“বড় দুটি দল (বিএনপি ও জামাত) জোট করার চেষ্টা করছে। অন্যদের ভোট বিশেষত সমর্থন তারা নিজেদের ঘরে নিতে চায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলে ‘দুভার্জার ইফেক্ট’। আগামী সংসদে যে সরকার গঠন হবে, সমর্থন বেশি থাকলে তার শক্তিও বেশি থাকবে।”
তাসীন মল্লিক

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর জোট গঠন নিয়ে নানা তৎপরতা বলে দিচ্ছে জোটের রাজনীতি হবে আগামী ভোটের ‘বড় ফ্যাক্টর’।
বিএনপি তার আগের জোট সঙ্গীদের নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রস্তুতি গ্রহণে সক্রিয়। পাশাপাশি নতুন দলকে জোটে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনাও চালাচ্ছে। বিএনপির একসময়ের জোট সঙ্গী জামায়াতে ইসলামীও সমমনাদের নিয়ে ভোটের মাঠে নামতে চাইছে। ভোটের আগে মাঠও গরম করছে তারা।
অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের জল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি এবং গণঅধিকারসহ কয়েকটি উদীয়মান দল তৃতীয় শক্তি গঠনের পথে এগোচ্ছে বলে রাজনীতির মাঠের জোর খবর। তাদের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র বিকল্প নাকি ‘কিংমেকার’ কৌশলের অংশ হবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮৬ সাল থেকে দলগুলো জোট করে ভোট করছে। নির্বাচনে জোটের রাজনীতি পুরোনো কৌশল হলেও আগামী নির্বাচনে এটি বাড়তি গুরুত্ব বহন করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। জোট বা সমঝোতার মধ্য দিয়ে দলগুলো শক্তিশালী সরকার গঠন করতে চাচ্ছে বলে মত তাদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান চরচাকে বলেন, “বড় দুটি দল (বিএনপি ও জামাত) জোট করার চেষ্টা করছে। অন্যদের ভোট বিশেষত সমর্থন তারা নিজেদের ঘরে নিতে চায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলে ‘দুভার্জার ইফেক্ট’। আগামী সংসদে যে সরকার গঠন হবে, সমর্থন বেশি থাকলে তার শক্তিও বেশি থাকবে।”
“ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় সবই আসবে এক এক করে। জোট নিয়ে সব দলের সঙ্গেই আলোচনা চলমান। তবে জোট নিয়ে বলার মতো কোনো পর্যায়ে এখনো যায়নি। এর সময় আসেনি।”
‘বৃহৎ জোটের’ চেষ্টা বিএনপির
নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি বৃহৎ জোট গঠনের কৌশলে মনোযোগী হয়েছে। দলীয় একক প্রার্থীর আসনভিত্তিক প্রস্তুতির পাশাপাশি তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে থাকা বিভিন্ন বাম-ডান ও ইসলামপন্থী দলকে নিয়ে ব্যাপক জোট গড়তে চাইছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও গত ২৭ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন যে নির্বাচনের আগে একটি বৃহৎ জোট গঠন তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি বলেন, সারা দেশে আসনভিত্তিক যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে তারা এরই মধ্যে আলোচনা করেছেন।
দলটি ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থীদের নির্বাচনের প্রচারণার নির্দেশ দিয়েছে। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিগত ১৫ বছরে দলটির সঙ্গে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকা দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সংসদীয় আসন জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র ১২ দলীয় জোটের কোনো কোনো নেতাকে বিভিন্ন আসনে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে যুক্ত থাকা দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক হবে এবং তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ঘোষণাও আসতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ চরচাকে বলেন, “ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় সবই আসবে এক এক করে। জোট নিয়ে সব দলের সঙ্গেই আলোচনা চলমান। তবে জোট নিয়ে বলার মতো কোনো পর্যায়ে এখনো যায়নি। এর সময় আসেনি।”
এনসিপির সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যোগাযোগ আছে। দেখা যাক।
বিএনপির বিপরীতে ঐক্য প্রচেষ্টায় জামাত
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াত আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৯৯ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়। ২০০১ সালে জামায়াতকে নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের সম্পর্ক আগের মতো নেই।
দীর্ঘদিন একসঙ্গে কর্মসূচিতে না থাকার পর ২০২২ সালে দলীয় এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছিলেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট আর নেই। তবে তারা যুগপৎ আন্দোলনে আছেন।
গত বছর আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে শুরুতে সেরকম টানাপোড়েন দেখা না গেলেও সময়ের সঙ্গে বিরোধ স্পষ্ট হতে থাকে। সংস্কার, গণভোট, সংসদ নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে পুরোনো দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধ দেখা দিচ্ছে।
ইসলামপন্থী দলগুলোর জোট বাঁধার আলোচনার সূত্রপাত গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে। নিজ দলের ব্যানারে ও রাজনীতিতে প্রকাশ্যে জামায়াতের কার্যক্রম শুরু হয়। নিষিদ্ধ থাকলেও তখন দলটি দীর্ঘদিনের গোপনীয়তা ভেঙে সামনে এসে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করে।

