Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> প্রবাস

অশান্তির নতুন ঠিকানা: পারস্য উপসাগর থেকে এডেন উপসাগর

ইজাজ আহসান

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮: ২৪
অশান্তির নতুন ঠিকানা: পারস্য উপসাগর থেকে এডেন উপসাগর
প্রতীকী ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তি যেন মরুভূমির যাযাবর। এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে অবিরাম। এক দেশে সংঘাত থামার আগেই আরেক দেশে শুরু হচ্ছে নতুন সংকট। পারস্য উপসাগরের পর এবার অশান্তির উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে এডেন উপসাগর পর্যন্ত।

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘ অস্থিরতার কেন্দ্রে রয়েছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অঞ্চলটি একের পর এক যুদ্ধ, দখল, প্রতিরোধ ও প্রতিশোধের চক্রে ঘুরছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলোর ভূরাজনৈতিক স্বার্থ। ফলে কোনো সংঘাতই আর কেবল আঞ্চলিক সংঘাত হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকছে না।

সম্প্রতি পারস্য উপসাগর রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের তাণ্ডব দেখেছে। আপাতত যুক্তরাষ্ট্র কিছুটা পিছু হটলেও যুদ্ধ যে শেষ হয়ে গেছে, এমন নিশ্চয়তা নেই। যেকোনো সময় আবার সংঘাত শুরু হতে পারে। এর মধ্যেই ইয়েমেনের হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। বোমাবর্ষণ ও পাল্টা হামলায় প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্ব অর্থনীতিই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। পারস্য উপসাগর ও বাব আল-মান্দেব—বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এসব জলপথে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্যের দামে তার প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, আঞ্চলিক সংঘাত একসময় বৃহত্তর যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

যুদ্ধের পেছনে তাই শুধু সামরিক শক্তির হিসাব থাকে না; থাকে অর্থনীতি, জ্বালানি ও ভূরাজনীতির কঠিন সমীকরণও। ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত তারই উদাহরণ। যে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হবে বলে কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন, তা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন দিকে মোড় নিতে পারে।

প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র কি মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে যাবে? বাস্তবতা বলছে, বিষয়টি এত সহজ নয়। মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সম্পদ, ইসরায়েলের নিরাপত্তা, সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্রবাজার এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক—সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ গভীর। মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক বিরোধও সেই ভূরাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সৌদি আরবকে হুতিদের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর মধ্যেও তাই নানা হিসাব রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বে গড়ে ওঠা মক্কা জোটের মতো উদ্যোগও আঞ্চলিক নিরাপত্তার নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। জোটের মূল ধারণা—একটি সদস্য দেশ আক্রান্ত হলে অন্যরাও নিজেদের আক্রান্ত হিসেবে বিবেচনা করবে। এমন কাঠামো ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে তুলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্বস্বার্থের পরিপন্থী: সি চিনপিং xi jinping

হুতিদের হামলায় সৌদি আরব যখন চাপে, তখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ মিত্রদের সহায়তা চাইছে। কিন্তু সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে মিত্রদেরও রয়েছে নিজস্ব হিসাব। কারণ, ইরান ও হুতিদের সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়লে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারে না।

এখানেই এসে পড়ে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা। সম্মুখসারিতে ইরান থাকলেও পেছনে চীন ও রাশিয়ার স্বার্থ জড়িয়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহের ওপর চীনের বড় ধরনের নির্ভরতা রয়েছে। ইরান দুর্বল হয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে চীনের প্রভাবও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিপরীতে ইরান যদি টিকে থাকে, তাহলে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

এই সংঘাতের প্রভাব তাই শুধু ইরান, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত আরব রাজতন্ত্রগুলোর নিরাপত্তা, ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ, বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির প্রশ্নও জড়িয়ে আছে।

দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি রাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র নিজেদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে এসেছে। বিনিময়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল হয়েছে। কিন্তু ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত সেই পুরোনো নিরাপত্তা কাঠামোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

