সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ শনিবারের হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছে। এ ঘটনার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কেউ স্বীকার করেনি। তবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার হওয়ার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
চলতি সপ্তাহে এর আগে আরও দুবার হামলার শিকার হয়েছিল বিমানবন্দরটি। ওই হামলায় চারজন নিহত হয়। হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত সৌদি আরবের আত্মরক্ষার সক্ষমতার দুর্বলতাও এসব ঘটনায় সামনে এসেছে। শনিবারের ঘটনার আগে সৌদি আরবের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় কোনো সংকেত দেওয়া হয়নি।
সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব দেয়নি।
শনিবার বিমানবন্দরে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি একটি বিস্ফোরণ দেখেছেন। এরপর ভেতরে মাটিতে বেশ কয়েকজনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্সকে বিমানবন্দরের দিকে ছুটে যেতে দেখা যায়।
আহত এক যাত্রী রয়টার্সকে বলেন, বিমানবন্দরের বাইরে আকাশের ওপর দিয়ে কোনো একটি বস্তু উড়ে যেতে দেখার পর প্রস্থান গেটের কাছে ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে।
হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি ‘বিবেচনা করবে’ যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প
হামলার পর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, হুতিদের ওপর সৌদি আরবের হামলায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে কি না।
জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যোগ দিতে পারি। বিষয়টি আমরা বিবেচনা করব। সাম্প্রতিক হামলার খবর আমরা মাত্রই পেয়েছি, তাই আমরা সিদ্ধান্ত নেব। আমরা খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিই।”
রিয়াদে নিয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জানিয়েছে, তারা হামলার বিষয়ে অবগত রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব নাগরিককে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
সৌদি আরবে নিয়োজিত যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের দূতাবাসও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বিমানবন্দরে একটি ‘গুরুতর ঘটনা’ সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়েছে। কানাডার দূতাবাস বলেছে, ‘চলমান সামরিক তৎপরতার’ কারণে বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
ফ্লাইট বাতিল
বিমান চলাচলের তথ্য সরবরাহকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদগামী সব ফ্লাইটের গন্তব্য পরিবর্তন করা হয়েছে অথবা সেগুলো বাতিল করা হয়েছে। একপর্যায়ে বিমানবন্দরের ওপর দিয়ে কেবল একটি হেলিকপ্টার উড়তে দেখা যায়।
কুয়েত এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, রিয়াদের ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির’ কারণে বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় সৌদি রাজধানীতে যাওয়া ও সেখান থেকে আসার সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এর আগে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ ও কাতার এয়ারওয়েজও তাদের নিজ নিজ কেন্দ্রীয় বিমানবন্দর থেকে রিয়াদগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করে। এর মধ্যে কিছু ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত সোমবার পর্যন্ত গড়িয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার এবং চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে হুতিদের হামলার কারণে বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা সৌদি রাজধানীতে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত বা বাতিল করে।
চলতি মাসের শুরুতে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর গোষ্ঠীটি সৌদি আকাশসীমাকে সামরিক অভিযানের এলাকা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদি আকাশসীমা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে হুতিরা।