চলতি বছরের শুরু থেকেই রাজধানীর কম্পিউটারের বাজারে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এরমধ্যে র্যাম, এসএসডি ও হার্ডডিস্কের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। কোম্পানি ভেদে এসব যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত। বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ কাজে ব্যবহারের পিসি তৈরিতে খরচ বেড়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ।
পণ্যের এত দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। আমদানিকারকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে পণ্য সংকট এবং এআই নির্ভরতার কাজে এসব পণ্যের সর্বাধিক ব্যবহারে দাম বেড়েছে।
ক্রেতারা জানান, বাজারে কম্পিউটারের সকল যন্ত্রাংশের দাম বেড়ে গেছে। অনেক সময় আগে টাকা দিয়েও পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। সামগ্রিকভাবে এর একটা নেতিবাচক প্রভাব ফ্রিল্যান্সিং খাতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের আইডিবি ভবন ঘুরে দেখা যায়, কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে। যার মধ্যে এসএসডি, র্যাম ও হার্ডডিস্কের দাম সবেচেয়ে বেশি বেড়েছে। আগে ৮ জিবি র্যামের দাম ছিল ২৫০০ টাকা, যার বর্তমান দাম ১০ হাজার টাকার বেশি।
কম্পিউটার সামগ্রী বিক্রয় প্রতিষ্ঠান রায়ানসের ম্যানেজার এস এম আরিফুজ্জামান বিপ্লব বলেন, “বর্তমান এআইয়ের যুগ। বিভিন্ন দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাজ চলছে। তাদের প্রচুর চাহিদার কারণে দাম বেড়েছে।”
যন্ত্রাংশ আমদানিকারক স্টারটেকের ম্যানেজার ইকবাল বাহার বলেন, “আসলে বছরের শুরু থেকেই কম্পিউটারের বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। প্রতিনিয়ত আরও দাম বাড়ছে। কবে স্বাভাবিক হয় সেটিও বলা যাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এআইভিত্তিক ডেটা সেন্টার তৈরি হচ্ছে। ফলে র্যাম, এসএসডি ও হার্ডডিস্ক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে সরাসরি বড় বড় কোম্পানি এসব যন্ত্রাংশ বিপুল পরিমাণ চাহিদা দিয়েছে। তাদের চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের প্রয়োজনীয় এসব যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারছে না তারা। এতে বিশ্বজুড়ে যন্ত্রাংশের সংকট দেখা দিয়েছে। যার ফলে বিপুল পরিমাণ দাম বেড়েছে।”
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১২০ জিবি এসএসডির দাম বেড়েছে পাঁচ হাজারের বেশি। এছাড়া কোম্পানি ভেদে হার্ডডিস্ক ও গ্রাফিক্স কার্ডের দাম বেড়েছে দ্বিগুণের মতো।
আরও কিছু যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে। যার মধ্যে প্রসেসরের দাম কোম্পানি ভেদে এক হাজারের বেশি বেড়েছে। বর্তমানে ইন্টেল কোর আলট্রা ৯ ২৮৫কে ৫.৭০ গিগাহার্টজ (গি.হা.) ৭৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোর আই-৯ ৬ গি.হা. ১৪ প্রজন্ম র্যাপ্টর লেক রিফ্রেশ ৫৬ হাজার টাকা, কোর আলট্রা ৭ ২৬৫কে (৫.৫ গি.হা.) ৩৭ হাজার টাকা।
রাজধানীর আইডিবি ভবন ঘুরে দেখা যায়, কম্পিউটারের বিভিন্ন যান্ত্রাংশের দাম বেড়েছে। যার মধ্যে এসএসডি, র্যাম ও হার্ডডিস্কের দাম সবেচেয় বেশি বেড়েছে। আগে ৮ জিবি র্যামের দাম ছিল ২৫০০ টাকা, যার বর্তমান দাম ১০ হাজারের বেশি। ১২০ জিবি এসএসিডির দাম বেড়েছে পাঁচ হাজারের বেশি। এ ছাড়া কোম্পানি ভেদে হার্ডডিস্ক ও গ্রাফিক্স কার্ডের দাম বেড়েছে দ্বিগুণের সমান।
