নেপালের ভয়াবহ বন্যায় প্রবীণ নারী চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা মারা গেছেন, এমনটা ধরে নিয়ে পরিবার তার মৃত্যুতে শোকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। কিন্তু ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বেত্রাওয়াতি গ্রামের ধসে পড়া বাড়ির ভেতর থেকে তাকে জীবিত উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। পানি ও কাদার মধ্যে বাতাসের একটি সরু জায়গায় টিকে ছিলেন তিনি।
পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল বলেন, “চারতলা বাড়িটি বন্যার পানিতে ভেসে যায় এবং বাড়িটি দ্রুত সরে যাওয়া বালুকাদার মধ্যে পড়ে থাকে। আমরা সেটির আশপাশে ঘোরার সময় ‘বাঁচাও’ বলে একটি কণ্ঠ শুনতে পাই।”
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
গত শনিবার ৪৫ মিনিট ধরে চালানো উদ্ধার অভিযানে দারনাল ও তার দল শ্রেষ্ঠাকে একটি সংকীর্ণ জায়গায় খুঁজে পান এবং তাকে সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দারনাল বলেন, “আমি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলাম এবং তারা ১১ দিনের শোক পালন শুরু করেছিল।”
বন্যায় নেপালের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি বেত্রাওয়াতিতে নিখোঁজ শত শত মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠাও ছিলেন। এলাকাটি প্রায় কংক্রিটের মতো শক্ত হয়ে যাওয়া সাদা পলির স্তরে ঢেকে গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলো এখনো বহু মৃতদেহ উদ্ধার করছে।
জীবিত উদ্ধার চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে সহায়তা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ছবি: রয়টার্স
উপত্যকার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল স্রোতের রেখে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের নিচে শহরের বাজার এবং বেশির ভাগ আবাসিক ভবন প্রায় পুরোপুরি চাপা পড়ে গেছে। ভবনগুলোর কোনো কোনোটি চারতলা পর্যন্ত উঁচু। নেপালজুড়ে এই দুর্যোগে ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এখনো হাজার হাজার মানুষের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
মাথায় হেলমেট পরা উদ্ধারকর্মীদের কোদাল দিয়ে খনন করতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ধসে পড়া ভবনের ফাঁক দিয়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঢুকছিলেন এবং আটকে থাকা জীবিত কারও দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মাঝেমধ্যে বাঁশি বাজাচ্ছিলেন।
দারনাল বলেন, এর পাঁচ দিন আগে বেত্রাওয়াতির বাজার এলাকায় একটি ভবন থেকে পচন ধরা অবস্থায় ২৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ভবনটিতে একটি ছোট দোকান ছিল।
জীবনের কোনো চিহ্নের সন্ধানে
হিমবাহ ধসে ভয়াবহ বন্যা শুরু হওয়ার ১১ দিন পরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।
শত শত মৃতদেহ বিধ্বস্ত রাসুয়া জেলা থেকে অনেক দূরে নদীর তীরে ভেসে এসেছে। কয়েক শ মাইল দূরের চিতওয়ানে পরিচয়হীন ও মারাত্মকভাবে পচে যাওয়া মৃতদেহের জন্য কয়েক দফায় গণকবর দেওয়া হয়েছে।
আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে এলেও নেপালের কর্তৃপক্ষ সুড়ঙ্গের ভেতর এবং ভবনের ওপর জমে শক্ত হয়ে যাওয়া পুরু কাদার স্তরের নিচে আটকে থাকা মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
উদ্ধারকারীরা গত শুক্রবার থেকে তিনজনকে সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তাদের মধ্যে একজন চীনা নাগরিকও রয়েছেন। ত্রিশুলি নদীর কাছে এসব সুড়ঙ্গে আরও ৯০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শ্রেষ্ঠার মতো আরও কয়েকজন অসাধারণ পরিস্থিতির মধ্যেও বেঁচে গেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে আট বছর বয়সী এক বালক, যে গাছে উঠে বন্যা থেকে বেঁচে ছিল এবং পরে মায়ের সঙ্গে তার পুনর্মিলন ঘটে।