু, ডায়রিয়া এবং পানিশূন্যতা দূর করতে প্রাথমিক জীবন রক্ষাকারী উপাদান হলো সোডিয়াম ক্লোরাইড বা নরমাল স্যালাইন। সরকারের জরুরি ওষুধের তালিকায় থাকা এই স্যালাইন তৈরির লাইসেন্স রয়েছে দেশের কমপক্ষে আটটি কোম্পানির। তবে বাস্তবে কেবল ২-৩টি কোম্পানিই এটি উৎপাদন করে।
টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে প্রাথমিক ও মৌলিক ওষুধ হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হয় মেটফরমিন। ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বিভিন্ন স্ট্রেন্থ ও ফর্মুলেশনের মেটফরমিন উৎপাদনের অনুমোদন থাকলেও এককভাবে মেটফরমিন ৫০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেট উৎপাদনের লাইসেন্স আছে প্রায় ৭০টিরও বেশি কোম্পানির।
বাজার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এই ট্যাবলেট বাজারে সরবরাহ করে প্রধানত ১৫-২০টি কোম্পানি। সাধারণ মেটফরমিন ৫০০ মিলিগ্রাম ট্যাবলেটের সরকারি খুচরা মূল্য তুলনামূলক কম। ফলে অনেক কোম্পানি এই মৌলিক ট্যাবলেটটি উৎপাদন না করে, একই কাঁচামাল দিয়ে বেশি দামের এক্সটেন্ডেড রিলিজ কিংবা সিটাগ্লিপটিন, ভিলডাগ্লিপটিন বা এমপাগ্লিফ্লোজিনের মতো অন্যান্য উপাদানের সাথে যুক্ত করে নতুন ড্রাগ উৎপাদন করছে। ফলে কম দামের একক মেটফরমিন ওষুধটি বাজারে কম পাওয়া যায়।
এই প্রসঙ্গে কেমিস্ট ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম সারওয়ার চরচাকে বলেন, “লাইসেন্স তো একটা কোম্পানি নেয় সেই প্রোডাক্টটা উৎপাদন করার জন্য। কিন্তু সেটা উৎপাদন করে লাভ না হলে আমরা কীভাবে উৎপাদন করব? ডলারের দাম ও কাঁচামালের দাম যে হারে বেড়েছে, তাতে এসব ওষুধ উৎপাদন করে টিকে থাকতে পারব না। আজ থেকে ৩০ বছর আগের সেই তালিকা ও দাম এখনো কার্যকর। সেই দামে ওষুধ বেচে আমাদের লাভ তো হয়ই না, উল্টো লস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।”
তার কোম্পানি এসব জরুরি ওষুধ উৎপাদন করে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যতগুলো লাইসেন্স নেওয়া আছে, তার সবগুলো করি না। অর্ধেকটার মতো করি।”
আইনি ফাঁক ও কৃত্রিম সংকট
বাংলাদেশের ওষুধ নীতি অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি কোনো জেনেরিকের লাইসেন্স নেওয়ার পর তা যদি উৎপাদন না-ও করে, তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার মতো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ওষুধ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ডিজিডিএ থেকে প্রতিনিয়ত তদারকি করা হলেও কোম্পানিগুলো কাঁচামালের সংকট কিংবা যান্ত্রিক ত্রুটির কারণ দেখিয়ে উৎপাদন স্থগিত রাখে। ফলে সরকার নির্ধারিত দামের জরুরি ওষুধগুলো বাজার থেকে উধাও হয়ে যায় এবং রোগীরা একই চিকিৎসায় বিকল্প ব্র্যান্ডের বেশি দামের ওষুধ কিনতে বাধ্য হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক অধ্যাপক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার চরচাকে বলেন, “ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাঁচামালের দামও বেড়ে গেছে। তাই অনেক কোম্পানি এসব ওষুধ উৎপাদন করে খুব বেশি লাভ করতে পারে না। তখন তারা সেগুলো উৎপাদনে উৎসাহ হারায়। এটা একটা সংকট। এখান থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে একটা ভারসাম্যমূলক পন্থা ভাবতে হবে, যেন ওষুধ শিল্পও রক্ষা পায়, আবার জনগণও একটু কম দামে ওষুধ কিনতে পারে।”
ভবিষ্যতে এই খাত আরও সংকটে পড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “বর্তমানে সারা বিশ্বে ওষুধের দাম আরও বাড়ছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে ওষুধের দাম অনেক কম। মূলত, বাংলাদেশে অধিকাংশ বেসিক ওষুধ তৈরি হয়। তাই সেগুলোকে কিছুটা কম দামে দেওয়া সম্ভব হয়। সামনে আরও বেশি যৌগের ওষুধ তৈরি হবে, তখন দাম অনেক বেড়ে যাবে।”
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক আকতার হোসেন বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত ওষুধ খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। সরকারও বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক। আশা করি, এই সমস্যা থাকবে না।”