দক্ষিণ লেবাননের একটি পাহাড়ি এলাকায় ইসরায়েল সামরিক অভিযান চালালে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইরান।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ওই এলাকায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে ইরানের সামরিক সদস্যরাও অবস্থান করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত তিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন।
গত মাসে পাঠানো ওই বার্তায় দক্ষিণ লেবাননের স্থলযুদ্ধে ইরানের অব্যাহত সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং সেখানে ইসরায়েলি হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। আঞ্চলিক যুদ্ধ সপ্তম মাসে প্রবেশ করার সময় এই সতর্কবার্তা দেওয়া হলো।
লেবাননের নিরাপত্তা সূত্রগুলোর মতে, দক্ষিণ-পূর্ব লেবাননের আলি আল-তাহের পাহাড়ি এলাকায় হিজবুল্লাহ একটি ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলেছে বলে ধারণা করা হয়।
ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের সবচেয়ে বিতর্কিত ও সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে এই পাহাড়ি এলাকা।
হিজবুল্লাহ বিবৃতিতে জানিয়েছে, পাহাড়টি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে ইসরায়েলি বাহিনীর যেকোনো অগ্রযাত্রার বিরুদ্ধে তারা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সংগঠনটির কর্মকর্তারা সেখানে একটি ‘স্থাপনা’ থাকার কথা বলেছে, তবে এর বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আলি আল-তাহেরের দক্ষিণে বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে রেখেছে এবং প্রকাশ্য বিবৃতিতে পাহাড়টিকে তাদের ‘প্রধান সামরিক কার্যক্রমের কেন্দ্রগুলোর’ একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো বার্তায় তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, আলি আল-তাহেরে ইসরায়েল পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান চালালে ইরান বড় ধরনের হামলা চালিয়ে তার জবাব দেবে। ওই অঞ্চলের তিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে এ কথা জানিয়েছেন।
আলি আল-তাহেরে ইরানের বাহিনী উপস্থিত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে হিজবুল্লাহ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ওই বার্তা সম্পর্কে এবং আলি আল-তাহেরে হামলা না চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর চাপ দিয়েছিল কি না—রয়টার্সের এসব প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, “এটি সঠিক নয়।”
ইরানের জেনেভাভিত্তিক স্থায়ী মিশন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
এদিকে হিজবুল্লাহ বলেছে, আলি আল-তাহেরে বড় ধরনের হামলা হলে তার অর্থ হবে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ আবার শুরু হওয়া। এর ফলে উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন জনবসতিতে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানতে পারে বলেও তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।