কোম্পানি ভেদে যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে তিন থেকে চার গুণ পর্যন্তআরও কিছু যন্ত্রাংশের দাম বেড়েছে। যার মধ্যে প্রসেসরের দাম ছয় মাস আগের চেয়ে কোম্পানি ভেদে এক হাজারের বেশি বেড়েছে।
বর্তমান বাজারে ইন্টেল কোর আলট্রা ৯ ২৮৫কে ৫.৭০ গিগাহার্টজ (গি.হা.)-এর দাম ছয় মাস আগে ছিল ৭১ হাজার টাকা। এখন ৭৩ হাজার টাকা। কোর আই-৯ ৬.০০ গি.হা. ১৪ জেনারেশন র্যাপ্টর লেক রিফ্রেশ ছয় মাস আগে ছিল ৫৫ হাজার, এখন ৫৬ হাজার টাকা। কোর আলট্রা ৭ ২৬৫কে (৫.৫ গি.হা.) ছয় মাস আগে ছিল ৩৫ হাজার টাকা এখন ৩৭ হাজার টাকা।
মাদারবোর্ড
আসুস: প্রাইম এইচ৬১০এম (ডিডিআর ৪) আগে ছিল ১০ হাজার টাকা, এখন ১২ হাজার টাকা, টাফ গেমিং বি৫৫০এম প্লাস (ডিডিআর ৪) আগে ১৮ হাজার টাকা। এখন ২০ হাজার টাকা। প্রাইম জেড৮৯০ প্লাস সিএসএম (ডিডিআর ৫) (ওয়াই–ফাই-৭) আগে ৩৬ হাজার টাকা এখন ৩৯ হাজার টাকা।
হার্ডডিস্ক ড্রাইভ (এইচডিডি)
সিগেট বারাকুডা ৩৫ ৭২০০ আরপিএম সাটা ২ টেরাবাইট (টে.বা) আগে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। এখন ১১ হাজার টাকা। তোশিবা ২ টে.বা তোশিবা পি৩০০ ৭২০০ আরপিএম আগে সাড়ে ৮ হাজার টাকা ছিল এখন ১১ হাজার টাকা, ৪ টে.বা তোশিবা এক্স৩০০ ৭২০০ আরপিএম আগে ১৫ হাজার টাকা এখন ১৮ হাজার টাকা।
গ্রাফিক্স কার্ডের দাম বেড়েছে ২-৫ হাজার পর্যন্ত
গিগাবাইট জিটি ১০৩০ ২ জিবি আগে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। এখন ১৩ হাজার টাকা। আরটিএক্স ৩০৫০ উইন্ডফোর্স ওসি ভি২ ৬জিবি আগে ২৬ হাজার টাকায়, এখন ৩০ হাজার টাকা এবং আরটিএক্স ৩০৫০ উইন্ডফোর্স ওসি ভি২ ৮ জিবি আগে ২৮ হাজার, এখন ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এ ছাড়া মনিটর, রাউটার, কি-বোর্ড, প্রসেসরসহ সকল যন্ত্রাংশের দাম কোম্পানি ভেদে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা বেড়েছে।
পিসি তৈরিতে কত খরচ
রায়ানসের বিক্রয়কর্মী মুসফিক ইসলাম বলেন, “আগে স্বাভাবিক কাজের জন্য একটি কম্পিউটার তৈরিতে ৪০ হাজার টাকা মতো খরচ হতো। এখন সেটার জন্য ৫০ হাজারের বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। যার মধ্যে ইন্টেলের এন ১০০ প্রসেসর, আসুস প্রাইম ডি ৪ মাদার বোর্ড, ৮ জিবি র্যাম ও ইন্ট্রিগেট গ্রাফিক্স কার্ডসহ সিপিউ বানাতে ৩০ হাজারের বেশি খরচ, বাকি ১০ হাজার একটি মনিটর। এছাড়া কিবোর্ড, মাউসসহ সব মিলিয়ে ৫০ হাজারের বেশি টাকা খরচ হচ্ছে।’’
বিশ্বজুড়ে যন্ত্রাংশের সংকট দেখা দিয়েছে। ছবি: চরচামুসফিক বলেন, “হেভি কাজের জন্য একটি ভালো মানের কম্পিউটার তৈরিতে এক লাখের বেশি টাকা খরচ হবে।”
গেমিং পিসি কিনতে আসা লাবিব আহমেদ বলেন, ‘‘আমার গেমিং পিসির সমস্যা হয়েছে। আজ র্যাম ও মাদারবোর্ড কেনার জন্য এসেছি কিন্তু দাম যেভাবে বাড়ছে! তাতে বাজেটের সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।”
ফ্রিল্যান্সার অনিক ইসলাম বলেন, “বাজারে বর্তমানে পণ্যের অনেক সংকট। আমার ছোট একটা আইটি ফার্ম রয়েছে। আমাদের নিয়মিত বিভিন্ন যন্ত্রাংশের প্রয়োজন হয়। এসব যদি না পাওয়া যায় তাহলে কাজের ব্যাঘাত ঘটে। আর দামের কথা না হয় বাদই দিলাম।”
জিল্লুর রহমান নামের একজন ক্রেতা বলেন, ‘‘আমার মেয়ের ল্যাপটপের সমস্যা হয়েছিল। রায়ানসে নিয়ে আসার পর ধারণার চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিয়ে সার্ভিসিং করে নিয়েছি।’’