
অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।
আমি শরীরচর্চা করি বাইরের পরিবেশে, যেখানে প্রকৃতির কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাই। গার্ডেনিং আমার কাছে এমনই একটি জায়গা, যেখানে একের ভেতর অনেক কিছু। শরীরচর্চা, মনচর্চা, বিনোদন, খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশচর্চা, সবই এখানে একসঙ্গে চলে। তবে মাঝেমধ্যে সুযোগ পেলে ভ্রমণেও বেরিয়ে পড়ি।
কিছুদিন আগে রোডস ভ্রমণে গিয়েছিলাম। বাসের ভেতরে বিশ্রী গরম। বসে থাকতে থাকতে আমিও হারিয়ে গিয়েছিলাম জীবনের নানা অমীমাংসিত দুশ্চিন্তায়। এক পর্যায়ে একটি গ্রামের মধ্যে নেমে হাঁটতে শুরু করলাম।
হঠাৎ চোখে পড়ল, জীর্ণশীর্ণ পোশাক পরা একজন মানুষ ময়লার স্তূপের পাশে দাঁড়িয়ে ডালিম পেড়ে নিজের ব্যাগে রাখছেন। কিছুক্ষণ পর সেই ডালিম থেকে একটি তুলে গায়ের কাপড় দিয়ে মুছে আমাকে দিলেন। আরেকটি নিজে খেতে শুরু করলেন।
মুহূর্তেই আমার নিজের সব দুশ্চিন্তা যেন এক পাশে সরে গেল। চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এলেন সেই মানুষটি।
কোন সময় এবং কোন জগতে আমরা বাস করছি? এখনো মানুষকে ময়লার স্তূপের পাশ থেকে খাবার কুড়িয়ে খেতে হয়! খাবারটি পচা ছিল কি না, তা আমি নিশ্চিত নই। কিন্তু দৃশ্যটি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। আল্লাহ আমাদের মাফ করুন।
এই দৃশ্য আমাকে কয়েক দিন ধরে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। আমরা প্রতিদিন কত খাবার অকারণে নষ্ট করি। দাওয়াতের অনুষ্ঠানগুলোতে গেলে খাবারের অপচয়ের ভয়াবহ চিত্র আরও স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। অনেক মা-বাবা সন্তানকে দাওয়াতে যাওয়ার সময় বলেন, “বেশি করে মাংস খেয়ো।” কেন আমরা এটাও বলতে পারি না, “যতটুকু খেতে পারো, ততটুকুই নিয়ো।” খেতে পারলে অবশ্যই খান। ভালোভাবে খান। কিন্তু খাবার নষ্ট করার মধ্যে গর্বের কী আছে?
‘টাকা উশুল করতে হবে’, এই মানসিকতা দাওয়াতের অনুষ্ঠানেই হোক কিংবা বুফেতে, খাবার অপচয়ের কোনো যুক্তি হতে পারে না।
খাবার মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। কারও কাছে খাবার যখন বিলাসিতা, তখন অন্য কারও প্লেটে পড়ে থাকা খাবার নষ্ট হওয়া আরও নির্মম। আমার কাছে মনে হয়, ক্ষুধার কষ্টের মতো বড় কষ্ট আর কিছু নেই। পেট ভরা থাকলে জীবনের অন্য কষ্টগুলো নিয়ে ভাবারও সুযোগ থাকে। কিন্তু পেট যখন খালি, তখন পৃথিবীর অন্য সব চিন্তা তুচ্ছ হয়ে যায়।
তাই দাওয়াতে গেলে যতটুকু খেতে পারি, ততটুকুই নিই। অন্যের পয়সায় খাবার বলে প্লেট ভর্তি করে খাবার নষ্ট করি না। নিজের টাকায় রেস্তোরাঁয় খেতে গেলেও সম্ভব হলে অতিরিক্ত খাবার সঙ্গে নিয়ে আসি। নিজে খেতে পারি, অথবা নিরাপদ ও উপযুক্ত হলে অন্য কোনো প্রাণীকে খাওয়াতে পারি।
যে মানুষটি ময়লার স্তূপের পাশ থেকে ডালিম তুলে খাচ্ছেন, তিনিও সৃষ্টিকর্তারই সৃষ্টি। আমরাও তারই সৃষ্টি। কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারি না, জীবনের কোন মোড়ে দাঁড়িয়ে কাল আমাকে, আপনাকে কিংবা আমাদের প্রিয় কাউকে সেই মানুষটির জায়গায় দাঁড়াতে হবে। তাই খাবারকে সম্মান করি। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই নিই। আর যতটুকু পারি, অপচয় না করে কাউকে খাওয়াই।
