ইরান যুদ্ধ গুরুত্বপূর্ণ এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমার সামনে একটি বড় সিদ্ধান্ত আসছে। আমি কি তাদের (ইরানি শাসনব্যবস্থা) পুরোপুরি ধ্বংস করে দেব, নাকি দেব না? এটি একটি বড় সিদ্ধান্ত। যেকোনো কিছুই ঘটতে পারে।”
গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ফের বড় ধরনের হামলা শুরু করবেন কি না, সে বিষয়ে তাকে শিগগিরই বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এ নিয়ে ষষ্ঠবারের মতো ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দিলেন ট্রাম্প। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
গত ২১ মার্চ ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা দেন ট্রাম্প। তা না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়ে সেগুলো ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করার হুমকি দেন। তিনি বলেছিলেন, সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র দিয়ে হামলা শুরু হবে।
এরপর ১ এপ্রিল টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরান কোনো সমঝোতায় না এলে দেশটিকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের বিদ্যুৎব্যবস্থায় আরও হামলার হুমকি দেন।
৪ দিন পর ট্রাম্প আবারও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সময়সীমা দেন। তিনি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়ে বলেন, ইরানকে ‘নরকের মুখোমুখি’ হতে হবে।
দুদিন পর ৬ এপ্রিল ট্রাম্প বলেন, “এক রাতেই পুরো দেশকে ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব।” তিনি এমন একটি পরিকল্পনার কথাও বলেন, যাতে ইরানের প্রতিটি সেতু ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ এবং প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘জ্বলতে ও বিস্ফোরিত হতে’ থাকবে।
৭ এপ্রিল ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, তেহরান তার দাবি মেনে না নিলে “পুরো একটি সভ্যতা আজ রাতে ধ্বংস হয়ে যাবে, যা আর কখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।”
সবশেষ গতকাল ট্রাম্প আবারও ইরান সরকারকে ধ্বংস করার বিষয়ে কথা বলেন। এর আগে ট্রাম্প একই ধরনের হুমকি দিলেও এবার তার মন্তব্যটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন আগামী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ছয়টি উপসাগরীয় দেশের নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। দেশগুলো হলো–সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমান।