Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

‘নিরাপদ’ সবজিতেও কি ন্যায্য দাম মিলছে?

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৫৭
‘নিরাপদ’ সবজিতেও কি ন্যায্য দাম মিলছে?
করলা খেতে এক চাষী। ছবি: ইউএনবি

নীল রঙের নেটের বেড়া দিয়ে ঘেরা মাঠ, যাতে অবাঞ্ছিত পোকামাকড় ঢুকতে না পারে। ভেতরে বাঁশের কাঠামোয় লতানো সবুজ লতা, আর সেখান থেকে ঝুলছে তাজা করলার থোকা।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এক নজরে মনে হয় সাধারণ সবজির খেত। কিন্তু এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য আছে—কোনো রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে না।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

কুমারখালী উপজেলার ঢালনগর গ্রামে দুই কৃষক প্রথমবারের মতো গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস (জিএপি) পদ্ধতিতে রাসায়নিকমুক্ত করলা চাষ শুরু করেছেন। ফসল ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজার তেমন দাম পাচ্ছেন না।

কৃষক দবির উদ্দিন ফরাজী ও আব্দুল বারী তিন বিঘা জমিতে ‘আলিসা’ জাতের করলা চাষ করেছেন। মাত্র ১০ দিনেই তারা প্রায় ২ হাজার ২০০ কেজি করলা বিক্রি করেছেন ৬৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকায়। পাইকারি দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত ছিল।

আবহাওয়া অনুকূল থাকলে আগামী দেড় মাসে আরও চার হাজার কেজি বা তার বেশি ফসল তোলার আশা করছেন তারা। এতে সম্ভাব্য আয় হতে পারে আড়াই লাখ টাকার বেশি। তবুও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর সবজি উৎপাদন করেও ন্যায্য দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে কৃষকরা।

দবির উদ্দিন বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে বলেন, “জিএপি পদ্ধতিতে চাষে খরচ বেশি হয়। নেট, ফাঁদ ও জৈব সার কিনতে হয়। ফলন ভালো হয়, সবজিও স্বাস্থ্যকর। কিন্তু ক্রেতারা রাসায়নিকমুক্ত সবজির জন্য অতিরিক্ত দাম দিতে রাজি নন।”

কুষ্টিয়া শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে ঢালনগরের খেতে গেলে কৃষকের অতিরিক্ত পরিশ্রমের চিত্র স্পষ্ট হয়। পুরো জমি নীল নেট দিয়ে ঘেরা। পোকা নিয়ন্ত্রণে ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব কীটনাশক ব্যবহার করা হয়েছে। মাটিতে জৈব সার দেওয়া হয়েছে।

একজন কৃষক গাছের যত্ন নিচ্ছেন, আরেকজন সাবধানে করলা তুলছেন। দবির জানান, তিন বিঘা জমিতে জমি প্রস্তুত, বীজ, উপকরণ ও চাষাবাদে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

ইতিমধ্যে প্রায় ২ হাজার ২০০ কেজি করলা বিক্রি করে ৬৫-৭০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আরও ৪ হাজার ৪০০ কেজি উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। তারা স্বপ্ন দেখেন একদিন রাসায়নিকমুক্ত করলা কুষ্টিয়া ও ঢাকার বড় বাজারে পাঠাবেন, যেখানে সঠিক লেবেলিংয়ের মাধ্যমে ক্রেতারা চিনতে পারবেন এবং কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন।

আব্দুল বারী বলেন, “আমরা চাই বাজারে রাসায়নিকমুক্ত সবজির জন্য আলাদা জায়গা থাকুক। তাহলে ক্রেতারা জানতে পারবেন কী কিনছেন, আর আমরাও ন্যায্য দাম পাব।”

কৃষকরা বলছেন, এখন লোকসান হচ্ছে না। তবে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ও শ্রমের তুলনায় লাভ অনেক কম।

গত বছর এ সময় করলার দাম ছিল কেজি প্রতি ৭০-৮০ টাকা। এবার পাইকারি দাম নেমে এসেছে ৩৫-৫৫ টাকায়।

আধুনিক পদ্ধতিতে ঝুঁকছেন কৃষকরা

এই প্রবণতা শুধু দুই কৃষকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কুমারখালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় প্রায় ৫২ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে তিন বিঘা জমিতে জিএপি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে।

প্রত্যাশিত উৎপাদন প্রায় ৫০০ টন, যার বাজারমূল্য দেড় কোটি টাকার বেশি। কৃষকরা উৎপাদন বাড়াতে আধুনিক ও মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।

ঢালনগরে কৃষক উজ্জ্বল চৌধুরী প্রায় পাঁচ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ফসল চাষ করেন। গত বছর আট শতক জমিতে করলা চাষ করে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ করে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন।

লাভে উৎসাহিত হয়ে এ বছর ১০ শতক জমিতে চাষ বাড়িয়েছেন। গত এক সপ্তাহে প্রায় ৯০ কেজি বিক্রি করেছেন। তিনি বলেন, “ন্যায্য দাম পেলে আগামী বছর আরও বেশি জমিতে করলা চাষ করব।”

ছবি: ইউএনবি
ছবি: ইউএনবি

আরেক কৃষক মোহন শেখ গত বছর এক বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে করলা চাষ করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন।

এ বছর একই পরিমাণ জমিতে আগাম চাষ করেছেন এবং খরচ হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ টাকার করলা বিক্রি করেছেন। তিনি আগামী বছর মালচিংয়ের সঙ্গে রাসায়নিকমুক্ত চাষ করতে চান, যদি কৃষি প্রণোদনা পান।

জিএপি কী?

গুড অ্যাগ্রিকালচারাল প্র্যাকটিসেস বা জিএপি হলো পরিবেশবান্ধব ও অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক চাষাবাদ পদ্ধতি। এর লক্ষ্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য উৎপাদন করা, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা করা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা।

এই পদ্ধতিতে কৃষকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়ানোরও চেষ্টা করা হয়।

অন্যদিকে মালচিং হলো গাছের চারপাশের মাটি খড়, পাতা, কচুরিপানা বা প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে ঢেকে রাখা।

এতে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা, আগাছা দমন, মাটির তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ক্ষয় রোধ এবং মাটির অবস্থা উন্নত করা যায়। যদুবয়রা ইউনিয়নের জটমোড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মাজেদ ২০ শতক জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে ‘নাবিলা’ ও ‘আলিসা’ জাতের করলা চাষ করেছেন।

তিনি জানান, চারা রোপণের মাত্র ৪০ দিন পরই ফল ধরতে শুরু করে। প্রতি বিঘায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে প্রায় ৫৫-৬০ মণ করলা উৎপাদন সম্ভব। তবে এখানেও বাজারদর কমে যাওয়ায় লাভ সীমিত হয়েছে।

বাজারই দুর্বল লিঙ্ক

পান্টি তাহাবাজারে গেলে সমস্যা আরও স্পষ্ট হয়। পাইকাররা বলছেন, দাম তীব্রভাবে কমেছে। বাজারের পাইকার মিল্টন হোসেন জানান, প্রায় ২০ দিন আগে করলার দাম ছিল কেজি প্রতি ৫৫-৬০ টাকা।

এখন পাইকারি দাম নেমে এসেছে ৩০-৩৫ টাকায়।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজারে রাসায়নিকমুক্ত সবজির জন্য আলাদা কোনো স্থান নেই। ফলে যারা বেশি বিনিয়োগ করে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করেন, তারা ক্রেতাদের কাছে সেই পার্থক্য তুলে ধরতে বা সেই অনুযায়ী দাম নিতে পারেন না।

উপজেলা কৃষি অফিসের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিল্টু হোসেন বলেন, এ মৌসুমে তিন বিঘা জমিতে জিএপি পদ্ধতিতে করলা চাষ হয়েছে। বাকি জমিতে মালচিং ব্যবহার করা হয়েছে। ঢালনগরেই প্রায় ২১ বিঘা জমিতে করলা চাষ হয়েছে। কারণ কৃষকরা দেখেছেন, অপেক্ষাকৃত কম সময়ে এ পদ্ধতিতে বেশি আয় সম্ভব।

