
খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?
খাবার শুধু মুখে তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্ষুধা, মর্যাদা, বিবেক ও দায়িত্ববোধ। মুখের খাবার যখন বুকের ভেতর প্রশ্ন জাগায়, তখনই হয়তো মানুষ হিসেবে আমাদের সত্যিকারের জাগরণ শুরু হয়।
নভোনীল রহমান, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রদানে কঠোরতার কারণে প্রকৃত শিক্ষার্থীরাও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন, এমন উদ্বেগের মধ্যে বিদ্যমান নীতির কিছু অংশ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির লেবার সরকার। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের নিয়ম এবং শিক্ষার্থী ভিসা মূল্যায়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন যাচাইয়ের জন্য নতুন আর্থিক মানদণ্ড তৈরি এবং মন্ত্রীপর্যায়ের নির্দেশনা ১০৬-এর বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা বিভাগ।
শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখ্যানের উচ্চ হার এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই সরকারের এই উদ্যোগ সামনে এসেছে।
ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে
২০২৪ সালে চালু হওয়া মন্ত্রীপর্যায়ের নির্দেশনা ১০৬-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন যাচাইয়ে কঠোরতা বাড়ানো হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল আবেদনকারীরা প্রকৃতপক্ষে পড়াশোনার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় আসতে চান কি না, তা নিশ্চিত করা।
তবে গত অর্থবছরে শিক্ষার্থী ভিসার মোট আবেদনের ২৪ দশমিক ২ শতাংশের বেশি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। নেপালের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৫১ শতাংশের বেশি এবং ভারতের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশের বেশি ছিল।
এমন পরিস্থিতিতে কিছু যোগ্য শিক্ষার্থীও ভিসা প্রত্যাখ্যানের আশঙ্কায় অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছেন বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী জুলিয়ান হিলের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিসা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় কঠোরতা বজায় রাখতে চায় সরকার। তবে সেই কঠোরতা যেন প্রকৃত শিক্ষার্থীদের নিরুৎসাহিত না করে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন
অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান রেডি টু স্টাডির (Ready to Study) প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মাশফি রহমান মনে করেন, সাম্প্রতিক ভিসানীতির কঠোরতা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে।
এই প্রতিবেদকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অনেক আবেদনকারী জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তার অভিজ্ঞতায়, শিক্ষাগত যোগ্যতা ভালো থাকা সত্ত্বেও কিছু আবেদনকারী ভিসা প্রত্যাখ্যানের সম্মুখীন হয়েছেন।
মাশফি রহমানের পর্যবেক্ষণে, অনিশ্চয়তার কারণে কিছু বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও নিউজিল্যান্ডে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজছেন।
তিনি মনে করেন, নতুন আবেদনকারীদের জন্য আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ, অর্থের উৎস, পরিবারের আয় এবং সম্পদের তথ্য যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখা আগের তুলনায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে তার এই অভিজ্ঞতা তার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতির প্রতিফলন; এটি সমগ্র বাংলাদেশের আবেদনকারীদের সরকারি পরিসংখ্যান নয়।
পরিবার নিয়ে আসার পরিকল্পনাতেও বড় পরিবর্তন
গত ২ অক্টোবর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার নতুন কয়েকটি বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। এর ফলে অধিকাংশ নতুন শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারী তাদের স্বামী-স্ত্রী বা সন্তানদের একই আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন না।
পিএইচডি শিক্ষার্থী, নির্দিষ্ট সরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং কয়েকটি বিশেষ শ্রেণির আবেদনকারীর জন্য ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। তবে ভিসা অনুমোদনের পর পরিবারের সদস্যদের পরবর্তী আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত করার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে।

মাশফি রহমান জানান, এসব পরিবর্তন বিশেষ করে পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনা করতে আগ্রহীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে প্রভাবিত করছে।
অস্ট্রেলিয়ার ভেতর থেকে নতুন শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন করার সুযোগও অধিকাংশ অস্থায়ী ভিসাধারীর জন্য সীমিত হয়েছে। তবে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোর্স শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হওয়া কিংবা উচ্চতর শিক্ষাস্তরে অগ্রসর হওয়ার মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিছু ছাড় রয়েছে।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ২ অক্টোবরের আগে জমা দেওয়া আবেদনগুলো আগের নিয়মেই মূল্যায়ন করা হবে। একইভাবে বর্তমানে বৈধ শিক্ষার্থী ভিসায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের বিদ্যমান ভিসা এই পরিবর্তনের কারণে বাতিল হচ্ছে না।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব কমার আশঙ্কা
শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতির প্রভাব নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় খাতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে চলতি বছর নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি প্রায় ১৮ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে আগামী তিন বছরে সম্মিলিত রাজস্ব প্রায় ২০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলার কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে সরকারের মূল্যায়নে, ভিসানীতিই শিক্ষার্থী কমার একমাত্র কারণ নয়। অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং অস্ট্রেলিয়ায় জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষা দেশটির অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত। প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সঙ্গেও এই খাত যুক্ত।
আর্থিক সক্ষমতার নতুন মানদণ্ড নিয়ে আলোচনা
সরকার এখন দক্ষিণ এশিয়ার শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য আরও সুস্পষ্ট নির্দেশনা তৈরির পরিকল্পনা করছে।
এমনকি আর্থিক যোগ্যতার ন্যূনতম সীমা বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনায় রয়েছে। সরকারের যুক্তি, যোগ্যতার শর্ত আরও স্পষ্ট হলে আবেদনকারীরা আগেই বুঝতে পারবেন তাদের আবেদন করার বাস্তব সম্ভাবনা কতটা।

পাশাপাশি নিউজিল্যান্ডের মতো একটি ব্যবস্থাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট হিসাবে শিক্ষা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের অর্থ জমা রেখে আর্থিক সক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারেন।
তবে এ ধরনের কোনো নতুন ব্যবস্থা এখনো চূড়ান্ত বা কার্যকর হয়নি।
আগামী নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা পরামর্শদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য পরিবর্তনের বিস্তারিত নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন আবেদনকারীদের জন্য পরামর্শ
বাংলাদেশ থেকে আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশোনার পরিকল্পনা করছেন, এমন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মাশফি রহমান আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ ও শিক্ষাগত উদ্দেশ্য সম্পর্কে স্বচ্ছ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
তার মতে, আবেদনের আগে পড়াশোনার খরচ, জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থের উৎস এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভালোভাবে প্রস্তুত করা উচিত।
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।
সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিদ্যমান সরকারি শর্ত অনুসরণ করেই উচ্চশিক্ষা ও ভিসার পরিকল্পনা করতে হবে।
দেশে ডিসেম্বরের আগে ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা কম, বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
‘এইটা শিক্ষামন্ত্রীর একটা ভালো উদ্যোগ অনেকেই হয়তো নেগেটিভলি নিয়েছে’
‘পরজীবীরা তথাকথিত শিক্ষিতদের চেয়ে বেশি রেসপেক্টফুল’
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
‘সরকার ইচ্ছা করলে সবকিছুই সম্ভব’

খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?
খাবার শুধু মুখে তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্ষুধা, মর্যাদা, বিবেক ও দায়িত্ববোধ। মুখের খাবার যখন বুকের ভেতর প্রশ্ন জাগায়, তখনই হয়তো মানুষ হিসেবে আমাদের সত্যিকারের জাগরণ শুরু হয়।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতে বাংলাদেশি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক
আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৫ জন শিক্ষার্থী। ১৫ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ।

হেলসিংকিতে যুবদলের প্রবাসী কর্মীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন
আলোচনায় তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন, আদর্শবান ও দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বক্তারা মত প্রকাশ করেন যে, প্রবাসে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।