জার্মানির পূর্বাঞ্চলে স্যাক্সনি-আনহল্ট রাজ্যের নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) প্রথম স্থানে উঠে আসার পর আজ সোমবার চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস দলটির সঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এই ফল তার দলকে “একেবারে ভিত্তিমূল পর্যন্ত” নাড়িয়ে দিয়েছে।
এএফডি মের্ৎসের রক্ষণশীল দলের আইনপ্রণেতাদের কাছে পূর্বাঞ্চলীয় এই রাজ্যে সরকার গঠনের প্রচেষ্টায় সমর্থন চাচ্ছে। এটি সফল হলে যুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানিতে প্রথমবারের মতো কোনো উগ্র ডানপন্থী দল রাজ্য পর্যায়ে ক্ষমতায় আসবে।
সরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, অভিবাসনবিরোধী ও রাশিয়াপন্থী এএফডি প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এই ফল মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোটের অজনপ্রিয়তার চিত্র তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে জার্মানির প্রতিবেশী ফ্রান্স ও পোল্যান্ডেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
তবে অভিবাসীদের বহিষ্কার, ইউক্রেনকে সমর্থন বন্ধ এবং ইউরো ত্যাগের পক্ষে থাকা দলটি রাজ্য আইনসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ৮৩টি আসনের মধ্যে তারা পেয়েছে ৩৯টি। এখন তারা স্বতন্ত্র রক্ষণশীল আইনপ্রণেতাদের নিজেদের পক্ষে আনার চেষ্টা করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এই নির্বাচনের ফল জার্মানির মূলধারার দলগুলোর দীর্ঘদিনের নীতিকে গুরুতর প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। এর মধ্যে মের্ৎসের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটস (সিডিইউ)ও রয়েছে। দলগুলো এএফডির সঙ্গে কাজ না করার যে নীতি অনুসরণ করে আসছে। এটি ‘ফায়ারওয়াল’ নামে পরিচিত। এএফডি বলছে, এই নীতি গণতান্ত্রিক নয়।
জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম এআরডিকে এএফডির জাতীয় পর্যায়ের সহ-নেতা টিনো ক্রুপালা বলেন, “রাজনীতির অর্থই হলো সমঝোতা।” স্যাক্সনি-আনহল্টে “মধ্য-ডানপন্থী রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা” প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দিতে তিনি সিডিইউর আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, এই “বিপর্যয়কর নির্বাচনী ফল” থেকে কী শিক্ষা নেওয়া উচিত, সিডিইউকে তা নিজেদেরই ভাবতে হবে।
জার্মান রেডিওকে ‘ফায়ারওয়াল’ নীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলীয় রাজনীতির খেলা সত্যিই অতীতের বিষয় হওয়া উচিত।”
রাজ্যটিতে এএফডির প্রধান প্রার্থী উলরিখ সিগমুন্ড বলেন, আইনসভায় এএফডি স্থিতিশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতা গড়ে তুলতে পারলে তিনি স্যাক্সনি-আনহল্টের রাজ্য সরকারের প্রধান হওয়ার আশা করছেন। এ জন্য বিভিন্ন সংসদীয় দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।
‘ভোটারদের প্রতি অপমান’
এএফডির সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে জার্মানির একমাত্র জনতুষ্টিবাদী বামপন্থী বিএসডব্লিউ। সোমবার দলটি ‘ফায়ারওয়াল’ নীতির সমালোচনায় ক্রুপালার সঙ্গে সুর মিলিয়েছে।
বিএসডব্লিউর মুখপাত্র সাহরা ভাগেনকনেখট বলেন, “স্যাক্সনি-আনহল্টে এএফডিকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে অন্য মূলধারার দলগুলো যদি আরেকটি ‘ফায়ারওয়াল’ জোট গঠনের সামান্যতম চেষ্টাও করে, সেটি হবে ভোটারদের প্রতি অপমান।”
জার্মানির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এএফডিকে “উগ্রপন্থী” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর ফলে দেশের সবচেয়ে বড় বিরোধী দলের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছে সংস্থাগুলো। এএফডি এই তকমা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
স্যাক্সনি-আনহল্ট তুলনামূলকভাবে ছোট একটি রাজ্য এবং সাবেক কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির অন্যতম দরিদ্র অঞ্চল। তবে এএফডির জাতীয় পর্যায়ের অপর সহ-নেতা অ্যালিস ভাইডেল রোববারের ফলাফলকে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ২০২৯ সালে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে তার দল অন্তত ৪০ শতাংশ ভোট পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
‘খুবই, খুবই উদ্বেগজনক সংকেত’
নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ায় ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেস্ক্যুর আরটিএল রেডিওকে বলেন, এটি “খুবই, খুবই উদ্বেগজনক সংকেত”।
তিনি বলেন, “এটি দেখাচ্ছে যে বর্তমানে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া জনতুষ্টিবাদী ঢেউয়ের মুখে আমরা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন এবং আমাদের অবশ্যই এর প্রতিরোধ করতে হবে।”
ফ্রান্সে আগামী বছর জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিক মেরিন লা পেন প্রেসিডেন্ট হতে পারেন।
পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কিও রোববার স্যাক্সনি-আনহল্টের ফলকে “খুবই উদ্বেগজনক সংকেত” বলে বর্ণনা করেছেন।