জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সব ধরনের নির্বাচনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য গণমাধ্যমকর্মীদের অনলাইনে সাংবাদিক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই প্রক্রিয়াটি নিখুঁত ও নিরাপদ করতে নির্বাচন কাভার করা সাংবাদিকদের সংগঠন ‘রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ (আরএফইডি)-সহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে একটি নতুন সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার নির্বাচন ভবনে অংশীজনদের সঙ্গে আয়োজিত বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘‘আমরা একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। তাদের প্রস্তাবনার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’
বৈঠকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘‘নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুলাংশে নির্ভর করে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর। অতীতে বহু অপেশাদার ও দলীয় কর্মী সাংবাদিক কার্ড বাগিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের অনিয়ম রোধে একটি স্পষ্ট ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন ছিল। কমিশনের এই উদ্যোগে যেন প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরাই অগ্রাধিকার পান, আমরা সেই অনুরোধ জানিয়েছি।”
ইসি সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত বৈঠকে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক কাজী জেসিন, ইসির অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলম, আরএফইডি সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল এবং সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে কোনো ধরনের পূর্বপরীক্ষা বা ট্রায়াল ছাড়াই তড়িঘড়ি করে অনলাইনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইসি। কিন্তু সে সময় ব্যবহৃত ওয়েবসাইটে নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে আবেদনকারী প্রায় ১৪ হাজার সাংবাদিকের ব্যক্তিগত তথ্য উন্মুক্ত হয়ে পড়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হলে কমিশন শেষ পর্যন্ত সেই অনলাইন প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়। পূর্বের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ডেটা সুরক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কোনো রকম ঝুঁকি না রেখে গণমাধ্যমকর্মীদের মতামত ও কারিগরি দিক বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর একটি সফটওয়্যার চালুর পথে এগোচ্ছে কমিশন।