লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষকের দাবিতে গতকাল রোববার থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।
আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।
পাটগ্রাম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তঘেরা দহগ্রাম ইউনিয়ন। দেশের উত্তরের আলোচিত এই জনপদে পৌঁছাতে পাড়ি দিতে হয় ঐতিহাসিক তিনবিঘা করিডর। ওই ইউনিয়নের একমাত্র মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দহগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। স্থানীয় শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টিকে ২০১৩ সালে সরকারিকরণ করা হয়। সরকারি বিধি অনুযায়ী, বিদ্যালয়টিতে বিষয়ভিত্তিক ২৫ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শুরুতে মাত্র সাত জন শিক্ষক সরকারিকরণের আওতায় আসেন। পরবর্তীতে একে একে ছয় জন শিক্ষক অবসরে চলে যাওয়ায় বর্তমানে শুধুমাত্র একজন সহকারী প্রধান শিক্ষক পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষক প্রতিদিন মাত্র পাঁচটি ক্লাস নিতে পারছেন। ফলে অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার মান নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
গতকাল রোববার থেকে এই পরিস্থিতির অবসান ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনে নেমেছে শিক্ষার্থীরা। তাদের একটাই দাবি, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
বিদ্যালয়ের একমাত্র সহকারী প্রধান শিক্ষক জানান, একাধিকবার শিক্ষক চাহিদাপত্র পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের চেষ্টা চলছে।