চীন কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে কথা বলছে। কিন্তু ইরানের শর্ত মেনে কোনো সমঝোতা হলে সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত পশ্চাদপসরণ হিসেবে দেখা হতে পারে। অন্যদিকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েল ইরানকে কোনো ছাড় না দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে পারে। কারণ, তাদের কাছে ইরানের শক্তি বৃদ্ধি সরাসরি নিরাপত্তার প্রশ্ন।

সাত দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের, অর্জন কী?Military-Weapon-usa

এ অবস্থায় সংঘাত যদি আবার শুরু হয়, তা আর ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা কম। লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেনের মতো দেশগুলো জড়িয়ে পড়তে পারে। পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ওপরও তখন অবস্থান নেওয়ার চাপ তৈরি হতে পারে। আর চীন ও রাশিয়া নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ইরানের পাশে আরও সক্রিয়ভাবে দাঁড়াতে পারে।

তখন মধ্যপ্রাচ্যের একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ সহজেই বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা হয়তো এখনই বাস্তবতা নয়, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই আশঙ্কাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগও রাখছে না।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই সংঘাতের শেষ কোথায়?

যদি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা জয়ী হয়, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের প্রভাব আরও শক্তিশালী হতে পারে। আর ইরান ও তার মিত্ররা টিকে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রভাব বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। অর্থাৎ যে পক্ষই জয়ী হোক, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক কাঠামো আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

সবাই শান্তি চায়। কিন্তু ক্ষমতা, সম্পদ, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক স্বার্থ যখন মুখোমুখি দাঁড়ায়, তখন শান্তির পথ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ে। যুদ্ধের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার ধারণা ইতিহাসে বহুবার দেখা গেছে। কিন্তু সেই শান্তির মূল্যও দিতে হয়েছে অসংখ্য নিরীহ মানুষকে।

মধ্যপ্রাচ্যের মানুষও শান্তি চায়। তারা চায় নিরাপদ জীবন, স্থিতিশীল অর্থনীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি যুদ্ধমুক্ত অঞ্চল। প্রশ্ন শুধু—সেই শান্তি কবে আসবে? আর তার আগে আরও কত রক্ত ঝরবে?

লেখক বাহরাইনপ্রবাসী। ইমেইল: [email protected]

বিষয়: যুক্তরাষ্ট্রসৌদি আরবযুদ্ধমধ্যপ্রাচ্যহুতিআরবইরানফিলিস্তিনইসরায়েল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    রাজনৈতিক প্রোপাগাণ্ডা ও বিদ্যায়তনিক পরাধীনতার শিকার তাসনীম সিরাজ

  • ২

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

  • ৩

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

  • ৪

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

  • ৫

    ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

সম্পর্কিত
  • রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দেশবিরোধী: রুহুল কবির রিজভী

    রেমিট্যান্স বন্ধের হুমকি দেশবিরোধী: রুহুল কবির রিজভী

    শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ‘জিয়া স্মৃতি পাঠাগার’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে রুহুল কবির রিজভী এসব কথা বলেন।

  • মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী কোটা জালিয়াতির অভিযোগে ১১ বাংলাদেশিসহ আটক ২০

    মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী কোটা জালিয়াতির অভিযোগে ১১ বাংলাদেশিসহ আটক ২০

    দাতুক জাকারিয়া বলেন, অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশে আনা বিদেশি কর্মীরা কোটার জন্য আবেদন করা কোম্পানিগুলোর হয়ে কাজ করত না। এর বদলে তারা স্বাধীনভাবে অন্য কোম্পানিতে কাজ করত।

  • যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে ৭০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব

    যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে ৭০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাব

    ওপিটি হলো শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের বিষয়সংশ্লিষ্ট কাজে সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অনুমতি দেওয়ার একটি ব্যবস্থা।

  • বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে নজরদারির সুপারিশ

    বিমানবন্দরে প্রবাসী কর্মীদের হয়রানি বন্ধে নজরদারির সুপারিশ

    মন্ত্রণালয়ের সব কর্মকর্তা যাতে দায়িত্ব পালনে সতর্ক থাকেন এবং সামগ্রিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা বিচ্যুতি না ঘটে, সে বিষয়ে কমিটি তাগিদ দেয়।