Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

আল-আকসা মসজিদও হাতছাড়া হচ্ছে?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ৩১ মে ২০২৬, ১৫: ০৭
আল-আকসা মসজিদও হাতছাড়া হচ্ছে?

সাংবাদিক পিটার ওবোর্নের মতে, জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদের নিয়ন্ত্রণ ও অভিভাবকত্ব রক্ষা করার প্রশ্নে জর্ডানের বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ এক চরম অস্বস্তিতে পড়েছে। এবং অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রায় ১৪০০ বছর ধরে মুসলমানরা এই পবিত্র স্থানে নামাজ আদায় করে আসছেন এবং এটি মক্কা ও মদিনার পর ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান। কিন্তু বর্তমান সময়ে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নীতিগত পদক্ষেপ জর্ডানের এই ঐতিহাসিক ও আইনি অধিকারকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য তো বটেই, এমনকি বিশ্বজুড়ে একটি বড় ধরনের ধর্মীয় যুদ্ধ বা সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ইসরায়েলের ক্রমাগত আগ্রাসন

১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আল-আকসা পবিত্র স্থানটির ওপর তাদের নজর ছিল। বিগত ২৫ বছরে এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আরও জোরালো ও সহিংস হয়ে উঠেছে। ওবোর্ন ২০০০ সালের সেপ্টেম্বর মাসের একটি কালো অধ্যায়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। ওই সময় ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা অ্যারিয়েল শ্যারন ১০০০-এরও বেশি পুলিশ অফিসার নিয়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। এই উস্কানিমূলক পদক্ষেপের ফলেই ফিলিস্তিনিদের দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা গণজাগরণ শুরু হয়েছিল। ওবোর্নের মতে, সেটিই ছিল আল-আকসা প্রাঙ্গণ জর্ডানের হাত থেকে ইসরায়েলের দখলে নেওয়ার একটি সূক্ষ্ম ও ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার সূচনা।

আন্তর্জাতিক আইন এবং দীর্ঘদিনের ‘স্ট্যাটাস কু’ বা স্থিতাবস্থা চুক্তি অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদের একমাত্র বৈধ অভিভাবক বা কাস্টডিয়ান হলেন জর্ডানের হাশেমী রাজপরিবারের প্রধান তথা বাদশা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ। এই চুক্তি মোতাবেক মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার দায়িত্ব জর্ডানের। কিন্তু ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী এই চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে প্রতিনিয়ত সেখানে হস্তক্ষেপ করছে। পিটার ওবোর্নের নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, আল-আকসার ঠিক কেন্দ্রস্থলে ইসরায়েলি পুলিশ তাদের একটি স্টেশন স্থাপন করেছে। এমনকি মসজিদের সাধারণ কর্মীরাও ইসরায়েলের অনুমতি ছাড়া একটি পানির পাইপ মেরামত বা নিজেদের অফিস রঙ করার মতো সাধারণ কাজও করতে পারেন না। মসজিদের দক্ষিণ প্রান্তের প্রাচীন প্রার্থনা হলের দেওয়ালে ইসরায়েলি বাহিনীর বুলেটের দাগ এখনও স্পষ্ট, যা সাধারণ ইবাদতকারীদের ওপর তাদের নির্মমতার সাক্ষ্য বহন করে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

জর্ডানের অভিভাবকত্ব কেড়ে নেওয়ার মার্কিন-ইসরায়েলি চক্রান্ত

মিডল ইস্ট আই-তে লেখা পিটার ওবোর্ন তার বিশ্লেষণে একটি ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্রের কথা তুলে ধরেছেন। মার্কিন, জর্ডানি এবং ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি জর্ডানের রাজপরিবারকে আল-আকসার অভিভাবকত্ব থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। যদিও একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই দাবি অস্বীকার করেছেন। তবে পরিকল্পনার বিবরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

এই কথিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, আল-আকসা মসজিদের ইমাম নিয়োগ, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পদায়ন এবং এমনকি জুমার খুতবার বিষয়বস্তু অনুমোদনের ক্ষেত্রেও ইসরায়েলকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ও ভূমিকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ওবোর্ন এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টাকে ১৯৯৪ সালের হেব্রন শহরের ইব্রাহিমি মসজিদের ঘটনার সাথে তুলনা করেছেন। ১৯৯৪ সালে ইহুদি সন্ত্রাসী বারুচ গোল্ডস্টেইন ইব্রাহিমি মসজিদে নামাজরত ২৯ জন ফিলিস্তিনিকে নির্বিচারে হত্যা করার পর, সেই পবিত্র মসজিদটিকে জোরপূর্বক বিভক্ত করা হয়েছিল। বর্তমান ইসরায়েলি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই খুনি গোল্ডস্টেইনকে নিজের আদর্শ মানেন এবং রাজনীতিতে আসার আগে তার বসার ঘরে গোল্ডস্টেইনের ছবি ঝুলিয়ে রাখতেন। বেন গভির এখন প্রায়শই আল-আকসায় উস্কানিমূলকভাবে প্রবেশ করেন এবং নিজেকে সেখানকার ‘মালিক’ বা স্বত্বাধিকারী হিসেবে দাবি করেন।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ও শিন বেতের ভূমিকা

