মানব পাচারকারীদের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার পথে নির্যাতনের শিকার হয়ে লাটভিয়ায় মারা যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিক সোহেল রানার মরদেহ আজ রোববার দেশে ফিরেছে।
৪৫ বছর বয়সী সোহেল রানার মরদেহ বেলা ৩টার দিকে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামে তার বাড়িতে পৌঁছায়। তিনি আবুল হাশেমের ছেলে। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম শুরু হয়। শেষবারের মতো তাকে দেখতে শত শত গ্রামবাসী বাড়িতে ভিড় করে।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সোহেলের শ্বশুর আলফাজ উদ্দিন জানান, ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে একটি মানবপাচারকারী চক্র তাকে অমানবিক নির্যাতন করে। পরে ৭ অক্টোবর লাটভিয়া-বেলারুশ সীমান্তের কাছের একটি জঙ্গল থেকে তাকে উদ্ধার করে লাটভিয়ার পুলিশ।
আলফাজ উদ্দিন বলেন, লাটভিয়ার লাতগালে অঞ্চলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সোহেলের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও জানান, ১২ অক্টোবর পোল্যান্ডের পুলিশের পাঠানো একটি খুদে বার্তার মাধ্যমে পরিবারকে সোহেলের মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী জেসমিন সুলতানা ১৭ অক্টোবর আদালতে নয়জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেন।
পরে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করতে ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
সোহেলের বাবা আবুল হাশেম বলেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তার ছেলের মরদেহ ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়েছে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক নীলু জানান, বিকেলে রামচন্দ্রপুর স্কুল মাঠে সোহেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা মানবপাচার চক্রের সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী।