কাতারের নেতৃত্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত এড়াতে সহায়তা করবে বলে আশা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির প্রেসিডেন্টের একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রোববার এ কথা বলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক পদক্ষেপ নিলে সংকট আরও গভীর হবে।
ইউএইর প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ এবং এর জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলা—সব মিলিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির জন্য এটি একটি সন্ধিক্ষণ হয়ে উঠেছে। বাহরাইনে আয়োজিত একটি নিরাপত্তাবিষয়ক ফোরামে তিনি এ কথা বলেন।
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) আয়োজনে বার্ষিক নিরাপত্তা সম্মেলন ‘মানামা ডায়ালগে’ গারগাশ বলেন, “আমরা সত্যিই চাই না, এই অঞ্চলে আবারও সংঘাতের আরেকটি পর্ব শুরু হোক।”
সম্মেলনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কর্মকর্তারা এবং বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি শিগগিরই আবার খুলে দেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে—এমন একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে ইরানি আলোচকেরা কাতারে অবস্থান করছেন। তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না। ইরানের প্রশ্নগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ওপরই অগ্রগতি নির্ভর করছে।
নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, তেহরান আশা করছে, ওয়াশিংটন অন্য বিকল্পের পরিবর্তে কূটনীতিকে বেছে নেবে। তিনি আরও বলেন, ইরান আত্মরক্ষা এবং কূটনৈতিক আলোচনার—উভয় ক্ষেত্রেই প্রস্তুত রয়েছে।
নিরাপত্তা ফোরামে প্রাধান্য পেল উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা
বাহরাইনের রাজধানীতে তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনের আলোচনায় প্রাধান্য পেয়েছে নতুন করে সংঘাত শুরুর আশঙ্কা।
গারগাশ বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক সমাধানের চেষ্টা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে, দ্রুত সংকট থেকে বেরিয়ে আসার কোনো পথ তৈরি করবে না।
তিনি স্বীকার করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে। এই মতপার্থক্য দূর করা সম্ভব না হলে গুরুতর পরিণতি হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি বলেন, আরেকটি যুদ্ধ ইরানের স্বার্থ কিংবা বৃহত্তর অঞ্চলের স্বার্থ—কোনোটিরই অনুকূলে যাবে না।
এর আগের দিন একই ফোরামে মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন করে উত্তেজনা বাড়লে তা আরও বিপজ্জনক ও ধ্বংসাত্মক হবে এবং কোনো সুফল বয়ে আনবে না।
অন্যদিকে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুললতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি বলেন, উত্তেজনা প্রশমন, নতুন করে সংঘাত বৃদ্ধি রোধ এবং সংলাপের সুযোগ তৈরির সব প্রচেষ্টাকে তার দেশ স্বাগত জানায়।
গারগাশ আরও বলেন, ইউএই এবং এই অঞ্চলের অন্য দেশ নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফোরামের আলোচনায় উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয় সদস্যদেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার ও ওমানের মধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অভাবের বিষয়টিও উঠে আসে।