এ তো খাবারের অপচয়ের একটি দিক। আরও অনেক দিক আছে, যেগুলো জানলে হয়তো আপনারও কষ্ট হবে। জানেন, সুইডেনে শুধু খাবারের দোকান ও ভোক্তা পর্যায়েই প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ খাদ্যবর্জ্য তৈরি হয়? ২০২৪ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার টন। এর মধ্যে দোকানের পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পাইকারি ব্যবসা, সরকারি খাবার পরিবেশন ব্যবস্থা ও পরিবারের বর্জ্যও রয়েছে।
এ বছর যারা বিভিন্ন কলোনি বা কমিউনিটি গার্ডেনে চাষাবাদ করেছেন, একবার ভাবুন তো, কত ফসল অব্যবহৃত থেকে গেছে। কত সবজি নষ্ট হয়েছে। আর সেই বর্জ্যের কতটুকু আমরা সঠিকভাবে কম্পোস্ট করেছি? অথচ পৃথিবীতে এখনো মানুষ না খেয়ে আছে।
মজার ব্যাপার হলো, সুইডেনের মতো প্রচণ্ড শীতের দেশেও খাদ্য উৎপাদন সম্ভব। আমার অভিজ্ঞতায়, উপযুক্ত পরিকল্পনা ও মৌসুম নির্বাচন করতে পারলে এখানে প্রায় সাত মাস ধরে নানা ধরনের ফসল উৎপাদন করা যায়। কিছু শাকসবজি উপযুক্ত ব্যবস্থা ও পরিবেশে আরও দীর্ঘ সময় ধরে পাওয়া সম্ভব। কী, শুনে অবাক হলেন? নাকি মন খারাপ হয়ে গেল?
কেলের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন। ইংরেজিতে একে kale এবং সুইডিশ ভাষায় grönkål বলা হয়। Svartkål কেলেরই আরেকটি ধরন। ওলকপি, পাতাকপি ও ফুলকপিও একই বৃহত্তর বাঁধাকপি পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। কেলের বিশেষত্ব হলো, এটি ঠান্ডা সহ্য করতে পারে। অনেক জাত তুষারপাতের পরও টিকে থাকে, এমনকি ঠান্ডায় পাতার স্বাদও আরও ভালো হতে পারে। নিজের বাগানে তুষারপাতের মধ্যেও সবুজ পাতা সতেজ থাকতে দেখা এবং পরে সেগুলো নিজের প্লেটে তুলে নেওয়া, কী দারুণ একটা অনুভূতি, তাই না?
আমি যখন প্রকৃতির কাছ থেকে এমন আত্মনির্ভরতার অনুভূতি পাই, ঠিক তখনই দেখি, বাংলাদেশে পেঁয়াজ-রসুনের সংকট! কী একটা সমস্যা। শেষ পর্যন্ত ভারতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। একদিকে ইলিশের বাণিজ্য, অন্যদিকে পেঁয়াজ-রসুনের জন্য আমদানির ওপর নির্ভরতা। কিন্তু রান্না করতে গিয়ে দেখি, সেই ইলিশ মাছই নেই। কী দুঃখের বিষয়।
ভাগ্যিস, ভারতের দাদাভাইরা পেঁয়াজ-রসুন খুব একটা পছন্দ করেন না। করলে কী উপায়টাই না হতো। তখন হয়তো পেঁয়াজ-রসুনও পাওয়া যেত না। বাধ্য হয়ে অন্য ব্যবস্থা করতে হতো, কে জানে।
তবে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে। সুইডেনের মতো শীতের দেশেও পেঁয়াজ-রসুনের চাষ হয়। আর আমি তো ইচ্ছে করলেই নিজের বাগানে এগুলো উৎপাদন করে নিজের চাহিদার একটা অংশ পূরণ করতে পারি। অথচ বাংলাদেশের মানুষ ইলিশ মাছ না খেয়ে পেঁয়াজ-রসুন খাচ্ছেন? খান, কী আর করা।
তারপর শরীরে নানা রোগ নিয়ে তারা আবার সেই ভারতের হাসপাতালের বিছানায় গিয়েই শুয়ে পড়েন। আর ঠিক তখনই বাকি টাকাগুলোও সেখানে খরচ করে দেন। চালিয়ে যান, কী আছে জীবনে?
না, দাঁড়ান! জীবনের বাকি সময়ে তো আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি আছে। সেগুলো কী?
যেমন, কে স্বাধীনতার ঘোষক আর কে ঘোষণাপাঠক, সেই প্যাঁচাল তো আছেই। এখন আবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে ঘিরেও নতুন করে তর্ক শুরু হয়েছে। এসব নিয়ে আলোচনা, পাল্টা আলোচনা, তর্ক, বিতর্ক, আবার পাল্টা তর্ক! নিশ্চিত থাকুন, এভাবে জীবনের বাকি সময়টাও পার করে দেওয়া যাবে। পেঁয়াজ-রসুনের সংকট থাকুক, বাজারে দাম বাড়ুক, মানুষ কষ্ট পাক, তাতে কী? ইতিহাসের কোন চরিত্রের কৃতিত্ব কতটুকু, সেই হিসাব মেলানোও তো কম গুরুত্বপূর্ণ কাজ নয়।
তবে পেঁয়াজ-রসুনের সমস্যার একটা সমাধান কিন্তু আপনি নিজেই করতে পারেন। নিজের আশপাশের অব্যবহৃত জায়গাগুলো সঠিকভাবে কাজে লাগান। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা কিংবা ছোট্ট এক টুকরো জমি, যা আছে তা দিয়েই শুরু করুন। সব চাহিদা মেটাতে পারবেন না, ঠিক আছে। কিন্তু কিছুটা তো পারবেন। নিজের উৎপাদিত পেঁয়াজ-রসুন রান্নায় ব্যবহার করতে পারলে অন্তত অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকার প্রয়োজন কিছুটা কমবে।
তা না হলে আবার পুরো সরকার বদলানোর জন্য মাঠে নামতে হবে। কিন্তু সে কাজটা করবে কে? আর সরকার বদলালেই কি রাতারাতি পেঁয়াজ-রসুনের সংকট উধাও হয়ে যাবে? নাকি নতুন সরকার আসবে, নতুন আশ্বাস দেবে, আর আমরা পুরোনো সমস্যার সামনে দাঁড়িয়ে নতুন করে তর্ক শুরু করব?
যাই হোক, অনেক তামাশা করলাম। তবে সাহিত্যে একটু মজা না থাকলে বাংলা সাহিত্য দিয়ে কী হবে বলুন? সব কথাই যদি গম্ভীর মুখে বলতে হয়, তাহলে পাঠক হাসবেন কখন, আর নিজের দিকে তাকিয়ে একটু ভাববেনই বা কখন?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তো তার সাহিত্যকর্মের জন্য একবার নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন! আমরা অন্তত তার নাম নিয়ে তর্ক করতে করতে যদি একটু হাসতে পারি, তাহলে মন্দ কী? তবে হাসির ফাঁকে যদি নিজের পেঁয়াজ-রসুনের সমস্যাটারও একটা সমাধান খুঁজে বের করতে পারি, তাহলে সেটাই হবে আসল পুরস্কার!
কারণ, খাবার শুধু মুখে তোলার বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের ক্ষুধা, মর্যাদা, বিবেক ও দায়িত্ববোধ। মুখের খাবার যখন বুকের ভেতর প্রশ্ন জাগায়, তখনই হয়তো মানুষ হিসেবে আমাদের সত্যিকারের জাগরণ শুরু হয়।
লেখক: গবেষক ও সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন
ই-মেইল: [email protected]

অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থী ভিসার কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ, বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে প্রভাব
অস্ট্রেলিয়া সরকারের নতুন উদ্যোগে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। তবে কঠোর নীতি পুনর্বিবেচনা করা মানেই ভিসা পাওয়া সহজ হয়ে গেছে, এমন নয়।

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষার ফি ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিদর্শন করা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমিরাতে বাংলাদেশি দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসির ফলাফল সন্তোষজনক
আবুধাবির শেখ খলিফা বিন জায়েদ বাংলাদেশ ইসলামিয়া প্রাইভেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল ১৫ জন শিক্ষার্থী। ১৫ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছেন। পাসের হার শতভাগ।

হেলসিংকিতে যুবদলের প্রবাসী কর্মীদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন
আলোচনায় তরুণ প্রজন্মকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন, আদর্শবান ও দায়িত্বশীল হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। বক্তারা মত প্রকাশ করেন যে, প্রবাসে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে।