গত বছরের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিসিবির চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। সেই সময়ের বোর্ড তা গ্রহণ না করায় বিসিবির চুক্তি তার সঙ্গে বহাল ছিল। তবে নাটকীয়ভাবে এক বছর পর তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা। তবে একই সময়ে রয়েছে জোর গুঞ্জন উঠেছে যে, মূলত চুক্তি নবায়ন করা হয়নি আইসিসির এই এলিট প্যানেলের আম্পায়ারের। ফলে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। আসলেই কি পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন সৈকত?
ডিপিএলের একটি ম্যাচে মোহামেডানের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আম্পায়ার শরফুদ্দৌলার সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেন। এরপর তিনি সংবাদ সম্মেলনে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসেন দেশের ইতিহাসের প্রথম ও একমাত্র এলিট আম্পায়ারকে নিয়ে। তার প্রেক্ষিতে বিসিবির চুক্তি থেকে সরে আসার জন্য পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন আইসিসির এলিট প্যানেলের এই আম্পায়ার। তবে বিসিবি তা মেনে নেয়নি। এরপর তিনি ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অনেক ম্যাচেই দায়িত্ব পালন করায় মনে হচ্ছিল, বিষয়টির সুরাহা হয়ে গেছে।
তবে বিস্ময়করভাবে গত ১ এপ্রিল থেকে সৈকতের সেই পদত্যাগ কার্যকর করেছে বিসিবি। অর্থাৎ, বিসিবির চুক্তিবদ্ধ চাকরিতে আর নেই তিনি। সৈকত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চরচাকে। বিসিবির একটি সূত্রও জানিয়েছে একই কথা।
তবে বিসিবির আগের বোর্ডের আম্পায়ার্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান মিঠু বলছেন ভিন্ন কথা। চরচাকে তিনি বলেন, “আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, সৈকতের পদত্যাগপত্র এখন কেন আর কীভাবে গ্রহণ করা হলো। সৈকত আমাদের বলেছিল সে পদত্যাগ করতে চায়, আমরা রাজি হইনি। ফলে তার সঙ্গে বিসিবির চুক্তিটা ছিল। তারই আওতায় এরপর সৈকত ডিপিএল, বিপিএল, বাংলাদেশের ম্যাচে আম্পায়ারিং করেছে। এখন যেটা হয়েছে, ওর সঙ্গে বিসিবি নতুন করে চুক্তি করেনি। কারণ, আম্পায়ারদের চুক্তির একটা মেয়াদ থাকে, সেটা নবায়ন না করায় সৈকত চুক্তির বাইরে চলে গেছে। কোনো পদত্যাগপত্র তো ছিল না।”
সৈকতের প্রসঙ্গে কথা বলার জন্য বিসিবির সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আম্পায়ার্স বিভাগের একজন সদস্য বলেছেন, সৈকতকে বিসিবির চুক্তির বাইরে রাখার জন্য একটা পক্ষের চাপ ছিল আগে থেকেই। সমালোচনা এড়াতে তাই এক বছর আগের সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে বিসিবি।
পদত্যাগপত্র গ্রহণ বা চুক্তি নবায়ন বাতিল, যাই হোক না কেন, সৈকতের মতো একজন আম্পায়ারের এভাবে বিসিবির চাকরি হারানো ভালো খবর নয়। দেশের ইতিহাসের সেরা আম্পায়ার তো বটেই, সাবেক এই ক্রিকেটার এই মুহূর্তে বিশ্বের শীর্ষ আম্পায়ারদের একজন। আর তাকেই কিনা চুক্তিতে রাখার প্রয়োজন বোধ করল না বিসিবি!
আর সেটা আড়াল করতে গিয়ে বিরল ঘটনার জন্ম দিয়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এক বছর আগের পদত্যাগপত্র। অথচ সেটা বাতিল হওয়ার পর তিনি চুক্তিবদ্ধ থেকেই বিসিবির হয়ে কাজ করেছেন।
সৈকতের পদত্যাগ নিয়ে তাই ধোঁয়াশা থাকছেই।