হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক হলেও এর বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দেশের চামড়া শিল্প ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শিল্পটিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে আনতে ট্যানারি খাতে সংস্কার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের অগ্রগতি: চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও সংস্কার’ শীর্ষক নীতি সংলাপে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে স্থানান্তরের পর শিল্পটির ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নে নানা দুর্বলতা দেখা দেয়। এর ফলে সম্ভাবনাময় এ শিল্পটি প্রত্যাশিতভাবে এগোতে পারেনি। এখন এসব সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি শিল্পটির ভবিষ্যৎ বিকাশে সমন্বিত সংস্কার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।”
চামড়া শিল্পের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে সাভারের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের দুর্বলতার কথা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সাভারে নতুন একটি বিশ্বমানের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে থাকা বর্জ্য শোধনাগারটি সংস্কারের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বড় ট্যানারিগুলোকে নিজস্ব বর্জ্য শোধনাগার স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।
চামড়া শিল্পের আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে পরিবেশ ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় কঠোর মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে ট্যানারি শিল্পে শতভাগ পরিবেশগত ও উৎপাদনগত মান নিশ্চিত করতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের চামড়ার গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
দেশে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “জুতা, ব্যাগসহ বিভিন্ন চামড়াজাত পণ্য দেশে উৎপাদন করে রপ্তানি বাড়ানোর মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ লেদার’ নামে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। এতে কাঁচা চামড়া রপ্তানির পরিবর্তে দেশে মূল্য সংযোজন বাড়বে এবং রপ্তানি আয়ও বাড়ানো সম্ভব হবে।”
চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপের বাজারে বাণিজ্য সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্পেন ও ইতালির বড় চামড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
দক্ষ জনবল ও পণ্যের নকশা উন্নয়নের ঘাটতি পূরণে ২০২৭ সালের মধ্যে সাভারে চামড়া ও অন্যান্য শিল্পের জন্য দক্ষতা ও নকশা উন্নয়ন কেন্দ্র চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, এর মাধ্যমে শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের নকশা ও মান উন্নয়নে সহায়তা দেওয়া হবে।