আক্বিদার প্রশ্নে পুরোপুরি বিপরীত মেরুতে থাকা দলগুলোর নেতাদেরও সঙ্গে আলোচনা শুরু করে জামায়াত।
এক বছর ধরে জোট গঠনের প্রচেষ্টা চালানো জামায়াতের লক্ষ্য ইসলামপন্থীদের ভোট এক বাক্সে আনা। সংখ্যানুপাতিক ব্যবস্থায় নির্বাচনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসসহ ছয়টি দলের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনও করেছে দলটি। বিএনপির মতো জামায়াতও তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ঘোষণা করবে।
তবে নির্বাচনের আগে বিএনপিও সমমনা দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তুলতে আগ্রহী তারা। এজন্য এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের মত দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে দলটি।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের চরচাকে বলেন, “সোয়া এক বছরের বেশি সময় ধরেই আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্য ও সমঝোতার প্রক্রিয়ায় রয়েছি। নির্বাচন ধরে জোট তো এদেশেরই সংস্কৃতি। ডিসেম্বরের মধ্যেই আপনারা এর সুফল দেখতে পাবেন।”
উদীয়মানেরা বিকল্প নাকি কিংমেকার?
নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি, এবি পার্টি এবং গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলো একটি জোট গঠনের প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক বৈঠকের পর ৯ দল নিয়ে জোট গঠনের প্রক্রিয়া এখন আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ নেতারা।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন শিশির চরচাকে বলেন, “আমরা সংস্কারপন্থী দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য করতে চাই। এ লক্ষেই আলোচনা চলছে। জোট গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’’
সম্প্রতি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ইঙ্গিত দিয়েছেন তার দল এনসিপিকে জোটে টানার চেষ্টা করছে। যদিও এনসিপির নেতারা এ বিষয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হয়নি।
৯ দলের সম্ভাব্য জোটের দলগুলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেও বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ ছিল দলগুলো। বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে জোট গঠন করে ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে চায় তারা।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু চরচাকে বলেন, ‘‘পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর যে জোট তার বাইরে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নতুন বন্দোবস্তের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আমরা একটি জোট গঠনের চেষ্টা করছি। এটা এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে আছে। এর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি থাকলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব। এই সম্ভাব্য জোট যদি হয় তাহলে তা অবশ্যই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে গণ্য হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’’
তবে জোট গঠন করে আগামী নির্বাচনের ‘কিংমেকার’ হিসেবেও ভূমিকা পালন করতে পারে এ জোট। বিশেষজ্ঞদের মতে আগামী সংসদে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া দলগুলোর অন্তর্ভুক্তি বাড়তি মাত্রা যুক্ত করবে।
অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের মতে, ‘‘এ দলগুলো অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া দল। সংসদে বা সরকারে নিজেদের পক্ষে রাখতে বড় দল দুটির চেষ্টা থাকাই স্বাভাবিক।’’
গণতন্ত্র মঞ্চের একাধিক শীর্ষ নেতা চরচাকে জানান, গণতন্ত্র মঞ্চ এবং সিপিপির সঙ্গ তাদের আসন সমঝোতা চলছে। বিশেষত গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আসনের তালিকাও চেয়েছে বিএনপি।
গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি চরচাকে বলেন, ‘‘আমরা গণতন্ত্রমঞ্চের পক্ষ থেকে বিএনপির সঙ্গে একটা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’’
যদিও ৯ দলের সঙ্গে বিএনপির কোন জোট আলোচনা হয়নি জানিয়ে মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘‘বিএনপি’র সাথে নির্বাচনী জোট নিয়ে কোন আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। আপনারা যেসব কথা শুনছেন সেগুলো কোনটাই আনুষ্ঠানিক সিরিয়াস পর্যায়ের আলোচনা না বলে আমার ধারণা।’’

আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর জোট গঠন নিয়ে নানা তৎপরতা বলে দিচ্ছে জোটের রাজনীতি হবে আগামী ভোটের ‘বড় ফ্যাক্টর’।
বিএনপি তার আগের জোট সঙ্গীদের নিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রস্তুতি গ্রহণে সক্রিয়। পাশাপাশি নতুন দলকে জোটে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনাও চালাচ্ছে। বিএনপির একসময়ের জোট সঙ্গী জামায়াতে ইসলামীও সমমনাদের নিয়ে ভোটের মাঠে নামতে চাইছে। ভোটের আগে মাঠও গরম করছে তারা।
অন্যদিকে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের জল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এবি পার্টি এবং গণঅধিকারসহ কয়েকটি উদীয়মান দল তৃতীয় শক্তি গঠনের পথে এগোচ্ছে বলে রাজনীতির মাঠের জোর খবর। তাদের এই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত স্বতন্ত্র বিকল্প নাকি ‘কিংমেকার’ কৌশলের অংশ হবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৮৬ সাল থেকে দলগুলো জোট করে ভোট করছে। নির্বাচনে জোটের রাজনীতি পুরোনো কৌশল হলেও আগামী নির্বাচনে এটি বাড়তি গুরুত্ব বহন করবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। জোট বা সমঝোতার মধ্য দিয়ে দলগুলো শক্তিশালী সরকার গঠন করতে চাচ্ছে বলে মত তাদের।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান চরচাকে বলেন, “বড় দুটি দল (বিএনপি ও জামাত) জোট করার চেষ্টা করছে। অন্যদের ভোট বিশেষত সমর্থন তারা নিজেদের ঘরে নিতে চায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলে ‘দুভার্জার ইফেক্ট’। আগামী সংসদে যে সরকার গঠন হবে, সমর্থন বেশি থাকলে তার শক্তিও বেশি থাকবে।”
“ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় সবই আসবে এক এক করে। জোট নিয়ে সব দলের সঙ্গেই আলোচনা চলমান। তবে জোট নিয়ে বলার মতো কোনো পর্যায়ে এখনো যায়নি। এর সময় আসেনি।”
‘বৃহৎ জোটের’ চেষ্টা বিএনপির
নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি বৃহৎ জোট গঠনের কৌশলে মনোযোগী হয়েছে। দলীয় একক প্রার্থীর আসনভিত্তিক প্রস্তুতির পাশাপাশি তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে থাকা বিভিন্ন বাম-ডান ও ইসলামপন্থী দলকে নিয়ে ব্যাপক জোট গড়তে চাইছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও গত ২৭ সেপ্টেম্বর জানিয়েছেন যে নির্বাচনের আগে একটি বৃহৎ জোট গঠন তাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। তিনি বলেন, সারা দেশে আসনভিত্তিক যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে তারা এরই মধ্যে আলোচনা করেছেন।
দলটি ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থীদের নির্বাচনের প্রচারণার নির্দেশ দিয়েছে। বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিগত ১৫ বছরে দলটির সঙ্গে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকা দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সংসদীয় আসন জানতে চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র ১২ দলীয় জোটের কোনো কোনো নেতাকে বিভিন্ন আসনে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে যুক্ত থাকা দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক হবে এবং তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ঘোষণাও আসতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ চরচাকে বলেন, “ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় সবই আসবে এক এক করে। জোট নিয়ে সব দলের সঙ্গেই আলোচনা চলমান। তবে জোট নিয়ে বলার মতো কোনো পর্যায়ে এখনো যায়নি। এর সময় আসেনি।”
এনসিপির সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, যোগাযোগ আছে। দেখা যাক।
বিএনপির বিপরীতে ঐক্য প্রচেষ্টায় জামাত
১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা জামায়াত আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলনের সময় ১৯৯৯ সালে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়। ২০০১ সালে জামায়াতকে নিয়ে সরকার গঠন করে বিএনপি। তবে গত কয়েক বছর ধরে তাদের সম্পর্ক আগের মতো নেই।
দীর্ঘদিন একসঙ্গে কর্মসূচিতে না থাকার পর ২০২২ সালে দলীয় এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান বলেছিলেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের জোট আর নেই। তবে তারা যুগপৎ আন্দোলনে আছেন।
গত বছর আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে শুরুতে সেরকম টানাপোড়েন দেখা না গেলেও সময়ের সঙ্গে বিরোধ স্পষ্ট হতে থাকে। সংস্কার, গণভোট, সংসদ নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে পুরোনো দুই বন্ধুর মধ্যে বিরোধ দেখা দিচ্ছে।
ইসলামপন্থী দলগুলোর জোট বাঁধার আলোচনার সূত্রপাত গত বছরের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে। নিজ দলের ব্যানারে ও রাজনীতিতে প্রকাশ্যে জামায়াতের কার্যক্রম শুরু হয়। নিষিদ্ধ থাকলেও তখন দলটি দীর্ঘদিনের গোপনীয়তা ভেঙে সামনে এসে ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করে।

আক্বিদার প্রশ্নে পুরোপুরি বিপরীত মেরুতে থাকা দলগুলোর নেতাদেরও সঙ্গে আলোচনা শুরু করে জামায়াত।
এক বছর ধরে জোট গঠনের প্রচেষ্টা চালানো জামায়াতের লক্ষ্য ইসলামপন্থীদের ভোট এক বাক্সে আনা। সংখ্যানুপাতিক ব্যবস্থায় নির্বাচনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসসহ ছয়টি দলের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনও করেছে দলটি। বিএনপির মতো জামায়াতও তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ঘোষণা করবে।
তবে নির্বাচনের আগে বিএনপিও সমমনা দলগুলোর বিরুদ্ধে নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তুলতে আগ্রহী তারা। এজন্য এনসিপি, এবি পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের মত দলগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে দলটি।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের চরচাকে বলেন, “সোয়া এক বছরের বেশি সময় ধরেই আমরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্য ও সমঝোতার প্রক্রিয়ায় রয়েছি। নির্বাচন ধরে জোট তো এদেশেরই সংস্কৃতি। ডিসেম্বরের মধ্যেই আপনারা এর সুফল দেখতে পাবেন।”
উদীয়মানেরা বিকল্প নাকি কিংমেকার?
নির্বাচন সামনে রেখে এনসিপি, এবি পার্টি এবং গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলো একটি জোট গঠনের প্রচেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক বৈঠকের পর ৯ দল নিয়ে জোট গঠনের প্রক্রিয়া এখন আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন শীর্ষ নেতারা।
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন শিশির চরচাকে বলেন, “আমরা সংস্কারপন্থী দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য করতে চাই। এ লক্ষেই আলোচনা চলছে। জোট গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’’
সম্প্রতি বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদ ইঙ্গিত দিয়েছেন তার দল এনসিপিকে জোটে টানার চেষ্টা করছে। যদিও এনসিপির নেতারা এ বিষয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিএনপির সঙ্গে তাদের কোনো আলোচনা হয়নি।
৯ দলের সম্ভাব্য জোটের দলগুলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনেও বিভিন্ন ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ ছিল দলগুলো। বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে জোট গঠন করে ভোটের মাঠে স্বতন্ত্র বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হতে চায় তারা।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু চরচাকে বলেন, ‘‘পুরোনো রাজনৈতিক দলগুলোর যে জোট তার বাইরে গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নতুন বন্দোবস্তের রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আমরা একটি জোট গঠনের চেষ্টা করছি। এটা এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে আছে। এর কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি থাকলে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব। এই সম্ভাব্য জোট যদি হয় তাহলে তা অবশ্যই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে গণ্য হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।’’
তবে জোট গঠন করে আগামী নির্বাচনের ‘কিংমেকার’ হিসেবেও ভূমিকা পালন করতে পারে এ জোট। বিশেষজ্ঞদের মতে আগামী সংসদে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া দলগুলোর অন্তর্ভুক্তি বাড়তি মাত্রা যুক্ত করবে।
অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমানের মতে, ‘‘এ দলগুলো অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া দল। সংসদে বা সরকারে নিজেদের পক্ষে রাখতে বড় দল দুটির চেষ্টা থাকাই স্বাভাবিক।’’
গণতন্ত্র মঞ্চের একাধিক শীর্ষ নেতা চরচাকে জানান, গণতন্ত্র মঞ্চ এবং সিপিপির সঙ্গ তাদের আসন সমঝোতা চলছে। বিশেষত গণতন্ত্র মঞ্চের দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের আসনের তালিকাও চেয়েছে বিএনপি।
গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি চরচাকে বলেন, ‘‘আমরা গণতন্ত্রমঞ্চের পক্ষ থেকে বিএনপির সঙ্গে একটা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’’
যদিও ৯ দলের সঙ্গে বিএনপির কোন জোট আলোচনা হয়নি জানিয়ে মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘‘বিএনপি’র সাথে নির্বাচনী জোট নিয়ে কোন আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। আপনারা যেসব কথা শুনছেন সেগুলো কোনটাই আনুষ্ঠানিক সিরিয়াস পর্যায়ের আলোচনা না বলে আমার ধারণা।’’

বস্তিগুলোতে আগুন লাগার মূল কারণ হচ্ছে সম্পূর্ণ অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক সংযোগ, নিয়ম না মেনে সিলিন্ডার বা লাইন গ্যাসের অনিরাপদ ব্যবহার, বিড়ি-সিগারেট, মশার কয়েল ও খোলা বাতির ব্যবহার, উন্মুক্ত চুলা ও হিটারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার। উদাসীনতা ও অসাবধানতা এই ঝুঁকি আরও বাড়ায়

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে কথা বলেছেন তার আইনজীবী মোরশেদ হোসেন। তিনি বলেন, “কারাগারে সাধন চন্দ্র মজুমদারের সঙ্গে যখন কথা হয়, তখন তিনি কেবল সাবেক শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদের মৃত্যুর প্রসঙ্গে কথা বলতে থাকেন। নুরুল মজিদের মৃত্যু অন্য নেতাদের ভীষণ চিন্ত