পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আঞ্চলিক নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত বুধবার পর্যন্ত রাওয়ালকোটের আশপাশে সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছে বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
তবে ব্যাংকিং, সড়ক যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত থাকায় এই দাবির সত্যতা রয়টার্স স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আঞ্চলিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই অঞ্চলটি সহিংস হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হয় গত সোমবার। এতে পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পিএমএল-এন মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বার জেলার ১৩টি আসনের মধ্যে ৯টিতে জয় পায়।
নির্বাচনটি মূলত ২৭ জুলাই একদিনে হওয়ার কথা ছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন সেটিকে তিন ধাপে ভাগ করে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপের ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আজ ২ আগস্ট ও ১০ আগস্ট।
অন্যদিকে, ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী ইমরান খান প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে এবারের ভোট বয়কট করেছে।
কেন উত্তেজনা?
উত্তেজনার অন্যতম কারণ জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটিকে (জেএএসি) ঘিরে সরকারের অবস্থান।
জুন মাসে আঞ্চলিক সরকার সংগঠনটিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করে । এরপর থেকেই প্রাণঘাতী বিক্ষোভ শুরু হয় এবং পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবারের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
পাকিস্তান সরকার এই দমন অভিযানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, কাশ্মীরি বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সশস্ত্র ও ভারত-সমর্থিত জঙ্গিরাও যুক্ত ছিল। তবে ভারত অতীতের মতো এবারও এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
পাকিস্তানের হামলায় আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ধ্বংসপ্রাপ্ত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের দৃশ্য। ছবি: ইপিএ।
এদিকে, জেএএসি-র বিক্ষোভের বাইরে আলাদা ঘটনায় পাকিস্তানের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল পিএমএল-এন ও পিপিপির সমর্থকদের সংঘর্ষেও একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন সরকারি কর্মকর্তারা।
সংকটের পেছনের কারণ
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীর স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হলেও ইসলামাবাদের সঙ্গে সেখানকার রাজনৈতিক টানাপোড়েন বহুদিনের। সাম্প্রতিক সময়ে সেই উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের আওতা বাড়ানোর দাবিদাররা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্থানীয় রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অবহেলার অভিযোগ তুলছেন।
অর্থনৈতিক ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ রয়েছে। ২০২২ সালে এই অঞ্চলে উচ্চ বিদ্যুতের দামের প্রতিবাদে বড় ধরনের আন্দোলন হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের অঞ্চল থেকে পাকিস্তানের অন্য অংশে কম দামে জলবিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও স্থানীয় মানুষকে তুলনামূলক বেশি মূল্য দিতে হচ্ছে।
এই অসন্তোষকে সংগঠিত করতে ২০২৩ সালে গঠিত হয় জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। সংগঠনটি পরে নির্বাচনী সংস্কারের দাবিও সামনে আনে।
জেএএসির প্রধান অভিযোগগুলোর একটি হলো, স্থানীয় আইনসভার ৪৫টি সরাসরি নির্বাচিত আসনের মধ্যে ১২টি আসন ভারত-প্রশাসিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত।
কিন্তু এসব আসনে প্রায়ই এমন ব্যক্তিরা নির্বাচিত হন, যারা পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দা নন।
জেএএসির দাবি, ইসলামাবাদ এই সংরক্ষিত আসনগুলো ব্যবহার করে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে। তবে পাকিস্তান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।