ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের মতো না করতে নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেছেন, “ওই ধরনের নির্বাচন হলে তার পরিণতির কথা কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
আজ রোববার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
গোলাম পারওয়ার বলেন, “সরকারকে, ইলেকশন কমিশনকে বলব, এই নির্বাচনটাকে মাগুরার নির্বাচনে রূপান্তরিত করবেন না। করবেন না, করবেন না। এটা কিন্তু অ্যালার্মিং—সরকারের জন্য, নির্বাচন কমিশনের জন্য, দেশবাসীর জন্য।”
আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির মনোনীত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সাল আমিন।
নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের পর নয়টি অভিযোগ ও তিনটি দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যায় জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল। দলটির অভিযোগ, নির্বাচনে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছেন না, আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে এবং ভোটারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
বৈঠকের বিষয়ে মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, “অভিযোগের পক্ষে ছবি, আহত ব্যক্তিদের ছবি এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে কমিশনের বক্তব্যে তারা আশ্বস্ত হতে পারেননি; বরং কিছুটা হতাশ হয়েছেন।”
গোলাম পারওয়ার বলেন, “আমরা দাবি করে যাচ্ছি, নির্বাচন নিরপেক্ষ হলে আমরা নির্বাচনে অংশ নেব। আমরা এখনো নির্বাচন থেকে উঠে যাইনি। আমরা নির্বাচন করার জন্যই এখানে এসেছি। আমাদের প্রার্থী মাঠে আছে।”
এ ছাড়া জামায়াত নির্বাচন কমিশনে তিনটি দাবি পেশ করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, তাদের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা।
এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ও তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে দলটি।