তিনি বলেন, “আলাদা বাজার কোণ চালু হলে কৃষকরা রাসায়নিকমুক্ত সবজি চাষে আরও উৎসাহিত হবেন।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, এ বছর কুমারখালীতে প্রায় ৫২ হেক্টর জমিতে করলা চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্য ৫০০ টন এবং আনুমানিক বাজারমূল্য দেড় কোটি টাকার বেশি। তিনি বলেন, “জিএপি পদ্ধতিতে উৎপাদিত সবজি ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ। আমরা কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।” তবে শুধু উৎপাদনই যথেষ্ট নয় বলে তিনি স্বীকার করেন।

মনির হোসেন বলেন, “এসব সবজির জন্য আলাদা বিপণন ব্যবস্থা দরকার। আমরা উপজেলা পর্যায়ে রাসায়নিকমুক্ত সবজির আলাদা বাজার স্থাপনের প্রস্তাব উচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে দেব।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, ‘‘উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছালে স্থানীয় বাজারে রাসায়নিকমুক্ত সবজির আলাদা জায়গা চালু করা যেতে পারে।’’

বিষয়: সবজি
সর্বশেষ
  • ১

    ভ্যান গঘের গ্রামে ডালিয়া ফুলের শোভাযাত্রা

  • ২

    রাজশাহীতে সার সংকট, বিঘাপ্রতি মিলছে ৫ কেজি

  • ৩

    পেট্রোবাংলার নতুন চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান

  • ৪

    ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বসছে কিউআর কোড-ডিজিটাল ট্র‌্যাকিং সিস্টেম

  • ৫

    পরিবার ভেবেছিল মৃত, শেষে ১০ দিন পর নারীকে জীবিত উদ্ধার

সম্পর্কিত
  • বিশেষ তহবিলে কি বাড়বে চিংড়ি রপ্তানি?

    বিশেষ তহবিলে কি বাড়বে চিংড়ি রপ্তানি?

    একসময় বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাত হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি শিল্প এখন গভীর সংকটে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই খাতকে গতিশীল করতে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল ঘোষণা করেছে। তবে চিংড়ি রপ্তানিকারক ও প্রক্রিয়াকারকরা আশঙ্কা করছেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, উচ্চ সুদের হার এবং কঠোর শর্তের কারণে এই উদ্য

  • ইউরোপের দেশগুলো কেন আমেরিকা থেকে স্বর্ণ সরিয়ে নিচ্ছে?

    ইউরোপের দেশগুলো কেন আমেরিকা থেকে স্বর্ণ সরিয়ে নিচ্ছে?

    নেদারল্যান্ডস এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় থাকা তাদের স্বর্ণের রিজার্ভ থেকে কয়েক শ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণ সরিয়ে নিয়েছে। নেদারল্যান্ডসের এই পদক্ষেপ স্বাভাবিকভাবেই অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ডাচরা এমন সিদ্ধান্ত কেন নিয়েছে? সামনের দিনগুলোতে কি কোনো বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা আসবে?

  • নারীর উপার্জন কি পরিবারে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে?

    নারীর উপার্জন কি পরিবারে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিচ্ছে?

    এক দশক আগেও সৌদি আরবে নারীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট কাজ ছাড়া অন্য কোনো চাকরি করার অনুমতি ছিল না। এরপর সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টো শাসক, ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বেশিরভাগ বিধিনিষেধের অবসান ঘটান, তিনি সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতিও দেন।

  • নীতিমালা করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হবে?

    নীতিমালা করে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হবে?

    রাজধানীর সড়কে এখন অন্যতম ‘সংকট’ ব্যাটারিচালিতঅটোরিকশা। রিকশাচালক, পথচারী ও গাড়ির চালকদের বচসা থেকে হাতাহাতি নিত্য চিত্র। এ চিত্র ঢাকার বাইরেও দেখা যায় প্রতিনিয়ত। আর দুর্ঘটনা তো লেগেই আছে। অটোরিকশা চালু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময়ে এর নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, লাইসেন্সের আওতায় আনতে