রাশিয়ায় থাকা জার্মানির গ্যেটে ইনস্টিটিউটের সব সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধ করে দেবে বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে লাইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে একটি ড্রোন হামলার ঘটনায় জার্মানি মস্কোকে দায়ী করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে জার্মানি বার্লিনে একটি রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং বন শহরে একটি রুশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ গতকাল বুধবার বলেন, জার্মানির বার্লিনে রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্তের পর রাশিয়া মস্কো, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও ইয়েকাতেরিনবার্গে গ্যেটে ইনস্টিটিউটের কেন্দ্রগুলো বন্ধ করবে।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইউক্রেন-সংক্রান্ত নানা জটিলতা থাকা সত্ত্বেও গ্যেটে ইনস্টিটিউটের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো এতদিন খোলা ছিল।”
ক্রেমলিন আজ বৃহস্পতিবার বলেছে, বন শহরের রুশ কনস্যুলেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে জার্মানি অসঙ্গত ও অযৌক্তিক অবস্থান নিয়েছে।
বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোনকে ঘিরে গত মাসের ওই ঘটনা থেকেই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের সূত্রপাত হয়। ঘটনাটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর ভাষ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের মিত্রদের অস্থিতিশীল করতে রাশিয়ার চালানো নাশকতা অভিযানের আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে।
জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট ওই ‘হাইব্রিড হামলার’ জন্য রাশিয়াকে দায়ী করেন। ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় লাইপজিগ-হালে বিমানবন্দরে একটি ইউক্রেনীয় কার্গো বিমানের কাছে ড্রোনটি পাওয়া যায় এবং পরে সেটিকে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন অভিযোগ করেন, মস্কোকে ড্রোন হামলার ঘটনায় দায়ী করতেই জার্মানি ওই প্রমাণ সাজিয়েছে।
ইইউর প্রতিক্রিয়া
আয়ারল্যান্ডে ইইউভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস বলেন, “এটি রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের সব বৈশিষ্ট্য বহন করছে–এ বিষয়ে স্পষ্টতা রয়েছে।” তার প্রশ্ন, “এ নিয়ে আমরা কী করব?”
কালাস জানান, ইইউ রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং সদস্য দেশগুলোও একই পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, “এ ধরনের গুরুতর কর্মকাণ্ড আমরা শাস্তিহীন থাকতে দেব না।” তিনি জানান, প্যারিসে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকেও তলব করা হয়েছে।
সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর ১৯৯২ সালে মস্কোতে প্রথম গ্যেটে ইনস্টিটিউট চালু হয়। ব্রিটেনের সঙ্গে কূটনৈতিক বিরোধের পর ২০১৮ সালে রাশিয়া ব্রিটিশ কাউন্সিল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল।