
২০২২ সালের মার্চে দুই পক্ষের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথি বিদ্রোহীদের এটিই প্রথম প্রকাশ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি। ওই যুদ্ধবিরতি হয়েছিল সৌদি জ্বালানি স্থাপনায় হুথিদের হামলার পর।

হরমুজ প্রণালিতে ওমানের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে চালানো ইরানি হামলায় ভারতের এক ক্রু সদস্য নিহত এবং আরো আটজন আহত হয়েছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন যেভাবে অবিশ্বাস্য রকম উদার ও লোভনীয় শান্তির শর্ত দিচ্ছেন, তা যুদ্ধ-পরবর্তী এই নতুন কূটনৈতিক বোঝাপড়া বা চুক্তিকে আরও বেশি উদ্বেগজনক করে তুলেছে। আর এটিই উপসাগরীয় অঞ্চলের শাসকদের সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত করছে।

ইরানের জব্দ করা কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থ ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের হামলার মুখে পড়ার পর আবুধাবি এই কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে এমন খবর অস্বীকার করেছে দেশটির প্রশাসন।

আলী বাকির এই ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে দেখিয়েছেন যে, নেতানিয়াহুর পক্ষ থেকে এমন গোপন সফর ফাঁসের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০২০ সালের শেষের দিকে তিনি সৌদি আরবের নেওম শহরে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সাথে তার একটি গোপন বৈঠকের খবর একইভাবে ফাঁস করে দিয়েছিলেন।

হজের সময় ফের ইরানে যুদ্ধ শুরু না করতে উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদেশসহ নিজ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্কতার পর ইরানে পরিকল্পিত হামলা পিছিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার তিনি ইরানে নতুন করে বড় হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলোর অনুরোধে তিনি হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।

আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ড্রোন আঘাতের পর জেনারেটরটিতে আগুন ধরে গেলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্ল্যান্টের পারমাণবিক বিকিরণ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি হয়নি।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালীন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় বুধবার তার কার্যালয় এই ‘গোপন’ সফরের দাবি করে। তবে এই সফরের দাবি অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

সেই যুদ্ধ থেকে রিয়াদ এই শিক্ষা পেয়েছে যে, আমেরিকা অজেয় নয়। তারা বুঝেছে, ওয়াশিংটন বা জেরুজালেমের ইচ্ছেমতো এই অঞ্চল যেকোনো সময় যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে, যার চরম মূল্য দিতে হবে প্রতিবেশী দেশগুলোকেই।

ইরানের ভূখণ্ড থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে কোনো হামলার ছিল না বলে দাবি করেছে ইরান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম-ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়েছে।

ইউএই-র ওপেক ত্যাগ একটি বড় বার্তা বহন করে। এটি শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়। এটি একটি নতুন কৌশল। এখানে জ্বালানি নীতি, রাজনীতি ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা একসঙ্গে কাজ করছে। আবুধাবি ও রিয়াদ এখন শুধু মিত্র নয়, প্রতিদ্বন্দ্বীও। আর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক বড় বড় সিদ্ধান্ত আসছে। তাতে খাদের কিনারায় আরও একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। কিন্তু প্রতিটা পদক্ষেপেই লাভ হচ্ছে একটি দেশের, চীন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধেও তাদের লাভ, যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেলেও তাদের লাভ। এবার চীন হয়তো বিশ্ববাজারে আরও বড় লাফ দিচ্ছে। আর এ লাফেই তারা আমেরিকাকে দেখাতে

ওপেক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকস্মিক বিদায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। তেলের উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তুষ্টি এবং সৌদি আরবের সাথে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কণ্ঠস্বর জোরালভাবে তুলে ধরতেও আগ্রহী। যেহেতু গ্লোবাল সাউথের অনেক দেশই একসময় পশ্চিমা শক্তিগুলোর উপনিবেশ ছিল, তাই তারা ঔপনিবেশিক আমলের সেই ক্ষতি বা অন্যায়ের বিচার চায়, যা তাদের মতে বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাতেও বিদ্যমান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওপেক-এর বিরুদ্ধে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে ‘বাকি বিশ্বকে ঠকানোর’ অভিযোগ তুলেছেন।

ইরান যুদ্ধ তাই শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়–এটি বৈশ্বিক আর্থিক শৃঙ্খলার একটি পরীক্ষা। হরমুজে ইউয়ান, আমিরাতের হুমকি, ইরানের ক্রিপ্টোকারেন্সিতে টোল আদায়–এই সবকিছু মিলিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হচ্ছে: মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, সেই ভিত্তিটাই এই যুদ্ধে কাঁপছে।

একদিকে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, হুতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলিরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে, হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করা হচ্ছে– আর অন্যদিকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো নিজেদের উন্নয়নযজ্ঞে মত্ত।

প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর আজ সকালে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে।

দুবাইয়ে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের একটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।