জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০ অটোরিকশা থাকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার মধ্যে এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তবে শফিকুল ইসলামের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যকে ‘দায়িত্বহীন’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
গত ৫ অক্টোবর মিয়া গোলাম পরওয়ার রিকশা চালকদের দাবি মেনে নিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন তিনি বলেন, “অটোরিকশা চালকদের যে দাবি, আমি মনে করি- সরকারের এ সমস্ত দাবি মেনে নেওয়া উচিত।” এর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পরে যে জামায়াতের সেক্রেটারি ৭০০ রিকশা আছে।
আজ শুক্রবার ওই তথ্য ধরে বক্তব্য দেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলকে ইঙ্গিত করে তিনি দাবি করেন, অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে সাফাই গাওয়া সেই নেতারই ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, “একটা বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক, তিনি বললেন, ‘অটোরিকশাওয়ালাদের যেই দাবি, সেটা সরকারকে মানা উচিত’।…এটা একটা হাস্যকর একটা বক্তব্য। পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই নেতার নাকি ৭০০টা অটোরিকশা আছে। আমরা মনে করি জনগণের কাছে খোলস বদলিয়ে বারবার পার পাওয়া যাবে না।”
ডিএনসিসি প্রশাসকের ওই বক্তব্য নিয়ে জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম কর্তৃক একটি রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেলের ৭০০টি অটোরিকশা থাকার বিষয়ে প্রদত্ত বক্তব্য আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আজ শুক্রবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে তার এ বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। আমরা এ ধরনের কাল্পনিক, অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট তথ্য পরিবেশনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
জামায়াতের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে ডিএনসিসি প্রশাসকের কাছ থেকে জনগণ দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও শালীন বক্তব্য প্রত্যাশা করে। কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকে ইঙ্গিত করে তার ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করার আগে এর সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা অপরিহার্য। অথচ এ ধরনের বক্তব্যের পক্ষে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপন না করে মন্তব্য করা দায়িত্বশীল আচরণের পরিচায়ক নয়।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘‘অটোরিকশা চলাচল, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং চালকদের জীবিকা-সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো বাস্তবতা ও জনস্বার্থের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বা অবস্থানকে খণ্ডন করতে হলে যুক্তি, তথ্য ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা করা উচিত; কোনো নেতার বিরুদ্ধে প্রমাণহীন অভিযোগ তুলে নয়।”
জামায়াত ডিএনসিসি প্রশাসককে তার বক্তব্যের পক্ষে ‘সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ’ জনসমক্ষে উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে। না হলে বক্তব্য প্রত্যাহার করে জনসমক্ষে দুঃখ প্রকাশ করার দাবিও জানিয়েছে।