ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় যাতায়াতকারী দুটি বিমানবন্দরসহ দেশটির সাতটি বিমানবন্দর আজ সোমবারও বন্ধ ছিল। মাউন্ট আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাইয়ের কারণে এসব বিমানবন্দর বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি যাত্রী ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির পরিবহনমন্ত্রী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি অবস্থিত আনাক ক্রাকাতোয়া গত শুক্রবার গভীর রাতে অগ্ন্যুৎপাতের পর থেকে জাকার্তা ও আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা ছাইয়ে ঢেকে গেছে। নিরাপত্তার কারণে বিমানবন্দরগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরিবহন মন্ত্রণালয় আজ সোমবার জানিয়েছে, ২ হাজার ৩০০টি ফ্লাইট বিলম্ব, গতিপথ পরিবর্তন অথবা বাতিল হওয়ায় ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আরও ছয়টি বিমানবন্দরও বন্ধ রয়েছে। তবে দক্ষিণ সুমাত্রার আরও একটি বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হয়েছে।
পরিবহনমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধী সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, “আবহাওয়ার পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হওয়ায় এটি কখন শেষ হবে, তা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।”
সোমবার জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দর সুকর্ণ-হাত্তায় যাত্রীদের ব্যস্তভাবে ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। জাকার্তার পাশের শহরে অবস্থিত বিমানবন্দরটির তথ্যফলকে নিজেদের ফ্লাইটের অবস্থা জানতে অনেককেই মরিয়া হয়ে খোঁজ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ বেঞ্চে ঘুমাচ্ছিলেন।
ড্রোন থেকে তোলা ছবিতে ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরি থেকে ছাই উদ্গিরণ হতে দেখা যাচ্ছে। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি প্রশমন কেন্দ্র/রয়টার্স
২৪ বছর বয়সী কার্লোস সাবালা ছুটি কাটানোর পর নিজের দেশ স্পেনে ফিরছিলেন। কিন্তু তার ফ্লাইট বারবার বিলম্বিত হচ্ছে জানতে পেরে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না দেওয়ার জন্য তিনি বিমান পরিচালনাকারীদের দায়ী করেন।
তিনি বলেন, “আমাদের শুধু অপেক্ষা করতে হচ্ছে, অপেক্ষা আর অপেক্ষা।”
লাল আকাশ
রাতে আনাক ক্রাকাতোয়া থেকে অগ্ন্যুৎপাতের সময় লাভার আলোয় আকাশ লাল হয়ে ওঠে। রয়টার্সের ছবিতে দেখা গেছে, বাসিন্দারা নিজেদের ঘরের ধুলোময় মেঝে এবং কাছের একটি মসজিদের ছাইয়ে কালো হয়ে যাওয়া দেয়াল পরিষ্কার করছেন।
আনাক ক্রাকাতোয়া থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ার পর ছাই জাকার্তা ও এর আশপাশের এলাকার আকাশে ছড়িয়ে পড়ে। ছবি: ইন্দোনেশিয়ার জিওলজিক্যাল এজেন্সি/রয়টার্স
ইন্দোনেশিয়ায় সক্রিয় আগ্নেয়গিরির সংখ্যা প্রায় ১৩০টি। দেশটি ভূমিকম্পপ্রবণ “প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার”-এর ওপর অবস্থিত। পৃথিবীর ভূত্বকের বিভিন্ন প্লেট যেখানে মিলিত হয়েছে, সেই অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
আনাক ক্রাকাতোয়ার অর্থ “ক্রাকাতোয়ার সন্তান”। প্রায় এক শতাব্দী আগে ক্রাকাতোয়া বা তৎকালীন ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির জায়গায় এটি জেগে উঠতে শুরু করে। ১৮৮৩ সালে ব্যাপক অগ্ন্যুৎপাতে পুরোনো আগ্নেয়গিরিটি ধ্বংস হয়ে যায়। ওই ঘটনায় ধারাবাহিক সুনামি সৃষ্টি হয়ে ৩৬ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়।
২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতোয়ার অগ্ন্যুৎপাতের পর সৃষ্ট সুনামিতে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়।
আগ্নেয়গিরি পর্যবেক্ষণ সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আনাক ক্রাকাতোয়ার সর্বশেষ অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে রোববার রাত ৮টা ২৩ মিনিটে।
সংস্থাটি সোমবার সতর্ক করে বলেছে, “আগামী সময়গুলোতে আরও অগ্ন্যুৎপাতের সম্ভাবনা এখনো বেশি।”
আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে আগ্নেয় ছাইয়ের স্তম্ভ জাভার দিকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ফুট (৬ হাজার মিটার) এবং সুমাত্রার দিকে ও জাভার বানতেন প্রদেশের কিছু এলাকায় ৫০ হাজার ফুট (১৫ হাজার মিটার) পর্যন্ত উঠে গেছে।
রোববার দুর্যোগ মোকাবিলা সংস্থা বাইরে চলাচলের সময় মানুষকে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে ছাই শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ না করে।