নিবন্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে– তা হলো ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’-এর নীতিগত পরিবর্তন। অতীতে শিন বেতের মতো কট্টরপন্থী সংস্থাও আল-আকসায় ইহুদি উগ্রবাদীদের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডকে বিপজ্জনক মনে করত। ১৯৮৪ সালে ইহুদি সন্ত্রাসীদের আল-আকসায় একটি বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা শিন বেত নস্যাৎ করে দিয়েছিল। তৎকালীন শিন বেত কমান্ডার এহুদ ইয়াতোম ২০০৪ সালে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, সেই হামলা যদি সফল হতো, তবে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমে যেত, যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের রূপ নিতে পারত।

কিন্তু বর্তমানে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অতি-ডানপন্থী কোয়ালিশন সরকারের চাপে শিন বেতের সেই সতর্ক অবস্থান বদলে গেছে। সংস্থাটির নতুন প্রধান ডেভিড জিনি এখন ইসরায়েলের ধর্মীয় ডানপন্থীদের এজেন্ডার সাথে সুর মেলাচ্ছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি সংস্থার সব কম্পিউটারের ব্যাকগ্রাউন্ডে আল-আকসা প্রাঙ্গণের (যাকে ইহুদিরা টেম্পল মাউন্ট বলে) ছবি জুড়ে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ আপত্তির মুখে ‘দুর্ঘটনা’ বলে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওবোর্ন মনে করেন, ইসরায়েলের কট্টরপন্থী ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো আল-আকসার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘ডোম অব দ্য রক’ (কুব্বাত আস-সাখরা) ধ্বংস করে সেখানে তাদের ‘তৃতীয় উপাসনালয়’ বা থার্ড টেম্পল নির্মাণ করতে চায়। এবং ইসরায়েলি প্রশাসন এখন তাদের পরোক্ষ সমর্থন দিচ্ছে।

বাদশা আবদুল্লাহর দ্বিধা: আত্মসমর্পণ বনাম প্রতিরোধ

এই চরম পরিস্থিতিতে জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহর সামনে দুটি পথ খোলা আছে। এবং দুটি পথই তার ও তার দেশের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আম্মানে অবস্থানরত সিআইএ এবং রাজার কিছু নিজস্ব উপদেষ্টা তাকে ইসরায়েলের সাথে কোনো প্রকার সংঘাতে না যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের যুক্তি হলো, ইসরায়েলের সামরিক শক্তির সামনে জর্ডানের প্রতিরোধ টিকবে না। তাছাড়া জর্ডান তার নিজের নিরাপত্তা এবং পানির মতো মৌলিক চাহিদার জন্য ইসরায়েলের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। দেশটির ১ কোটি ২০ লাখ মানুষের সিংহভাগই ইসরায়েল সীমান্তের কাছাকাছি একটি সংকীর্ণ অঞ্চলে বসবাস করে। ফলে ইসরায়েলের সাথে শত্রুতা রাজতন্ত্রের অবসান ঘটাতে পারে।

তবে পিটার ওবোর্নের মতে, জর্ডানের প্রতিরোধ গড়ে তোলার পক্ষেও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ঐতিহাসিক যুক্তি রয়েছে, যা খোদ বাদশা আবদুল্লাহর অনুমোদিত একটি শ্বেতপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। ১৯১৬ সালের মহান আরব বিপ্লবের সময় থেকেই হাশেমী রাজারা ফিলিস্তিনের পরিচয় এবং পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ফিলিস্তিনের মাটিতে হাজার হাজার জর্ডানি সৈনিকের রক্ত মিশে আছে। শ্বেতপত্রে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, হাশেমী অভিভাবকত্বের অধীনে আল-আকসার ১৪৪ দুনাম (১৪ হেক্টরের) এক ইঞ্চি জমিও ইসরায়েলের কাছে হাতছাড়া হয়নি।

আল-আকসা মসজিদ বন্ধের ঘটনায় আট মুসলিম রাষ্ট্রের তীব্র নিন্দাআল-আকসা মসজিদ

ইসলামিক ধর্মতত্ত্ব অনুযায়ী, আল-আকসার প্রতিরক্ষা করা বিশ্বের প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ‘ফরজে আইন’ বা ব্যক্তিগত বাধ্যবাধকতা। আর এই প্রতিরক্ষার ডাক দেওয়ার এবং তার পদ্ধতি নির্ধারণ করার একমাত্র অধিকার কাস্টডিয়ান হিসেবে বাদশা আবদুল্লাহর। পবিত্র কুরআনেও ধর্মীয় উপাসনালয় রক্ষার জন্য যুদ্ধ বা ‘ক্যাসাস বেলি’-র অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে বাদশা আবদুল্লাহর এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ধর্মীয় যুদ্ধ ঘোষণা করার সম্পূর্ণ তাত্ত্বিক ও নৈতিক অধিকার রয়েছে।

জর্ডানের সামরিক শক্তি ও ভূ-রাজনৈতিক কৌশল

অনেকেই মনে করতে পারেন জর্ডান ইসরায়েলের তুলনায় সামরিকভাবে দুর্বল। কিন্তু ওবোর্ন মনে করিয়ে দেন যে বাদশা আবদুল্লাহ এর আগেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জর্ডান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছিল যে, ইসরায়েল যদি ফিলিস্তিনিদের জোর করে তাড়িয়ে জর্ডানের সীমানায় পুশ-ব্যাক করতে চায়, তবে জর্ডান যুদ্ধ ঘোষণা করতে দ্বিধা করবে না।

বাদশা আবদুল্লাহ ভালো করেই জানেন যে সরাসরি প্রথাগত যুদ্ধে ইসরায়েলকে হারানো অসম্ভব। কিন্তু জর্ডানের আসল শক্তি তার ভৌগোলিক অবস্থানে এবং সীমান্তের অস্থিতিশীলতায়। ইসরায়েলের সাথে জর্ডানের ৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার সিংহভাগই পাহাড়ি এবং দুর্গম, যা পাহারা দেওয়া প্রায় অসম্ভব। জর্ডানের একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সূত্রের মতে, “আমরা চাইলে আজ রাতেই হেঁটে রওনা দিয়ে আগামীকাল জেরুজালেমে পৌঁছে যেতে পারি।”

বর্তমানে জর্ডান এই দীর্ঘ সীমান্ত পাহারা দিয়ে ইসরায়েলের পূর্ব সীমান্তের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে। যদি যুদ্ধ বাঁধে, তবে এই স্থিতিশীলতা রাতারাতি বিলীন হয়ে যাবে। জর্ডানের পূর্ব সীমান্ত উন্মুক্ত হওয়ায় সিরিয়া, ইরাক ও সৌদি আরব থেকে হাজার হাজার গেরিলা যোদ্ধা এই সংঘাতের ময়দানে প্রবেশ করতে পারে। ফলে ইসরায়েলকে এমন এক দীর্ঘমেয়াদী গেরিলা যুদ্ধের মুখে পড়তে হবে, যা একসময় যুক্তরাষ্ট্রকে ইরাক ও আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য করেছিল।

শেষ কথা

গাজায় চলমান ইসরায়েলি গণহত্যা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে তাদের নৃশংসতার কারণে জর্ডানের সাধারণ মানুষ এবং সেখানে বসবাসরত ২৪ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীর ক্ষোভ এখন ফুটন্ত বিন্দুর চূড়ায় পৌঁছেছে। জর্ডানের মানুষ গাজার ধ্বংসযজ্ঞের সময় নিষ্ক্রিয় থাকার কারণে এক ধরণের জাতীয় অপরাধবোধে ভুগছে। এই পরিস্থিতিতে বাদশা আবদুল্লাহ যদি আল-আকসার অধিকারও ইসরায়েলের হাতে ছেড়ে দেন, তবে তা জর্ডানের অভ্যন্তরেই তার রাজতন্ত্রের পতন ডেকে আনতে পারে।

পিটার ওবোর্ন তার নিবন্ধের শেষাংশে ইসলামিক ওয়াকফ-এর পরিচালক শেখ আজম আল-খাতিবের ৩ বছর আগের একটি বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়েছেন। আল-খাতিব বলেছিলেন, আল-আকসা পরিবর্তন করার যেকোনো ইসরায়েলি চেষ্টা এমন একটি ধর্মীয় যুদ্ধের জন্ম দেবে যা শুধু জেরুজালেম বা মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। বর্তমানের পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে, যেখানে ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছে, বাদশা আবদুল্লাহ যদি আল-আকসা রক্ষায় রুখে দাঁড়ান, তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যা ভাবছে– তার চেয়েও অনেক বেশি মিত্র জর্ডান পাশে পেয়ে যেতে পারে। বাদশা আবদুল্লাহর সামনে এখন এক ঐতিহাসিক ও অস্তিত্বের লড়াই: হয় নেতানিয়াহু-কুশনারের পরিকল্পনার কাছে নতি স্বীকার করা, অথবা নিজের জীবন ও সিংহাসন বাজি রেখে ইসলামের পবিত্রতম স্থান রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

বিষয়: বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুমসজিদফিলিস্তিনগাজা উপত্যকাশরণার্থীগণহত্যাইসরায়েলইসলাম
সর্বশেষ
  • ১

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ২

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৩

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

  • ৪

    মনপুরায় মেঘনার পাড়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় যুবক উদ্ধার

  • ৫

    মহাখালীতে এসকেএস টাওয়ারের পেছনের ভবনে আগুন

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড