Advertisement Banner

২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত ও আসিফ

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
২৫ কোটি টাকা নেওয়ার বিষয়ে যে ব্যাখ্যা দিলেন হাসনাত ও আসিফ
হাসনাত আব্দুল্লাহ ও আসিফ মাহমুদ। ফাইল ছবি

কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণ অঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ। তাদের দাবি, মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে এসব টাকা বিভিন্ন উপজেলার ন্যায় দুই উপজেলায় (মুরাদনগর ও দেবিদ্বার) বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। এসব টাকা জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিলের নয়।

ফেসবুকে নিজেদের ভেরিফায়েড পেজে এই অভিযোগ নিয়ে কথা বলেন জুলাই আন্দোলনের সামনের সারির এই দুই নেতা।

গতকাল শনিবার দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তাক মিয়া। তিনি একই সঙ্গে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকও।

সেই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মোস্তাক মিয়া দাবি করেন, ‘‘আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ আমাদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। আরেকজন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। এটা হলো সমন্বয়ের অবস্থা। তারা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাদের মধ্যে সেটা ছিল না।’’

জেলা পরিষদ প্রশাসকের এমন বক্তব্যের একটি ৫১ সেকেন্ডের ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‘বক্তব্যটি শুনলে মনে হবে, টাকাটা আমরা নিজেরা পকেটস্থ করেছি। কিন্তু তার বক্তব্যে অন্তত দুটি অসত্য তথ্য রয়েছে।’’

হাসনাত আব্দুল্লাহ দাবি করেন, প্রথমত, এই বরাদ্দ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি। অন্যান্য উপজেলার মতো দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে।

হাসনাত বলেন, ‘‘দেবিদ্বারের জন্য বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি টাকা। জেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততাই নেই। সুতরাং এটিকে রাজস্ব খাতের অর্থ বলে দাবি করা স্পষ্ট মিথ্যাচার।’’

‘‘দ্বিতীয়ত, তিনি বলেছেন টাকা আমরা নিয়েছি। অথচ এই অর্থ মোট ৪২টি প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আমাদের সঙ্গে এই অর্থের কোনো সম্পর্কই নেই। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।’’

এই বক্তব্যের পর প্রশাসককে কল করেছিলেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেই প্রসঙ্গে হাসনাত লিখেছেন, প্রশাসক জানিয়েছেন, অর্থটি উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। হয়তো সাংবাদিক তাঁর বক্তব্য পুরোপুরি প্রকাশ করেননি।

বাংলাদেশে মিথ্যা প্রতিষ্ঠা করা অনেক সহজ দাবি করে হাসনাত লিখেছেন, ‘‘রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিলেন। আর এ দেশে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করা খুবই সহজ।’’

খরচ করা সকল টাকার হিসাব সরকারি নথিতে আছে উল্লেখ করে হাসনাত পোস্টের শেষে লিখেছেন, ‘‘জেলা পরিষদ থেকে উপজেলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। প্রতি বছরই বাজেটের আওতায় এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দেবিদ্বার উপজেলার জন্য দেওয়া বরাদ্দও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যয় হয়েছে। সেই ব্যয়ের প্রতিটি টাকার হিসাব সরকারি নথিতে সংরক্ষিত রয়েছে।’’

এদিকে, আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া তার নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে বলেন, ‘‘ওনাকে (প্রশাসক) কে বসিয়েছে এই পদে। কোন অর্থ এডিপি আর কোনটি রাজস্ব এটা জানতে হবে। আমি মন্ত্রণালয় থেকে সব উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক ব্যয় করা হয়েছে। যার নথি জেলা পরিষদে আছে।’’

সম্পর্কিত