পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সম্পূর্ণ অর্থায়ন কেন নিজস্ব খাত থেকে করা হচ্ছে, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এক গোলটেবিল আলোচনায়। আজ সোমবার বিকাল ৪টায় প্রেস ক্লাবে ‘দ্য পদ্মা ব্যারেজ: সম্ভাবনা এবং হুমকি’ শীর্ষক এই গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করে ইনস্টিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি প্রকল্পটির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “পদ্মা ব্যারেজে কাজ করার মাধ্যমে আমরা নদীসম্পর্কিত পাঁচটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি– নদীর সিস্টেমকে পুনর্জীবন, লবণাক্ততাকে অ্যাড্রেস করা, সাধু পানির অভাব মেটানো, পলি অপসারণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন।”
প্রকল্পটির কারণে কী কী সুবিধা পাবে মানুষ, তা জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ২৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ হবে। জনগণকে কেন্দ্র করে সাতটি টাউনশিপ হবে। সর্বোপরি ০.৫-১ শতাংশ অবদান রাখবে জিডিপিতে। এবং ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। ৪৬ দশমিক নয় লক্ষ হেক্টর জমিতে পানি সেচ বাস্তবায়ন হবে।”
তবে নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক জাবেদ হোসেন প্রকল্পের অর্থায়ন নিয়ে বলেন, “সরকার নিজ থেকে অর্থায়ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা কেন বাইরে থেকে কোনো স্বল্প সুদে ঋণ নিলাম না? আমরা এই টাকা তো অন্য খাতে ব্যবহার করতে পারতাম।”
অর্থায়ন নিয়ে এমন প্রশ্ন কেন আসছে, সে ব্যাখ্যায় জাবেদ হোসেন বলেন, “প্রশ্ন আসার কারণ, দ্যা স্কারসিটি অব ক্যাপিটাল। আমরা ব্যারেজ করছি একদিকে, অন্যদিকে ২০২৬ সালে গঙ্গা পানি বন্টন চুক্তি শেষ হবে। আমি মনে করি এখানে টাকা বিনিয়োগ করার আগে পানি চুক্তি, টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশন নিয়ে আলোচনা করা দরকার। যেন আমরা বিপদে না পড়ি।”
লেখক ও গবেষক সুবাইল বিন আলম প্রথমে ভারতের সঙ্গে পানি চুক্তি নবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। আর পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে আলোচনায় প্রথমে প্রশ্ন তুলেছেন এর অবস্থান নিয়ে, “লোকেশনটা নিয়েও আমাদের ভাবা দরকার। যদি পাংশা এলাকায় বাঁধ দেয়… এটা গড়াই থেকে দূরে। তাহলে প্রথম টার্গেট হচ্ছে গড়াইয়ে পানি দেওয়া। পাংশাতে লোকেশন রাখলে আমরা ঠিকমতো পানি দিতে পারব না।”
ব্যারেজের ডিজাইন পুরোনো জানিয়ে তিনি মন্ত্রণালয়ের ব্যারেজ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এরপর ব্যারেজের অর্থায়ন নিয়ে সুবাইল বিন আলম বলেন, “আমরা নিজেদের অর্থায়নে ৫০ হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট করছি। কিন্তু আমাদের নিজেদের টাকার জায়গায় সফ্ট লোন নিতে পারতাম। এতে করে এই ৫০ হাজার কোটি টাকা অন্য ন্যাশনাল ক্রাইসিসের জায়গায় ব্যবহার করতে পারতাম।”