Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> ভাবনা

আওয়ামী রাষ্ট্রপতির মুখে বিএনপির প্রশংসা ও অমীমাংসিত মৌলিক প্রশ্ন

সোহরাব হাসান

সোহরাব হাসান

প্রকাশ : ১৩ মার্চ ২০২৬, ২০: ২১
আওয়ামী রাষ্ট্রপতির মুখে বিএনপির প্রশংসা ও অমীমাংসিত মৌলিক প্রশ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনটির যাত্রাটা শুরু হয়েছে নানা ঘটন-অঘটনের মধ্য দিয়ে। এই সংসদ অনেকগুলো রেকর্ড তৈরি করেছে। এখানে দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি সংসদ সদস্য প্রথমবার সংসদে এসেছেন, এমনকি সংসদ নেতা ও বিরোধী দলের নেতাও এর বাইরে নন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিতদের বেশির ভাগ নবীন হলেও বয়সে তরুণ নন। আবার গত তিন দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক মেরুকরণ চলছিল, এবারে তারও ব্যত্যয় ঘটেছে। রাজনীতির প্রধান দুই ধারা ছিল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এবারে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীরা কোথাও নেই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

পূর্বতন অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। ফলে রাজনৈতিক মেরুকরণটি হয়েছে একদা মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। এই নির্বাচনে জামায়াত ৩১ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রধান বিরোধী দলের আসন অলঙ্কৃত করেছে, বিএনপি ও তাদের মিত্ররা মিলে সরকার গঠন করেছে ২১২টি আসন পেয়ে। বিএনপি এককভাবে পেয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট। আসন সংখ্যা ২০৯।

সংসদের প্রথম দিন যেসব আনুষ্ঠানিতা হয়ে থাকে, এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে সাত বারের এমপি হাফিজউদ্দিন আহমদ ও আইনজীবী কায়সার কামাল। এরপর দুই পক্ষের আলোচনা ও সমঝোতার ভিত্তিতে কার্যোপদেষ্টা কমিটি ও বিশেষ কমিটিসহ বেশ কয়েকটি কমিটি গঠিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এসব কমিটিই সংসদ পরিচালনার নিয়ামক শক্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রথা অনুযায়ী বিগত সংসদ ও বর্তমান সংসদের মাঝমাঝি সময়ে যেসব সাবেক জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রয়াত হয়েছেন, তাদের স্মরণে শোক প্রস্তাব আনা হয়। এই শোক প্রস্তাবে জুলাই শহীদদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ আমলে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিদের নামও আছে। এসব নিয়েও কোনো বিপত্তি দেখা দেয়নি। নাম প্রস্তাবের সঙ্গে সঙ্গে স্পিকার বিনাবাক্য ব্যয়ে তা গ্রহণ করেছেন।

তবে বিপত্তি দেখা গেল রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের ভাষণ নিয়ে। বিরোধী দল জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আগেই বলা হয়েছিল, তারা রাষ্ট্রপতির অপসারণ চায়, তার ভাষণ শুনতে চায় না। স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতির ভাষণের ঘোষণা দিলেন, তখনই বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন প্লাকার্ড নিয়ে ‘না’ সূচক ধ্বনি দিতে থাকেন। তাদের প্লাকার্ডে লেখা ছিল ‘জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি’ চলবে না। স্বৈরাচারের দোসর রাষ্ট্রপতির অপসারণ চাই।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অতীতেও রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জনের উদাহরণ আছে। কিন্তু এবারে যেটি দেশবাসীর কাছে কষ্টদায়ক ছিল, তা হলো জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় বিরোধী দলের অনেক সদস্যের আসনে বসে থাকা। তার প্রতি যথাযথ সম্মান না দেখানো।

আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরিচিত মো. শাহাবুদ্দিন যেই ভাষণ জাতীয় সংসদে দিলেন, সেটা ছিল বিএনপি সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ অনুমোদিত। ফলে এই ভাষণে তিনি বিএনপি সরকারের ভূয়সী প্রশংসা আছে, আছে আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা। রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট দল ও আওয়ামী লীগ শাসনকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ান বলে অভিহিত করেছেন। তিনি হাজারো প্রাণের বিনিময়ে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক জিয়াউর রহমানের নাম শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বা অন্য কোনো নেতার নাম বলেনি। তার ভাষায়, তারা হয়েছেন মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখাকারী সকল নেতা।

অথচ এই রাষ্ট্রপতি ২০২৪ সালের ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী ভাষণে বিএনপি ও এর সহযোগীদের ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, আন্দোলনের নামে কেউ যাতে অরাজকতা সৃষ্টি করে মানুষের জানমাল ও জীবিকার ক্ষতিসাধন না করতে পারে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। সেবারে তিনি আওয়ামী লীগ সরকার লিখিত ১৪৩ পাতার ভাষণের সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন করেছিলেন, এবারে বিএনপির সরকারেরর লিখিত ভাষণ পাঠ করলেন। সেবারে তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলে অভিহিত করে ষড়যন্ত্র ও গুজব রটনাকারীদের সম্পর্কে সজাগ থাকতে বলেছিলেন দেশবাসীকে।

মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি
মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি

রাষ্ট্রপতি পদটি সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক। এই পদে যারা আসীন হন তাদেরও সেই মর্যাদা ও সম্মান নিয়ে থাকা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে রাষ্ট্রপতি পদটিকে বরাবর আজ্ঞাবহ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন সরকারের আমলে। আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে জাতীয় সংসদে সরকারি দল বা সরকারের লিখিত ভাষণ পড়ানোর রীতি বদলানো উচিত। তিনি কোনো দল থেকে নির্বাচিত হলেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর দলীয় থাকেন না। কিন্তু বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ ছাড়া আর কোনো রাষ্ট্রপতি স্বীয় সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার চেষ্টা করেননি। তিনিও সংসদে সরকারি দলের লিখিত ভাষণ পড়ার পাশাপাশি নিজের বক্তব্যও তুলে ধরতেন।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আর কত দিন থাকবেনchuppu

জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সংসদের প্রথম অধিবেশনে যারা রাষ্ট্রপতির ভাষণ বর্জন করেছেন, তারা কেউ সরকারি দলের লিখিত ভাষণ নিয়ে প্রশ্ন করেননি। প্রশ্ন করেছেন, স্বৈরাচারের দোসর রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে। ভবিষ্যতে যদি বিএনপি দলীয় রাষ্ট্রপতি আসেন তাকে দিয়েও একই কাজ করানো হবে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ছাড়া যেসব মৌলিক বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিরোধ আছে, সেগুলো কীভাবে সুরাহা হবে তার ইঙ্গিত পাওয়া গেল না সংসদের প্রথম অধিবেশনে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। সরকারি দল বলছে আপত্তিসহ তারা জুলাই সনদে সই করেছেন। আর জনগণ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ফলে এর বাইরের কিছু গ্রহণ করা তাদের পক্ষ সম্ভব নয়। অন্যদিকে বিরোধী দলের দাবি, জুলাই সনদের ভিত্তিতে যে সাংবিধানিক আদেশ হয়েছে,তার পুরোটা বাস্তবায়ন করতে হবে। কেননা গণভোটের মাধ্যমে জণগণ জুলাই সনদকে দাঁড়ি কমাসহ গ্রহণ করেছে। এখানে কোনো হাঙ্কিপাঙ্কি চলবে না।

প্রথম অধিবেশনে সংসদ নেতা তারেক রহমান ও বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমান দুজনই পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছেন। সংসদ কার্যকর ও প্রাণবন্ত করার কথা বলেছেন। কিন্তু মৌলিক বিষয়ের সমাধান না হলে সেটি সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। সরকারি দল বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বিরোধী দল সেটি গ্রহণ না করায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার দুটোই সরকারি দল থেকে নেওয়া হলো। বিরোধী দল বলেছে, তারা শুধু একটি পদ নিতে আগ্রহী নয়। জুলাই সনদের পুরো প্যাকেজ বাস্তবায়নে আগ্রহী। এখন দেখা যাক দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক কোথায় গিয়ে ঠেকে।

লেখক: সম্পাদক, চরচা

বিষয়: প্রধানমন্ত্রীত্রয়োদশ সংসদরাষ্ট্রপতিসংসদ অধিবেশনআওয়ামী লীগসংসদমো. সাহাবুদ্দিনঅন্তর্বর্তী সরকার
সর্বশেষ
  • ১

    মেঘের শারীরিক অবস্থা এখনো ‘অস্থিতিশীল’, মেডিকেল বোর্ড গঠন

  • ২

    তিন দিনে ২৬ হাজার গ্রাহক ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা তুলেছেন

  • ৩

    ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুনে নিহত ৫, নিখোঁজ ৮০ জনের বেশি

  • ৪

    বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কর্মী নেবে ওমান: শামা ওবায়েদ

  • ৫

    হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাবে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ: রয়টার্স

সম্পর্কিত
  • মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    মব দেশে বাড়ছে, বিদেশে কি রপ্তানিও হচ্ছে?

    আমাদের দেশে মব আর নতুন কোনো বিষয় নয়। বরং দিনকে দিন কিছুটা স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে উঠছে যেন। কখনও বাড়ে, কখনও একটু কমে- কিন্তু মব বিদায় হচ্ছে না কোনোভাবেই। উল্টো যেন মব রপ্তানির দেশে পরিণত হচ্ছে আমাদের এই বাংলাদেশ! ভাবে? চলুন, আলোচনার ভেতরে ঢোকা যাক। শুরুতেই বর্তমানে দেশের ভেতরে মব কি অবস্থায় আছ

  • সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    সাক্ষরতার সংখ্যায় অগ্রগতি, জীবনের পরীক্ষায় কত দূর?

    মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের জন্য সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ সালে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। বিশ্বজুড়ে এর উদযাপন শুরু হয় ১৯৬৭ সালে; আর স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে।

  • রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    রংপুরে ৪ খুন: ব্যর্থ আসলে কারা?

    ২৩ আগস্ট রাতে সাবেক স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পুরো পরিবারের শেষ হয়ে যাওয়ার খবরটা প্রথম শুনে বুঝিনি যে এই ঘটনা সামনে অনেক চমক তৈরি করে রেখেছে। হত্যা রহস্য উন্মোচনের জন্য গোলকধাঁধা অপেক্ষা করছে–কে জানত? রাতে ঘুমিয়ে সকালে উঠেই শুনি দুই আসামি ধরা পড়েছে, এমনকি হত্যার দায়ও স্বীকার করে নিয়েছেন

  • সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের বিরোধিতা কেন?

    গত রোববার জাতীয় সংসদে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে বহুলালোচিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল ২০২৬’ এবং ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল ২০২৬’ নিয়ে পরে আলোচনা করার ইচ্ছা আছে। এখানে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল ২০২৬’ নিয়ে কথা বলব। এই আইনের উদ্দেশ্য–বাবা–মা সন্তানকে সম্পত্তি লিখে দেওয়া