তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকেই কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমিক নেতারা। সেই সঙ্গে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে দ্রুত ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে মজুরি নির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। প্রয়োজনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে রাতভর বৈঠক করারও পরামর্শও দিয়েছেন শ্রমিক নেতারা।
আজ সোমবার সকালে শ্রমভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি ও শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ খবর জানিয়েছে।
বাবুল আক্তার বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছিল। সে হিসাবে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে তিন বছর পূর্ণ হবে। তাই এবার যে মজুরিই নির্ধারণ করা হোক না কেন, তা যেন ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে শ্রমিকেরা হাতে পান, সেটি তারা চান।
এই শ্রমিক নেতা আরও বলেন, “মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিলম্ব চাই না। আগের মতো ১৫ দিন পরপর বৈঠক কিংবা কোনো প্রতিনিধি দেশে থাকবেন কি থাকবেন না, এসব অজুহাতে আলোচনা পিছিয়ে দেওয়া যাবে না। একটি বৈঠকের পর পরবর্তী বৈঠকের জন্য এক বা দুই দিন বিরতি দিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। প্রয়োজনে সারারাত বৈঠক করেও দ্রুত মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।”
মজুরি বোর্ড গঠন প্রসঙ্গে বাবুল আক্তার বলেন, “আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠনের কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক দেরিতে বোর্ড গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকদের আন্দোলন দমাতে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা ও সাধারণ শ্রমিকদের নির্বিচারে গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেওয়া হচ্ছে।”
গ্রেপ্তার শ্রমিকদের দ্রুত মুক্তি এবং তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি।
শ্রমিকদের উদ্দেশে বাবুল আক্তার বলেন, সবাইকে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। কোনো ধরনের ঘোষণা ছাড়া আন্দোলন-সংগ্রামে না জড়ানোর জন্য শ্রমিকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।