মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। আন্দোলন ও বিক্ষোভের মুখে আজ সোমবার এই তথ্য জানান তিনি।
আরিফ হোসেন খান বলেন, “চেয়ারম্যানকে সরানোর এই আন্দোলন প্রমাণ করে, খুরশীদ আলমকে নিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত সঠিক। ব্যাংকটিকে রাজনীতি মুক্ত করতেই এই পদক্ষেপ। তাকে সরানোর কোনো পরিকল্পনা নাই।”
জানা যায়, সশরীরে ব্যাংকে আসার পরিবর্তে আজ অনলাইনে বোর্ড মিটিং করবেন ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম।
এর আগে খুরশীদ আলমের পদত্যাগের দাবিতে আজ রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজধানীর দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা। নতুন চেয়ারম্যানের ব্যাংকে প্রথম যোগদানের কথা থাকলেও গ্রাহক ও ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের তীব্র আন্দোলনের মুখে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়।
আন্দোলনরত গ্রাহকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও জলকামান ব্যবহার করলে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। এতে বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যে বেলা ১২টার দিকে ইসলামী ব্যাংকের সচেতন নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে খুরশীদ আলমের অবিলম্বে অপসারণ ও পদত্যাগসহ ৫ দফা দাবি ঘোষণা করেন ফোরামের নেতারা। ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকটিকে লুটপাটের হাত থেকে রক্ষা করতেই তাদের এই কর্মসূচী বলেও দাবি করেন তারা।
গ্রাহক ফোরামের পাঁচ দাবি—
ক. খুরশীদ আলমের অবিলম্বে অপসারণ ও পদত্যাগ
খ. ব্যাংকের আগের সফল ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও চেয়ারম্যান ওমর ফারুককে সসম্মানে পুনর্বহাল
গ. ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতির দায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের অনতিবিলম্বে পদত্যাগ
ঘ. বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের সমস্ত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ সরকারের হেফাজতে নিয়ে জব্দ করা
ঙ. ব্যাংকে থাকা এস আলমের সমস্ত জব্দকৃত শেয়ার বাজারমূল্যে বিক্রি করে তার নেওয়া বেনামী ও খেলাপি ঋণ দ্রুত সমন্বয় করা