ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বুধবার কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলাকে ইউক্রেনের জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য আরেকটি শীতকালীন অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সের্হি কোরেৎস্কি টেলিগ্রামে বলেন, “রাশিয়া জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক হামলা আরও বাড়িয়েছে।” তিনি জানান, অন্য অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনাও হামলার শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, “গ্রীষ্মকাল থেকে আমাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা ছাড়া প্রায় কোনো দিনই যায়নি। তবে গত শীতের তাপ সরবরাহ মৌসুম শেষ হওয়ার পর এত বড় পরিসরে সমন্বিত হামলা আর হয়নি।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত শীতে পুরো শহরগুলো দিনের পর দিন বা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও তাপহীন অন্ধকারে ডুবে থাকার পর এবারও বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহের স্থাপনাগুলোতে রুশ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউক্রেন।
কোরেৎস্কি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রস্তুতি যাচাই করার এবং যত দ্রুত সম্ভব সেগুলো স্থাপন ও সংযোগের কাজ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
হামলায় নিহত পাঁচ
প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাতভর চালানো হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো। হামলায় প্রায় ১৯০টি ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনজুড়ে হামলায় এক শিশুসহ পাঁচজন নিহত হয়েছে।
বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিটিইকে কিয়েভের জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত জানায়নি। তবে তারা বলেছে, কর্মীরা ৮ হাজার পরিবারের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করেছে।
রাশিয়াও রাতভর চালানো ব্যাপক হামলার কথা স্বীকার করেছে। তারা বলেছে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে সহায়তা করা রাজধানীর একটি ডেটা সেন্টার, কিয়েভ অঞ্চলের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র, ওদেসা অঞ্চলের একটি শিল্প কমপ্লেক্স এবং ইজমাইলের বন্দর অবকাঠামোয় হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে দেশটির জন্য সমস্যা তৈরি করা জেট ড্রোনের প্রায় অবিরাম কয়েক সপ্তাহের হামলার পর এসব হামলা চালানো হলো।
জেলেনস্কি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতিতেও ভুগছে ইউক্রেন। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটি নতুন কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা প্যাকেজ পেয়েছে।
সহায়তা দেওয়ার জন্য মিত্রদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি শীতের আগে আরও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার আহ্বান জানান।
পশ্চিমা দূতাবাসে হামলার ধ্বংসাবশেষ
বুধবার সকালে হামলার ধোঁয়ায় কিয়েভ ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। জরুরি সেবা বিভাগ বাসিন্দাদের জানালা বন্ধ রাখার আহ্বান জানায়।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিৎসকো প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, শহরের কেন্দ্রে একটি পশ্চিমা দেশের দূতাবাসে হামলার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে কোন দেশের দূতাবাস, তা তিনি জানাননি।
ইউক্রেনের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে একটি ড্রোন মলদোভার আকাশসীমায় ঢুকে পূর্বাঞ্চলীয় হিরবোভারেট গ্রামের কাছে বিস্ফোরিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্য রোমানিয়া ও পোল্যান্ডও সামরিক যুদ্ধবিমান আকাশে পাঠিয়েছে বলে দেশ দুটি জানিয়েছে।
পোল্যান্ডের লুবলিন ও রেজেসজভ বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
ইউক্রেনও রাশিয়ার ওপর হামলা বাড়িয়েছে। মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করার লক্ষ্যে দেশটি তেল শোধনাগার ও অনলাইন খুচরা বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাচ্ছে।
ইউক্রেনের সীমান্তবর্তী রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলে ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছে। আর তেল উৎপাদনকারী সামারা অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় কয়েকটি ব্যক্তিগত বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আঞ্চলিক গভর্নররা জানিয়েছেন।